fbpx
গুরুত্বপূর্ণব্লগহেডলাইন

হৃদয়ের নিঃশর্ত মুক্তি চাই….

তসলিমা নাসরিন:

বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ সদরের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে ধর্ম অবমাননার জন্য জেলে পাঠানো হয়েছে। তিনি কিছুদিন আগে দশম শ্রেণীর ছাত্রদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। ওই প্রশ্নগুলো, ধারণা করা হচ্ছে, ছিল ষড়যন্ত্রের পরিকল্পিত প্রশ্ন। উত্তরগুলো তিনি দিয়েছিলেন একজন বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষক হিসেবে তাঁর বিজ্ঞানশিক্ষালব্ধ জ্ঞান থেকে। হৃদয় মণ্ডল বাইশ বছর শিক্ষকতা করেছেন ওই স্কুলে। এত অভিজ্ঞ শিক্ষক বুঝতে পারেননি, তাঁকে বিপদে ফেলার জন্য ছাত্ররা ওই প্রশ্নগুলো করছে, তাঁর অনুমতি না নিয়ে গোপনে রেকর্ড করছে ছাত্র-শিক্ষকের কথোপকথন।

আমার মনে হয় বুঝতে পারলেও হৃদয় মণ্ডল ওই উত্তরগুলো দিতেন, কারণ তিনি চান ছাত্ররা বিজ্ঞান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করুক। যে জ্ঞান তিনি বিতরণ করেছিলেন সেদিন, তা কোনও জটিল জ্ঞান ছিল না, ছিল নিতান্তই সাধারণ জ্ঞান। ধর্মের সঙ্গে বিজ্ঞানের সম্পর্ক কী? শিক্ষকের উত্তর ছিল, কোনও সম্পর্ক নেই। ধর্ম বিশ্বাস-নির্ভর, বিজ্ঞান যুক্তি এবং প্রমাণ-নির্ভর। ছাত্ররা বললো, বিজ্ঞানের থিওরিগুলো নেওয়া হয়েছে ধর্ম থেকে অর্থাৎ কোরান থেকে। শিক্ষক অস্বীকার করলেন। ছাত্ররা বললো, মহানবী মুহম্মদ সাড়ে চার হাজার বছর আগে বিজ্ঞানের সকল থিওরি বলে গেছেন। শিক্ষক বললেন, মহানবীর জন্মই তো চৌদ্দশ বছর আগে। ছাত্রদের বক্তব্য কোরানই বিজ্ঞানের উৎস, শিক্ষকের বক্তব্য, কোরান যদি বিজ্ঞানের উৎস হয়, কোরান পড়ে মানুষ বিজ্ঞানী হচ্ছে না কেন? বিজ্ঞানীদের মধ্যে অধিকাংশই জন্ম নিচ্ছেন মূলত খ্রিস্টান দেশগুলোতে, সে দেশগুলোর লোক এখন খুব কমই ধর্ম মানছে। ছাত্ররা বারবারই বলছে, ধর্মের প্রমাণ আছে। শিক্ষক বারবারই বলছেন ধর্মের প্রমাণ নেই। শিক্ষক বলেছেন, হিন্দু ধর্ম বলে হনুমানের কানের ভেতর সূর্য থাকে, এর কিন্তু কোনও প্রমাণ নেই। ঈশ্বর সমাধান দেবেন, পরকালে বিচার হবে, এসব বিশ্বাসের বিষয়, কোন প্রমাণ নেই৷

