fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মর্মান্তিক, পণের টাকা না দেওয়ায় ঘুমন্ত অবস্থায় বধূকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে

মিল্টন পাল, মালদা: মোটরসাইকেল কেনার ৭০ হাজার টাকা না দেওয়ায় গৃহবধূকে ঘুমন্ত অবস্থায় কেরোসিন তেল ঢেলে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ স্বামী ও তার শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় গৃহবধূ মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার ইংরেজবাজার থানার নঘরিয়া নতুন টোলা গ্রামে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা। ঘটনায় ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূর নাম রুমালী বিবি(২৮)। স্বামী সাদিকুল শেখ পেশায় শ্রমিক। অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূর বাপের বাড়ি সদস্যরা জানান, গত পাঁচ বছর আগে তাদের সামাজিক নিয়মে বিয়ে হয়। তাদের দুই পুত্র সন্তানও রয়েছে। সাদিকুল শ্রমিকের কাজ করে যে পয়সা রোজগার করত সেই পয়সা নিয়ে মদ জুয়া খেলে উড়িয়ে দিতো। যার ফলে সংসার খরচ ঠাকমতো সে দিত না। এর ওপর শ্বশুরবাড়ি থেকে মোটরসাইকেল কেনার জন্য সম্প্রতি ৭০ হাজার টাকা দাবি করে। মেয়ের বাবা আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকার কারণে সেই টাকা দিতে পারছিল না। যার ফলে প্রায়ই রুমালিকে সেই টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দিচ্ছিল সাদিকুল ও তার পরিবারের সদস্যরা। এদিনও সেই টাকার জন্য রুমালি তার বাপের বাড়িতে যাই। এরপর সেই টাকা না নিয়ে রুমালি শ্বশুর বাড়িতে ফিরে আসে। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসা হয়। এরপর রুমালী ঘরে ঘুমাতে চলে যায়। গভীর রাতে রুমালীকে ঘুমন্ত অবস্থায় কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় সাদিকুল ও তার পরিবারের সদস্যরা।

রুমালীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসতেই অভিযুক্ত সাদিকুল ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় রুমালিকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা ইংরেজবাজার থানায় স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,অগ্নিদগ্ধ গৃহবধুর চিকিৎসা চলছে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের খোঁজ শুরু হয়েছৈ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ।

 

Related Articles

Back to top button
Close