fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

‘সংকীর্তন করতে আসিনি সবকিছু নিয়েই রাজনীতি করব’, মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ দিলীপ ঘোষের

করোনার বিরুদ্ধে না লড়ে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্র, রাজ্যপালের বিরুদ্ধে লড়ছেন

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:   পুরুলিয়ায় প্রাতঃভ্রমনে বেরিয়ে বিজেপির চা চক্রে পালটা মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ শানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ । কার্যত রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তিনি। এদিন রাজ্য সভাপতি বিজেপি হুঁশিয়ারি, “মুখ্যমন্ত্রী কী কেবল একাই রাজনীতি করবেন? ‘আমরা হরিনাম সংকীর্তন করতে আসিনি। আমরা সবকিছুতে রাজনীতি করবো। দম থাকলে আটকান’।

আমফানের ত্রাণের টাকা নিয়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা ‘দুর্নীতি’করছে বলে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। তার ফলে ক্রমশই ক্ষোভ বেড়েছে আমজনতার মনে। যদিও ক্ষোভের আগুন স্তিমিত করতে আসরে নেমেছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেউ ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি করলে, তাকে রেয়াত করা হবে না বলেই জানিয়েছিলেন তিনি। সেই অনুযায়ী ইতিমধ্যেই দলের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও সমালোচনা করতে ছাড়েনি বিরোধী শিবির। শুক্রবার সকালে চা চক্রে ফের আমফানের ত্রাণের প্রসঙ্গ তুলে শাসকদলকে খোঁচা দেন মেদিনীপুরের সাংসদ। তাঁর দাবি, “আমফান-সহ কেন্দ্র সরকারের সব প্রকল্পের টাকা লুট করছে এই সরকার।”

শুক্রবার পুরুলিয়ায় দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দিলীপ ঘোষ রাজ্যের চিকিত্সা পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর অভিযোগ, “বিনা চিকিৎসায় এখানে মানুষ মারা যাচ্ছেন। আগে থেকে লেখা ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করছে। মুখ্যমন্ত্রী উত্তরপ্রদেশ, দিল্লির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করুন। সম্প্রতি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ইস্যুতে রাজ্যপাল-রাজ্য তরজা চরমে উঠেছে। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পারলে উনি রাজ্যপালকেও গ্রেফতার করতেন। ওঁকে মুখ্যমন্ত্রী রোজ অসম্মান করছেন।তাই তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে অসম্মান করা হচ্ছে। কুৎসা রটানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। রাজ্যপাল নিজের এক্তিয়ারে থেকে সাংবিধানিক কাজ করে যাচ্ছেন।”

আরও পড়ুন: মরুঝড়ের মাঝেই চিদম্বরমের ফোন শচীনকে

এদিন তিনি বলেন পশ্চিমবঙ্গ ব্যাপক হারে করোনা পরিস্থিতির অবনতি দেখছে। ঘূর্ণিঝড় আমফানেও রাজ্যের প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সেদিকে নজর নেই মুখ্যমন্ত্রীর। যখন করোনার সঙ্গে লড়ার কথা, তখন মুখ্যমন্ত্রী লড়ছেন কেন্দ্রের সাথে, রাজ্যপালের সাথে।

রাজ্য বিজেপি সভাপতির অভিযোগ রাজ্যের পুলিশও সাধারণ মানুষের হয়ে কাজ করছে না। বিরোধী দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও তাঁদের গ্রেফতার করাটাই পুলিশের প্রধান কাজ হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের গুন্ডারা বিজেপি নেতা কর্মীদের খুন করছে। বিরোধী বিধায়কও এরাজ্যে নিরাপদ নন। সম্প্রতি উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়কের মৃত্যুর প্রসঙ্গও তোলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, “রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। প্রতিদিন আমাদের নেতা-কর্মীদের খুন করা হচ্ছে। আর আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছে। দলের উপর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মুখ্যমন্ত্রীর কোনও যোগ্যতা নেই।”

 

Related Articles

Back to top button
Close