এই ছাত্ররাই নারায়ে তকবির আল্লাহু আকবর বলে পরে মিছিল বের করে। বহিরাগত লোকও ছিল মিছিলে। স্কুলের ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা করেন। সেই মিস্ত্রি কি শুনেছেন শিক্ষক এবং ছাত্রদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছিল? না শোনেননি, কিন্তু তার নাকি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। ধর্ম অবমাননার মামলা সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনও আদালতের গ্রহণ করার আইন নেই, কিন্তু শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে করা মামলাটি আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে সরকারি অনুমতি ছাড়া গ্রহণ করা হয়েছে, এবং তাঁকে জেলহাজতে রাখা হয়েছে। প্রশ্ন এবং উত্তরের কথোপকথনটি অথবা আলোচনাটি সামাজিক মাধ্যমে প্রচার হওয়ায় মানুষ জানতে পেরেছে বিজ্ঞানের শিক্ষক বিজ্ঞানের জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন ছাত্রদের মধ্যে। তিনি ধর্ম অবমাননা করার উদ্দেশ্য নিয়ে একটি বাক্যও উচ্চারণ করেননি। তিনি যুক্তি-প্রমাণ এবং বিশ্বাসের পার্থক্য বুঝিয়েছেন অত্যন্ত ধৈর্যসহ। আমি যদি সেদিন শিক্ষকের জায়গায় হতাম, আমার ধৈর্যের বাধ ভাঙত ছাত্রদের মধ্য থেকে এমন যুক্তিবুদ্ধিহীন ভোঁতামস্তিস্কপ্রসূত বাক্য এবং একই বাক্যের পুণরাবৃত্তি শুনে। এমন শিক্ষক বাংলাদেশের ইস্কুলগুলোয় এখন বড় দুর্লভ। মুখস্তবিদ্যার দেশে ছাত্ররা যেমন মুখস্তবিদ্যা ভালো হলে ভালো ছাত্র বনে যায়, মুখস্তবিদ্যা ভালো হলে পরীক্ষায় ভালো পাশ দিয়ে শিক্ষকের চাকরিও জুটিয়ে ফেলতে পারে যে কেউ। হৃদয় মণ্ডল যে ভাবে বুঝে পড়েছেন বিজ্ঞান, মস্তিস্কে ধারণ করেছেন বিজ্ঞান, যেভাবে তিনি বিজ্ঞানমনস্ক হয়েছেন সেভাবে আজকাল ক’টা ইস্কুলের কজন বিজ্ঞানশিক্ষক বিজ্ঞানমনস্ক হয়েছেন? খুব বেশি হননি বলে তাঁদের অনেকেই বিজ্ঞান আর ধর্মে কোনও সংঘাত দেখেন না। সংঘাত তো হওয়ার কথাই, বিজ্ঞান বিবর্তনের কথা বলে, ধর্ম বলে সৃষ্টিতত্ত্বের কথা। বিজ্ঞান বলে

গোটা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের বয়স ১৩৮০ কোটি বছর, পৃথিবীর বয়স ৪৫০ কোটি বছর। বিবর্তনের ফলে মানুষ এলো দু’লক্ষ বছর আগে। এসবের ভুরি ভুরি প্রমাণ আছে। যুক্তির বিজ্ঞানের সঙ্গে বিশ্বাসের সৃষ্টিতত্ত্বের কিছুই মিলবে না। কারণ সৃষ্টিতত্ত্ব বলছে, কোনও এক সর্বশক্তিমান ছ’দিনে আসমান এবং জমিন সৃষ্টি করেছেন, মাটি দিয়ে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, প্রথমে মানুষকে স্বর্গে রেখেছিলেন, নিষিদ্ধ গন্ধম ফল খাওয়ার শাস্তিস্বরূপ তা্দের পৃথিবীতে নিক্ষেপ করেছেন। ধর্মের এই গল্পের কোনও প্রমাণ নেই, এগুলোকে ‘বিশ্বাস’ করতে হয়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা ব্রহ্মান্ডের এবং পৃথিবীর এবং প্রাণীর জন্ম সম্পর্কে যা বলেছেন, তার প্রমাণ দেখাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তাঁরা কখনও কোনও বিষয়ে ভুল বললে, সেই ভুল, পরে আরও ভালো প্রমাণের সন্ধান পেয়ে সংশোধন করে দিচ্ছেন । কিন্তু প্রমাণ ছাড়া কাউকে বলছেন না চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে। অন্ধ বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে ধর্ম টিকে আছে। অন্ধ বিশ্বাস ছাড়া ধর্মের গতি নেই। চোখ খুললেই ধর্ম তার পলেস্তারাসমেত খসে পড়ে।

শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের অসীম ধৈর্য এবং বিজ্ঞানের জ্ঞান দিয়ে অন্ধকারে পড়ে থাকা ছাত্রদের তাঁর যে আলোকিত করার চেষ্টা –সেটি তুলনাহীন। তাঁকে পুরস্কৃত করা উচিত। অথচ তিনি ভালো কাজের পুরস্কার পাওয়া তো দূরের কথা, জেলের অন্ধকারে বসে চোখের জল ফেলছেন। তাঁর পুত্র ইস্কুলে না গিয়ে ঘরে বসে আছে ভয়ে। তাঁর পুরো পরিবার আজ হুমকির সম্মুখীন। পুত্র ঘরের বাইরে বেরোলে হয়তো পিষে মেরে ফেলবে ধর্মান্ধের দল। ধর্মান্ধ সন্ত্রাসীরা হৃদয় মণ্ডলের বাড়িতে ঢিল ছুঁড়েছে। নাগালে পেলে শিক্ষককে হয়তো মেরেই ফেলতো। এমন কতো বিজ্ঞানমনস্ক মেধাবী মানুষের প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। ধর্ম শেখাটা সহজ, তাই ধর্মকে মেনে নিচ্ছে আর বিজ্ঞান শেখাটা সহজ নয়, তাই একে বাতিল করছে লোকেরা। আজ ভয়ে তটস্থ হৃদয় মণ্ডলের পরিবার। তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের, হৃদয় মন্ডলকে জেল থেকে বের করে তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া, তাঁকে সুশিক্ষক হিসেবে সম্মানিত করার দায়িত্ব সরকারের। সরকার তা না করে নারায়ে তকবিরের তাণ্ডব দেখছে আর দেশের সর্বনাশ দেখছে। রোম যখন পুড়ছিল, নীরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অনেক আগেই নীরো হয়ে বসে আছেন।

