fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আমি কারও লোক না, জনগনের লোক: রাজ্যপাল

কৌশিক অধিকারীঃ বহরমপুর: আমি কারও লোক না, আমি সংবিধানের লোক। বহরমপুরে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যেকে তোপ দাগলেন রাজ্যের রাজ্যপাল। বুধবার মুর্শিদাবাদ জেলাতে ঝটিকা সফর করলেন রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর । দার্জিলিং থেকে হেলিকপ্টারে বহরমপুর ষ্টেডিয়ামে তিনি নামেন, পরে সড়ক পথেই ৫১পিঠের অন্যতম শক্তি পীঠ কিরীটেশ্বরী মন্দিরে পূজো দেন সস্ত্রীক রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। পরে সড়ক পথেই ঐতিহাসিক স্হান বলে পরিচিত নবাব নগরী হাজারদুয়ারী প্যালেস পরিদর্শন করেন এবং হাজারদুয়ারী ঘুরে দেখেন সস্ত্রীক রাজ্যপাল ।

বহরমপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যে সরকারকে একাধিক বিষয়ে তোপ দাগলেন। মুর্শিদাবাদ জেলাতে বসে জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোসারফ হোসেন সিকিউরিটি গার্ড তুলে নেওয়া প্রসঙ্গে রাজ্যে কে আক্রমণ করেন ধনকর। রাজ্যপাল  জানান, আজকে এই মুর্শিদাবাদ জেলা তে কিরীটেশ্বরী মন্দিরে দর্শন করে আর্শিবাদ নিয়েছি। রাজ্য জুড়ে ছট পূজো প্রস্তুতি চলছে, শক্তিপিঠে অন্যতম কিরীটেশ্বরী মন্দিরে পূজো দিয়ে রাজ্যের মানুষের জন্য সুখ ও শান্তি কামনা করেছি। আমি রাজ্যের মানুষের জন্য চিন্তিত। কেও আইন মানেন না এই রাজ্য, পশ্চিমবঙ্গ জনতার সেবা করি। আমি কাওরির লোক না। কিছু দিন আগেই মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন একটি অভিযোগ করেছিলেন, তার দুটো সিকিউরিটি ছিল, কিন্তু রাজ্য সরকার সেটা তুলে নেন। রাজ্যের সমস্ত মানুষ কে সুরক্ষা দেওয়া রাজ্যের কাজ। কিন্তু রাজনীতি থেকে সিকিউরিটি তুলে নেওয়া এটা প্রজাতন্ত্র ব্যবস্থা আঘাত করা। রাজ্যের এই হাল। রাজনৈতিক আচরন ঠিক হলে তার সিকিউরিটি দেওয়া হয় এবং আচরন খারাপ হলে তার সিকিউরিটি তুলে নেওয়া হয় বলে কটাক্ষ করেন জগদীপ ধনকর।

রানাঘাট বিজেপি সংসদ শহীদ জওয়ান বাড়িতে যান কিন্তু তাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি সেই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে বলেন, সাংসদ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হতে পারে, আমরা ভিডিও দেখে আতঙ্কে উঠছি। বড় বড় আধিকারিক সংসদ কে সম্মান করে, সংসদ একজন জনপ্রতিনিধি। কিন্তু তাদের সাথে যে কাজ হচ্ছে সেটা অন্যায়। সরকারী আধিকারিকদের আচরন রাজনৈতিক কারনে করা উচিত নয়। সরকারী আমলা জনতার জন্য থাকে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি থেকে রানাঘাট সংসদ উপর যা করা হচ্ছে তা অন্যায়। হাত জোড় করে বিনতী করে বলেন, অনেক সরকারী আধিকারিক কাজ করছেন কিন্তু অনেক সরকারী আধিকারিক কাজ করছেন না। কোন সরকারী কর্মী রাজনৈতিক কর্মী হবে না। আমি রাজ্যপাল হিসেবে চিহ্নিত। দেশের সুবিধা জন্য কাজ করছি, সাধারণ মানুষের জন্য আমি কাজ করে চলেছি। সারা দেশের কৃষকরা আজকে টাকা পাচ্ছেন, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের কোন কৃষক টাকা পাননি কেন্দ্রের টাকা। সরকারী কেন্দ্রের টাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টট টাকা ঢোকার কথা কিন্তু এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মধ্যমনি থেকে তা করতে দেইনি। অন্নদাতা মানুষের পেটে লাথি পড়ছে বলে কটাক্ষ করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর বিজনেস সাবমিট করা হয়, রাজ্যে সরকার বিধানসভা বাজেট অধিবেশনে ১২লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকা শিল্প হওয়ার কথা ঘোষণা করেন, কিন্তু তা আজ পর্যন্ত হল না। পশ্চিমবঙ্গে কোথায় শিল্প হবে তা জানতে চাওয়া হয়েছিল কিন্তু তার পরেও আজকে পর্যন্ত কোন জবাব পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: ২৩শে জানুয়ারি জাতীয় ছুটির ঘোষণার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

১৮ই অক্টোবর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে চিঠি দেওয়া হয়েছিল কিন্তু কোন কিছু জবাব দেওয়া হয়নি। বেশ কিছু জেলাতে পুলিশ সুপার কাছে নির্দেশ দেওয়া হয় যারা তৃণমূল করবে না তাদের কে কেস দিতে। আমি রাজ্যপাল তাই এটা আমি মেনে নিতে পারিনি। পশ্চিমবঙ্গে জনতার সেবা করার জন্য আমি আছি, আমি প্রথম সেবক হিসেবে কাজ করব বলে মন্তব্য করেন জগদীপ ধনকড়। রাজনীতি সাথে কোন লেনদেন নেই, কে জিতল কে হারল দেখব না। সাধারন মানুষ যেকোন দলকে ভোট দিতেই পারে। আমি কাওরির লোক না আমি জনতার লোক।

কোচবিহারে খুন প্রসঙ্গে ধনকর বলেন, ৫ই ডিসেম্বর রাজ্যের ডিজিপি কে চিঠি দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের অবস্থা খারাপ। তিনি চোখ বন্ধ করে আছেন, ২৬ সেপ্টেম্বর মধ্যে জবাব চেয়ে ছিলাম কিন্তু তিনি দেননি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজিব কুমার কে বাঁচানো জন্য ছিলেন, কিন্তু এখন ডিজিপি কে বাঁচানো জন্য আছেন। সরকারে কাছে আবেদন ছিল আইন কে রাজনৈতিক থেকে আলাদা করতে হবে। মনিষ শুক্লা থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক হত্যা, পুলিশ জনতার জন্য কাজ করবে। রাজনৈতিক দলের কথা না চলার পরামর্শ দেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় সাথে মুর্শিদাবাদ জেলার শাসক ও জেলা পুলিশ সুপার দেখা করেননি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

Related Articles

Back to top button
Close