fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সালিশী সভায় স্ত্রীকে জব্দ করতে প্রকাশ্যে নিজের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেললেন স্বামী

মিল্টন পাল,মালদা: স্বামী স্ত্রীর বচসার জেরে সালিশী সভায় স্ত্রীকে জব্দ করতে প্রকাশ্যে নিজের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেললেন স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার মালদার মানিকচক থানার নুরপুর গ্ৰামে। ঘটনায় রক্তাক্ত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় প্রতিবাদী ওই গৃহবধূ তাকে চক্রান্ত করে খুনের মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে বলে পাল্টা মানিকচক থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জখম ওই
যুবকের নাম খুরশেদ মোমিন (৩০)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তার চিকিৎসা চলছে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। পুলিশ জানিয়েছে, এক বছর আগে খুরশেদ মোমিনের সঙ্গে ওই গ্রামের মহিলা আসমিরা খাতুনের বিয়ে হয়েছিল। পেশায় দিনমজুর খুরশেদ মোমিন বিয়ের পর থেকে তার স্ত্রী আসমিরা খাতুনের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পিছনে স্বামীর সঙ্গে গ্রামেরই অন্য এক মহিলার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলেই অভিযোগ করেছেন আসমিরা খাতুন। এই পরকীয়া সম্পর্কের বিষয় নিয়ে ওই দম্পতির সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হয়।

এদের অশান্তি নিয়ে সোমবার দুপুরে গ্ৰামে সালিশি সভা ডাকা হয়। সালিশি সভাতেই স্বামীকে গালাগালি করতে শুরু করে স্ত্রী। স্ত্রীর গাল সহ্য করতে না পেরে সেখানেই ব্লেড দিয়ে নিজের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে। এরপরই সালিশি সভাতেই ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয় । রক্তাক্ত ওই যুবককে সালিশি সভায় উপস্থিত বাসিন্দারা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

খুরশেদ মোমিন জানান , তাকে সব সময় তার স্ত্রীর সন্দেহ করত। কারো সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল না। লোকসমাজে তাকে ছোট করার জন্যই এদিন সালিশি সভা ডাকা হয়েছিল। সেই স্ত্রী অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছিল। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্যই পুরুষাঙ্গ কেটে শাস্তি দিয়েছি।

অভিযোগকারী গৃহবধূ আসমিরা খাতুন জানান, তার প্রতি স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেরা বিয়ের পর থেকেই অত্যাচার চালাচ্ছে। এই ঘটনার পিছনে পরকীয়া সম্পর্কের বিষয় রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে গ্রামেরই এক মহিলার পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি ধরে ফেলার পর এই এদিন গ্রামবাসীদের বলেছিলাম। তারাই সালিশি সভা ডেকেছিল। আর সেখানেই আমাকে খুনের চক্রান্তে জড়ানোর জন্য এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে খুরশেদ মোমিন। আমি নির্দোষ। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতেই মানিকচক থানা স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি।

সালিশি সভায় উপস্থিত গ্রামবাসীরা বলেন, সভা চলাকালীন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হচ্ছিল। সেই সময় খুরশেদ মোমিন হঠাৎ করে জামার পকেট থেকে ধারালো ব্লেড বার করে। সকলের সামনে নিজের পুরুষাঙ্গ একাধিকবার আঘাত করে। রক্তে ভরে যায় গোটা শরীর। সালিশি সভা বন্ধ করেই ওই যুবককে উদ্ধারের পর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মানিকচক থানার পুলিশ জানিয়েছে, খুরশেদ মোমিনের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ থানায় জানিয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে এদিন সালিশী চলছিল। তার মধ্যেই বিচার চলাকালীন ওই যুবক নিজের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close