হৃদয় মণ্ডল বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে বেশ ভালো। তিনি বার বারই তাঁর অবাধ্য ছাত্রদের বোঝাতে চেয়েছেন বিজ্ঞান আর ধর্ম দুটো দু জিনিস, একটি প্রমাণ-নির্ভর, আরেকটি বিশ্বাস-নির্ভর। ধর্ম দ্বারা মগজধোলাই হওয়া ছাত্ররা বিজ্ঞানের কোনও তত্ত্ব তথ্য বুঝবে না বলেই যেন পণ করেছিল। কেন একজন শিক্ষককে সত্য বলার দায়ে জেল খাটতে হবে? কেন মিথ্যের জয় হচ্ছে বারবার?

ধর্মীয় অনুভূতির মূল নাম অন্যকে-ফাঁসানোর-ষড়যন্ত্র, তা কি বাংলাদেশের কারও বুঝতে বাকি রয়েছে? আমি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছি, এই কথা বলে আমাকে দেশ থেকে বের করা হয়েছে, ২৮ বছর দেশে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না দেশের কোনও সরকারই। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এই ধুয়ো তুলে একের পর এক আমার বই নিষিদ্ধ করেছে সরকার। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে –এই অভিযোগ করে মানুষকে কুপিয়েছে ধর্মীয় সন্ত্রাসীরা। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে সন্ত্রাসীরা কত মানুষকেই না কুপিয়ে খুন করেছে। আর কতকাল চলবে এই ধর্মীয় অনুভূতির রাজনীতি? সরকারের প্রশ্রয় ছাড়া এই রাজনীতি সম্ভব নয়। সরকার যদি চায়, ধর্মীয় অনুভূতিওয়ালা মন্ত্রীপরিষদ এবং সন্ত্রাসীদের রাজনীতি বন্ধ করতে, পারে বন্ধ করতে। মুশকিল হলো, সরকার চায় না। চায় না বলে হৃদয় মণ্ডলকে জেলে যেতে হয়।

বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে যাক বিজ্ঞান ইস্কুল, বিজ্ঞান একাডেমী। বিজ্ঞান পড়ালে যদি শিক্ষকদের মিথ্যে বলতে হয় যে, বিজ্ঞানের সব কথা কোরানে লেখা, মোহাম্মদ শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী, তাহলে বিজ্ঞান পড়ানোর দরকার নেই। সকলে ইসলাম পড়ুক, বিদ্যালয়গুলো হয়ে উঠুক মাদ্রাসা, মহাবিদ্যালয়গুলো হয়ে উঠুক মহামাদ্রাসা, আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বমাদ্রাসা। এই মাদ্রাসাগুলোয় শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানের কিতাব কোরান পড়ানো হবে।

বাংলাদেশ এবং এর মূর্খ ধর্মান্ধ জনগণ কোনও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষকে শিক্ষক হিসেবে, লেখক হিসেবে, গবেষক হিসেবে, নীতি-নির্ধারক হিসেবে, সমাজ সংস্কারক হিসেবে পাওয়ার যোগ্য নয়। রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি যখন কোরান, তখন কোরানই দেশ চালাক। দেশ রসাতলে গেছে, আরও যাক.।

 

হৃদয় মণ্ডলকে আমি হৃদয়ে স্থান দিয়েছি। কারণ হৃদয় সেইসব হিন্দুর মতো নয়, যারা মুসলিম ধর্মগ্রন্থের রূপকথাগুলো যুক্তি দিয়ে বাতিল করে আর হিন্দু ধর্মগ্রন্থের রূপকথাগুলোকে অযুক্তি দিয়ে গ্রহণ করে।

ধর্মের আজগুবি রূপকথার উদাহরণ দিতে গিয়ে হনুমানের কানের ভেতর থাকা সূর্যের গল্প এনেছেন হৃদয়। নিজের ধর্ম বলে ছাড় দেননি।

