fbpx
অন্যান্যগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

পরীক্ষা হলেই করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ছাত্র-ছাত্রীদের! দাবি চিকিৎসকদের

অভিষেক আচার্য, কল্যাণীঃ এখনো বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আগস্টের আগে খুলছে না স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট। অপরদিকে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এই কঠিন পরিস্থিতিতে কোনোমতেই পরীক্ষা দিতে রাজি নয় ছাত্রছাত্রীরা। পাশাপাশি, চিকিৎসকদের দাবি, পরীক্ষা নেওয়া হলে ছাত্র-ছাত্রীদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

 

স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় আগস্টের পর কবে খোলা হবে? আদৌ পরীক্ষা নেওয়া হবে কিনা এইসব সিদ্ধান্ত এখনো নিতে পারেনি শিক্ষা দফতর। ইতিমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় আগামী ১৩ জুন উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে ঠিক করেছেন। এ বার আর অনলাইন নয়। মুখোমুখি ওই বৈঠক হবে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমান শিক্ষাবর্ষে মূল্যায়নের পদ্ধতি ও ফলপ্রকাশের পাশাপাশি আসন্ন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি নিয়েও আলোচনা হতে পারে সেখানে। উচ্চশিক্ষা দপ্তর অবশ্য বৈঠকের বিষয়বস্তু কি হবে সেই বিষয়ে কিছুই জানায়নি। কিন্তু মূল্যায়ন ব্যবস্থা ও তার সময়সীমা, লকডাউনের পর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলা এবং প্রথম বর্ষে পড়ুয়াদের ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছেন অনেক উপাচার্য।

 

 

অপরদিকে, এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দিতে রাজি নন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। তাঁদের দাবি, প্রমোট করা হোক। উত্তরবঙ্গ থেকে এক ছাত্রী বলেন, এখানে প্রতিদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। প্রচন্ড আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। আমাদের দাবি, প্রমোট করা হোক আমাদের। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরীক্ষার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ চলছে। কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী রাজ্যপালের কাছে বিষয়টি জানিয়েছেন। জানানো হয়েছে শিক্ষামন্ত্রীকেও।

 

 

একই বক্তব্য কল্যাণী কলেজের এক ছাত্রের। তিনি বলেন, আমার করোনা হলে তার দায় কে নেবে? হোম সেন্টারে পরীক্ষা নেওয়া হলে করোনা হবে না এই প্রতিশ্রুতি কি সরকার বা শিক্ষা দফতর দেবে? এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই আমাদের কাছে। অতএব, প্রমোট করা হোক আমাদের। এই বিষয়ে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শঙ্কর ঘোষ বলেন, ছাত্র-ছাত্রীরা আক্রান্ত যাতে না হয় সেদিকে সবার নজর দেওয়া উচিত। তাঁরা যাতে সুস্থ থাকে সেদিকটাও নজর দেওয়া দরকার বলে জানান উপাচার্য।

 

 

বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলা হচ্ছে, পরীক্ষা দিতে ভয় পান ছাত্র-ছাত্রীরা, কেউ কেউ এটাও বলছেন, সুযোগের সদ্ব্যবহার করছেন তাঁরা। সত্যি কি তাই? এই কঠিন সময়ে পরীক্ষা নেওয়া হলে পরিস্থিতি কি হতে পারে? এই বিষয়ে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালের এক চিকিৎসক রাজেশ নন্দী বলেন, পরীক্ষা হলে ছাত্রছাত্রীদের কোভিড19 হওয়ার সম্ভাবনা অবশ্যই রয়েছে। এবার পরীক্ষা নেওয়া উচিত কি উচিত নয় সেটা শিক্ষা দফতর কিংবা সরকার দেখবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আর এক চিকিৎসক জানান, পরীক্ষা হওয়া মানে বন্ধুরা এক জায়গায় জড়ো হবেন, সেখান থেকে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁরা ট্রেনে, বাসে যাতায়াত করবেন সেখান থেকেও সংক্রমণ হতে পারে। ফলে ছাত্রছাত্রীদের আতঙ্কিত হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক।

 

 

চিকিৎসকদের কথায় এটা স্পষ্ট। পরীক্ষা নেওয়া হলেই করোনায় আক্রান্ত হতে বেশি দেরি লাগবে না ছাত্র-ছাত্রীদের। সেই আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আপাতত,১৩ই জুন শিক্ষামন্ত্রী ও উপাচার্যদের বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত হয় সেদিকেই তাকিয়ে পরীক্ষার্থীরা।

Related Articles

Back to top button
Close