fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হোক পরীক্ষা, সোশ্যাল মিডিয়ায় কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: কোভিড-১৯-এর রোষে গোটা বিশ্ব। করোনা দাবানল থেকে বাদ যায়নি শিক্ষা ব্যবস্থাও। বন্ধ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়। শিকেয় উঠেছে পড়াশোনা। অনলাইন পদ্ধতিতে পড়াশোনা চালু হলেও তা অনেক ক্ষেত্রেই অসফল হয়েছে। ফলে এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দিতে নারাজ নদীয়ার বিভিন্ন কলেজের ফাইনাল সেমিস্টারের ছাত্র-ছাত্রীরা। তাঁদের দাবি, করোনা আবহে পরীক্ষা কোনোমতেই নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরীক্ষায় বসতে রাজি তাঁরা।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী জুলাই মাসে সেমিস্টার পরীক্ষা নিতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। তবে সেক্ষেত্রে পরীক্ষার সময় ৩ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ২ ঘন্টা করার কথা ভেবে দেখতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। এমনই সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

ইউজিসি-র সুপারিশ, ফাইনাল সেমিস্টারের পড়ুয়াদের পরীক্ষা জুলাই মাসে নেওয়া হতে পারে। তবে, মধ্যবর্তী সেমিস্টারের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফল ঘোষণা করা যেতে পারে। অথবা, যে জায়গায় কোভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সেখানে জুলাই মাসে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। ইউজিসি আরো জানিয়েছে, পরীক্ষা অনলাইন হবে না অফলাইন, তা পরিকাঠামো দেখে বিচার করবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়। তবে, সকল পড়ুয়া যাতে সমান সুযোগ পায় সেদিকেও নজর রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে।

কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মোট ৫২টি কলেজ রয়েছে। রানাঘাট কলেজের এক ছাত্রী বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা নয়। আমরা পরীক্ষা অবশ্যই দেব। তবে সেটা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে। তিনি আরও বলেন, আমার বাড়ি রানাঘাট। কিন্তু অনেক বন্ধু রয়েছেন যাদের ট্রেনে,বাসে করে দূরদূরান্ত থেকে আসতে হয়। সেখানে কোনো ছাত্র-ছাত্রীর করোনা হলে তার দায়ভার কে নেবে? শুধু তাই নয়, দূর থেকে যাঁরা আসবেন পরীক্ষা দিতে তাঁরা কোথাও পাবেন না ঘর ভাড়াও। ফলে সমস্যায় পড়বেন প্রত্যেকেই। একই দাবি কাঁচড়াপাড়া কলেজের এক ছাত্রীর। তিনি বলেন, আমার বাড়ি নদীয়ার পায়রাডাঙ্গায়। প্রতিদিন যাতায়াত করি। কিন্তু এই করোনা পরিস্থিতিতে পরীক্ষা শুরু হলে সমস্যায় পড়তে হবে। এখনই বেরোতে ভয় পাচ্ছি। আর সত্যি যদি জুলাইতে পরীক্ষা শুরু হয় তাহলে আমি পরীক্ষা দিতে যাবো না। স্পষ্ট জানালেন তিনি।

আরও পড়ুন: ‘পরিযায়ী শ্রমিকদের কান্না গোটা দেশ দেখতে পাচ্ছে, শুধু একা বিজেপি পাচ্ছে না’ :সোনিয়া

ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গ্রুপ খুলেছেন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। সেখানে জুলাইতে পরীক্ষা নেওয়ার বিরুদ্ধে চলছে প্রতিবাদ। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শঙ্কর ঘোষের কাছে ছাত্রছাত্রীরা করোনা আবহের মধ্যে পরীক্ষা না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। এই বিষয়ে কাঁচড়াপাড়া কলেজের এক ছাত্র বলেন, নদীয়ার বেতাই এর বাসিন্দা আমি। কল্যানীতে মেসভাড়া নিয়ে পড়াশুনা করি। সিলেবাস শেষ। আমরা পরীক্ষা দেওয়ার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু এই করোনা আবহে পরীক্ষা দিতে রাজি না। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গ্রুপ খোলা হয়েছে। সেখানেই চলছে আমাদের আন্দোলন।

এই বিষয়ে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শঙ্কর ঘোষ বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো পরীক্ষার কোনো দিন বা তারিখ ঠিক হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। পাশাপাশি এটাও ঠিক সবার আগে ছাত্রছাত্রীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। পরীক্ষা চলাকালীন কোনো ছাত্র-ছাত্রীর করোনা হলে তার দায়িত্ব কে নেবে? প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী আমার সন্তানতুল্য। তাই এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা হলে আমি নিজে বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলবো। যেহেতু এখনো কোনো নির্দেশ আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি তাই এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার সময়ও আসেনি বলে জানান উপাচার্য।
প্রশ্ন অনেক। কিন্তু উত্তর অজানা। পরীক্ষা চলাকালীন সরকার যতই গাইডলাইন দিক না কেন। তা মানা কি আদৌও সম্ভব? যে হারে নদীয়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে সেখানে পরীক্ষা চলাকালীন কোনো ছাত্র-ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হলে তার দায়ভার কি সরকার নেবে? আপাতত ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন সীমাবদ্ধ রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। রাস্তায় নামলে তার পরিণাম কি হতে পারে সেই চিত্র অজানা নয় সরকারের। তাই পরীক্ষা নিয়ে রাজ্যের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হয় সেদিকেই আপাতত নজর রয়েছে তাঁদের।

Related Articles

Back to top button
Close