মুসলিমদের মধ্যে অনেকেই হিন্দু ধর্মগ্রন্থের রূপকথাগুলোকে যুক্তি দিয়ে বাতিল করে আর মুসলিম ধর্মগ্রন্থের রূপকথাগুলোকে অযুক্তি দিয়ে গ্রহণ করে। মুসলিম বিজ্ঞান-শিক্ষকরা হৃদয় মণ্ডলের কাছ থেকে সৎ হওয়া শিখুন। ধর্মের অবিজ্ঞান নিয়ে পড়াতে গেলে নিজের ধর্ম থেকে প্রচুর আজগুবি অবিজ্ঞানের উদাহরণ দিন। ইউনুস নবীকে মাছে খেয়ে ফেলেছিল, ৩ দিন পর তিনি মাছের পেটের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসেন। এরকম কয়েক হাজার আজগুবি উদাহরণ তো আছেই। সবচেয়ে বড় তো ডানাওয়ালা ঘোড়ায় চড়ে পরকাল দেখে আসার গল্প।

সৎ হলে সব রূপকথাকে এক পাত্রে ঢালতে হয়। হৃদয় সৎ। বাংলাদেশ নামের দেশটি আপাদমস্তক অসৎ বলে হৃদয় আজ কারাগারে।

 

হৃদয় মণ্ডল জামিন পেয়েছেন আজ। তিনি কি এখন ওই বিনোদপুর রামকুমার ইস্কুলেই ফের দশম শ্রেণীর ওই শিক্ষক অবমাননাকারী ধর্মান্ধ ছাত্রদের বিজ্ঞান পড়াবেন? যদি পড়ান, আমার আশংকা, তিনি আবারও অপদস্থ হবেন, আবারও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। এই সময় সবচেয়ে জরুরি হলো, শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলাটি সম্পূর্ণ বাতিল করে দেওয়া, বরং যারা শিক্ষক অবমাননা করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া, হৃদয় মণ্ডলকে হেনস্থা করার পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করেছিল, তাদের শাস্তি হওয়া। এই কাজগুলো না হলে বিজ্ঞানমনস্কদের শুধু অপমান আর অপদস্থ হওয়া হয়, তাদের খুন হয়েও যেতে হবে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না অভিজিৎ রায়, অনন্ত বিজয় দাশ, ওয়াশিকুর রহমান, রাজিব হায়দার, নিলয় নীল –এঁরা সবাই বিজ্ঞানমনস্ক ছিলেন। এঁদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছে ধর্মান্ধ জিহাদি গোষ্ঠী। বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ অন্ধকারে পড়ে থাকা ধর্মান্ধ জিহাদিদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।

কারণ বিজ্ঞানমনস্ক জ্ঞানীরাই মানুষকে আলোকিত করতে চায়, সমাজকে নষ্ট অন্ধকারের নাগপাশ থেকে মুক্ত করতে চায়। দেশে লক্ষ লক্ষ মাদ্রাসা বানানো হয়েছে, এইসব মাদ্রাসায় জন্ম নিচ্ছে মূর্খ মৌলবাদীর দল। এরাই ওয়াজ করছে, এরাই আজ মসজিদের ইমাম, এরাই আজ সমাজ শাসন করছে। এরাই আজ মূলত ক্ষমতায়। এদের দাবিই সরকার মেটাচ্ছে। এদের খুশি করতেই মাদ্রাসার ডিগ্রিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমতুল্য করা হয়েছে। এরাই বলে বিজ্ঞানের থিওরি এসেছে কোরান থেকে। এই ভুল শুধরে দিলে কারাগারে যেতে হয়। ধর্ম অবমাননার মামলা হয় দেশে, বিজ্ঞান অবমাননার মামলা হয় না। ধর্মকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞানীদের, বিজ্ঞান শিক্ষকদের, বিজ্ঞানমনস্ক মানুষদের সুরক্ষা দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা দেশে নেই।

আমার আশংকা হৃদয় মণ্ডল এখন আর আগের মতো তাঁর ছাত্রদের বলতে পারবেন না যে কোরানের কোনও প্রমাণ নেই। হয়তো তাঁকে বাঁচার জন্য বলতে হবে , কোরানই বিজ্ঞান, বিজ্ঞানই কোরান। তা না হলে প্রাণ নিয়ে বাংলাদেশের মতো কোরানপ্রেমীদের দেশে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।

দুঃখ হয়, একাত্তর সালে অতুল সম্ভাবনা নিয়ে জন্ম হওয়া দেশটি কী করে অজ্ঞানতার অন্ধকারে তলিয়ে গেল। লক্ষ কোটি হৃদয় এখন ধর্মের শেকলে বন্দি, এই হৃদয়ের মুক্তি চাই। যুক্তিবুদ্ধি এখন কারাগারে, যুক্তিবুদ্ধির মুক্তি চাই।

Related Articles

Back to top button
Close