fbpx
কলকাতাহেডলাইন

‘কেন্দ্রকে ট্যাক্স দিই আমি’, সিবিআই দফতরে দাবি গরু পাচার কাণ্ডে ধৃত এনামুলের

উঠে এল কয়লা মাফিয়া সঙ্গে যোগ সূত্র

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: গরু পাচার চক্রের সিন্ডিকেট এতদিন বেআইনি ব্যবসা বলেই জানতেন সিবিআই গোয়েন্দারা কিন্তু সোমবার সকালে সিবিআই দফতরে নিজাম প্যালেসে হাজিরা দিয়ে এই পাচার চক্রের অন্যতম কিংপিন এনামুল হক দাবি করলেন, তিনি রীতিমতো কেন্দ্রীয় সরকারের ট্যাক্স দিয়ে এই কাজ করেন এবং তার পাচারের কারবার মোটেই নিয়ম বহির্ভূত নয়। একই সঙ্গে তার সঙ্গে মুর্শিদাবাদের অন্যতম কয়লা মাফিয়া লালার যোগাযোগও খুঁজে পেয়েছেন সিবিআই গোয়েন্দারা।

দিল্লিতে সিবিআই গোয়েন্দাদের হাতে গ্রেফতারের পর শারীরিক অসুস্থতার বাহানা দেখিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়েছিল এনামুল হক। সেইমতো সোমবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ছিল এনামুলের জামিনের মেয়াদ। তার আগে তদন্তকারীদের সামনে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সোমবার বেলা ১০.৪৫ মিনিট নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআইয়ের দফতরের নীচে গাড়ি করে হাজির হন এনামুল। কিন্তু তারপরে শুরু হয় এক প্রস্থ নাটক।
নিচে দাঁড়িয়ে সিবিআইয়ের আধিকারিকদের তিনি ফোন করে জানান, তাঁর করোনা হয়েছে। তখন করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট দেখতে চান আধিকারিকরা। কিন্তু তা দেখাতে পারেননি অভিযুক্ত ব্যবসায়ী। এর পর তাঁকে দফতরে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেন গোয়েন্দারা। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও তা রিপোর্ট এখনো আসেনি।
 তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গরু পাচারচক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত, কোন কোন প্রভাবশালী এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত, তার হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। এই সংক্রান্ত বেশ কিছু নথিও হাতে এসেছে সিবিআই গোয়েন্দাদের। যদিও সিবিআই সূত্রে খবর, এদিনের জেরায় এনামুল জানিয়েছে, “আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন। কেন্দ্ৰকে ট্যাক্স দিই আমি।” এ প্রেক্ষিতে বেশকিছু নথিপত্র দিয়েছে সে। সেগুলি পরীক্ষা করে দেখছেন সিবিআই গোয়েন্দারা।
একইসঙ্গে বেশ কিছু তথ্যের ভিত্তিতে এবার গরু মাফিয়া এনামুলের সঙ্গে কয়লা মাফিয়া লালার সঙ্গে খোঁজ পেলেন সিবিআই গোয়েন্দারা। এনামুলের বাহিনীর মাধ্যমেই গরু পাচার চক্রের সঙ্গে উত্তরবঙ্গে কয়লা পাচার করত লালা, এমনটাই জানতে পেরেছেন সিবিআই গোয়েন্দারা।দিন কয়েক আগে বেনিয়াপুকুরে এনামুলের বাড়ি তল্লাশি চালানোর সময় কিছু তথ্য পেয়ে কলকাতায় শেক্সপিয়র সরণী-সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অনুপ মাঝির বাড়ি ও অফিসে হানা দেয় আয়কর দফতর। সেখান থেকে উদ্ধার হয় বহু কাগজপত্র। সেখানেই  অনুপ-এনামুলের সম্পর্কের হদিশ মিলেছে।
জানা গিয়েছে, ওই কয়লা পাচারের সঙ্গে জড়িত রাজ্যের কয়েকজন ব্যবসায়ী। পাচারের ডিল হত পার্ক সার্কাস, তোপসিয়া ও নিউটাউনের কয়েকটি আবাসনে। যদিও তদন্তের স্বার্থে এতদিন এই তথ্য প্রকাশ করেননি গোয়েন্দারা। বিএসএফ পুলিশ কয়লা মাফিয়ার পর আর কারা কারা এনামুলের সঙ্গে জড়িত আছে, আপাতত তার খোঁজ চালাচ্ছেন সিবিআই গোয়েন্দারা।

Related Articles

Back to top button
Close