fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

গলায় ধারালো অস্ত্রের কোপ বসিয়ে বধূকে খুন, গ্রেফতার স্বামী

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: গলায় ধারালো আস্ত্রর কোপ মেরে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হল স্বামী। ধৃতের নাম শেখ ফরিদুল ওরফে ফরিদ । তার বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার কাঁটাপুকুর গ্রামে । রবিবার গভীর রাতে বাড়িতেই তিনি তাঁর স্ত্রী আশা বেগমের (৩২) গলায় ধারালো অস্ত্রের কোপ বসিয়ে দেন । ঘটনাস্থলেই বধূর মৃত্যু হয় ।নৃশংস এই খুনের ঘটনার কথা জানাজানি হতেই সোমবার সকাল থেকে কাঁটাপুকুর গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে ।খবর পেয়ে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়।

 

বধূর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানোর পাশাপাশি পুলিশ বাড়ি থেকে ফরিদুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় । খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ । বিকালে বধূর বাবার বাড়ির লোকজন ফরিদুলের বিরুদ্ধে খণ্ডঘোষ থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে । ফরিদুলের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করেছে বধূর বাবার বাড়ির সদস্যরা ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে , খণ্ডঘোষের সগড়াই পঞ্চায়েত এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম কাঁটাপুকুর ।এই গ্রামের বাসিন্দা বছর ৩৭ বয়সী ফরিদুল শেখ পেশায় সবজি ব্যবসায়ী ।  এলাকার বাসিন্দাদের কথায় জানা গিয়েছে, বছর ৮-৯ আগে বর্ধমানের দুবরাজহাট এলাকা নিবাসী এক তরুণীর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ফরিদুলের । বিয়ের পর থেকেই ফরিদুল ওই তরুণীর উপর নির্যাতন চালানো শুরু করে । অত্যাচার থেকে নিস্কৃতি পেতে বিয়ের ২-৪ মাসের মধ্যে ফরিদুলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ওই তরুণী । এর কিছুদিন পর বছর ৭ আগে তরুণী আশাকে বিয়ে করে ফরিদুল ।আশার বাবার বাড়ি বর্ধমানের গোদা এলাকায় । দম্পতির দুটি নাবালিকা কন্যা সন্তান রয়েছে ।

মৃতার জামাইবাবু শেখ ডালিম এদিন বলেন , আশার শ্বশুর শাশুড়ি অনেকদিন আগেই মারা গিয়েছেন । বাড়িতে অন্য কোন সমস্যা নেই । তবুও বিয়ের পর থেকেই আশার উপর নির্যাতন চালানো শুরু করে ফরিদুল । আশা পর পর দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় ফরিদুল তাকে সহ্য করতে পারতো না ।প্রতিবেশী পরিবারের কারুর সঙ্গে আশাকে কথা বলতে পর্যন্ত দিতনা ফরিদুল । তাঁকে সবসময়ে ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হত । এমনকি পাড়ার কোন মেয়ে বাড়িতে এলে আশার সঙ্গে তাদের কথা বলতে দেওয়া হত না । শেখ ডালিম বলেন , এইসব নিয়ে আশার সঙ্গে তাঁর স্বামীর অশান্তি লেগে থাকতো । রবিবার গভীর রাতে বাড়িতে দু‘জনের বচসা চলাকালীন ফরিদুল হঠাৎতই ধারালো অস্ত্রের কোপ বসিয়ে দেয় আশার গলায় । ঘটনাস্থলেই আশার মৃত্যু হয় । বধূর বাবার বাড়ির সদস্যরা ফরিদুলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি পুলিশের কাছে জানিয়েছে ।

Related Articles

Back to top button
Close