fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

আমিই কংগ্রেসের পূর্ণ সময়ের সভাপতি’, দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ঘোষণা সোনিয়ার

নিজস্ব প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেস সভাপতি পদে নির্বাচন হচ্ছে না। যে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ নেতানেত্রীরা। যারা জি-২৩ গোষ্ঠী  নামে পরিচিত। এই পরিস্থিতিতে শনিবার কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে অন্তর্বর্তী সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ”আমিই কংগ্রেসের পূর্ণ সময়ের সভাপতি।” প্রায় নয় মাস পরে কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী বৈঠকে এই ঘোষণা করলেন সোনিয়া গান্ধী। জি-২৩ তথা কংগ্রেসের বিদ্রোহী নেতারা এই বৈঠকের দাবি জানিয়ে আসছিলেন বহুদিন ধরে। অবশেষে সেই বহু প্রতীক্ষিত বৈঠক শুরু হতেই সোনিয়া জানিয়ে দিলেন, কংগ্রেসে তিনিই পূর্ণ সময়ের জন্য সভাপতি। কয়েক দিন আগেই কপিল সিব্বল বলেছিলেন, কংগ্রেসে কোনও পূর্ণ সময়ের সভাপতি নেই। যে বিষয়টি একেবারেই ভালভাবে নেননি সোনিয়া। শুধু কপিল সিব্বল নন, কংগ্রেসের বিদ্রোহী নেতানেত্রীরা বহুদিন ধরেই নানা ইস্যুতে বিঁধে আসছেন গান্ধী পরিবারকে। ‌তাই মনে করা হচ্ছে, সেই খোঁচারই পাল্টা জবাব এভাবে দিলেন সোনিয়া গান্ধী। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে কংগ্রেস তথা কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে।

 

এদিকে দলের মধ্যে যাতে ঐক্য বজায় থাকে, সে ব্যাপারে এদিন মুখ খুলেছেন তিনি। বলা যেতে পারে এই প্রথম সোনিয়াকে দলের বৈঠকে ঐক্য নিয়ে মুখ খুলতে দেখা গেল। তিনি বলেন, ”সমগ্র সংগঠনই কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন চায়। কিন্তু এর জন্য দলগত ঐক্য থাকা প্রয়োজন। দলের প্রয়োজনীয়তাকেই সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, এর জন্য প্রয়োজন আত্মনিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা।” এরপরই তিনি সরাসরি কারও নাম না করে জি-২৩ নেতাদের উদ্দেশে বলেন, তাঁর সঙ্গে কথা বলতে হলে সংবাদমাধ্যমকে জড়ানোর প্রয়োজন নেই। সরাসরি তাঁকেই সব কিছু বলা যাবে।

এদিনের বৈঠকে আগামী বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও মুখ খুলতে দেখা যায় সোনিয়াকে। তাঁর কথায়, ”কিছুদিন আগে থেকেই আমাদের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে আমাদের। কিন্তু যদি আমাদের মধ্যে একতা থাকে, যদি আমরা শৃঙ্খলা মেনে চলি আর দলের প্রয়োজনকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই, তাহলে আমরা ভাল করবই। আর এ ব্যাপারে আমরা আত্নবিশ্বাসী।”

দিল্লির ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন জি-২৩ নেতারাও। উল্লেখ্য, কংগ্রেসের এই ২৩ জন নেতা গত বছর সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখে আর্জি জানিয়েছিলেন, দলে বড় পরিবর্তন আনা হোক। সেই সঙ্গে কাউকে পূর্ণ সময়ের জন্য সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করা হোক। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরে রাহুল গান্ধী দলের সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। এরপরই দলের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন সোনিয়া।

সোনিয়া গান্ধী এদিন যেভাবে কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ নেতা-নেত্রীদের বিশেষ বার্তা দিয়েছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।‌কংগ্রেসের অন্দরে বিক্ষোভ থাকলেও এখনও পর্যন্ত দলের নেতাকর্মী, সমর্থকদের কাছে যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীদের। মূলত সেই কারণেই কারও নাম না করে এদিন সোনিয়া দলের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close