fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

উন্নয়নের জন্য যদি নোবেল থাকতো তাহলে তা প্রতিবছর পেতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: দোলা সেন

সুদর্শন বেরা, ঝাড়গ্রাম: রবিবার ঝাড়গ্রাম শহরের বিদ্যাসাগর পার্কে তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির ঝাড়্গ্রাম জেলা সম্মেলন ও শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন, ঝাড়্গ্রাম জেলা পরিষদের সভাধিপতি মাধবী বিশ্বাস, তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের নেতা গৌরাঙ্গ প্রধান, প্রভাত ঘোষ, মনোজ মাহাতো, সাগুন হেমরম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা বাস পরিবহনশ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি পার্থসারথী ঘনা সহ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

শ্রমিক সমাবেশে রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন তার ভাষণে বলেন শান্তি প্রতিষ্ঠায় পশ্চিমবঙ্গ এক নম্বরে রয়েছে। জ্যোতিবাবু যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন তিনি বলেছিলেন বাংলায় পরিবর্তন হলে রক্তগঙ্গা বইবে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে স্লোগান দিয়েছিলেন বদলা নয় বদল চাই। তাই বাংলার মানুষ বদলার বদলে বদল করেছেন ।যদি তৃণমূল কংগ্রেস বদলা চাইতো তাহলে অত্যাচারী সিপিএম নেতাদের পিঠের চামড়া থাকবে না। যারা এখন বড় বড় কথা বলছেন। তাদের কথা বলার অধিকার থাকতো না। তৃণমূল কংগ্রেস শান্তি উন্নয়ন চায়। তাই বাংলায় দলতন্ত্রের বদলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর যারা বড় বড় কথা বলছেন তাদের উদ্দেশ্যে অর্থাৎ বিজেপি নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন বিজেপি পরিচালিত উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, আসাম রয়েছে, কংগ্রেস পরিচালিত রাজস্থান রয়েছে, সিপিএম পরিচালিত কেরালা রয়েছে।

 

করোনা মহামারীতে এই রাজ্যগুলিতে কেউ বিনামূল্যে মানুষকে রেশন দেয়নি। গত এপ্রিল মাস থেকে অতি করোনা মহামারীতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের ন কোটি মানুষকে বিনা পয়সায় রেশন এর মাধ্যমে ৫ কেজি খাদ্যশস্য দিচ্ছে। কিন্তু বিজেপি নেতারা বলছেন যে তাদের টাকায় নাকি মমতা ব্যানার্জি বিনা পয়সায় রেশন দিছে । যদি তাদের ক্ষমতা থাকতো তাহলে কেন উত্তর প্রদেশ গুজরাট এবং আসামে দেয়নি। ২৫ বছর গুজরাটে সরকার চালাচ্ছে বিজেপি আর পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার মাত্র সাড়ে ন বছরের। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৬৩টি প্রকল্প রাজ্যে চালু করেছে ।সারা ভারত বর্ষ তথা পৃথিবীর কোন রাজ্যে এত প্রকল্প নেই। তিনি বলেন আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলি অবাক হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিভাবে এতগুলি প্রকল্প চালু করেছেন। তিনি বলেন পৃথিবীর কোন দেশ নেই যে তারা চিন্তা করছে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নে নিয়ে। যদি উন্নয়নের জন্য নোবেল থাকতো তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিবছর নোবেল পেতেন । আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলি মুখ্যমন্ত্রী কে বক্তব্য রাখার জন্য ডেকে ছেন। তা সত্ত্বেও শুধু মিথ্যা কথা বলে বাংলার মানুষের কান ভারি করছে বিজেপি। তাকে সঙ্গ দিচ্ছে সিপিএম ও কংগ্রেস ।

তিনি বলেন যখন সিপিএমের আমলে বেলপাহাড়ীর আমরাসোলে অনাহার সৃষ্টি হয়েছিল, মানুষ না খেতে পেয়ে অনাহারে মারা গিয়েছিল তখন কোথায় ছিলেন মোদি বাবুরা । যখন  পিঁপড়ের ডিম খেয়েছিলেন আদিবাসীরা তখন কোথায় ছিলেন অমিত শাহ বাবুরা।ক্ষমতায় আসার পর জঙ্গলমহলের মানুষ কে তিনি দু টাকা কেজি দরে চাল দিয়েছিলেন। কারণ জঙ্গল মহলের মানুষ যাতে দুমুঠো ভাত খেতে পারে। তিনি ক্ষমতায় আসার পর পিছিয়ে পড়া জঙ্গলমহল পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। মাওবাদীদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসার আবেদন করেছেন ।তাই বহু মাওবাদী অস্ত্র ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে এসেছেন। কিন্তু
56 ইঞ্চি মোদি ও 86 ইঞ্চির বাহুবলী চৌকিদার অমিত শাহ বড় বড় কথা বলছেন। যারা বাংলার সংস্কৃতি জানেননা,বাংলা ভাষা জানেন নি,বাংলার ঐতিহ্য জানেননা তারা বাংলাকে নিয়ে বড় বড় কথা বলছেন ।

 

তিনি আরো বলেন যে সংগঠিত ও অসংগঠিত শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার একাধিক প্রকল্প চালু করেছে। তিনি অসংগঠিত শ্রমিকদের পাশে যেমন রয়েছে তেমনি সংগঠিত শ্রমিকদের পাশে রয়েছেন। তিনি শ্রমিকদের বেতন আরো যাতে বেশি পায় তার উদ্যোগ নিয়েছেন। শ্রমিকদের পরিবারগুলির ছেলেমেয়েদের শিক্ষা স্বাস্থ্য সহ সমস্ত বিষয়ে নজর দিয়েছেন অথচ বাংলার সিপিএম কংগ্রেস বিজেপি হাতে হাত মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নিন্দা করেছে এবং মানুষকে ভুল বুঝাচ্ছে। সাংসদ দোলা সেন তাঁর ভাষণে বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন ক্ষমতায় থাকবেন বাংলার মানুষকে বিনা পয়সায় রেশন এর মাধ্যমে খাদ্যশস্য দিয়ে যাবেন।

তিনি বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মানুষের সেবা করে চলেছেন। আরো বলেন যে সবুজ সাথী কন্যাশ্রী সহ একাধিক খাদ্যসাথী, স্বাস্থ্য সাথী সহ বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তিনি তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন আপনারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাদের পাশে রয়েছে। তাই তিনি প্রতিটি দলীয় কর্মীকে কে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের অভাব অভিযোগ শোনার জন্য আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে তিনি শ্রমিকদের বলেন আপনারা চিন্তা করবেন না প্রতিটি সংগঠিত ও অসংগঠিত পরিবারের পাশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছে আগামী দিনেও থাকবেন।

Related Articles

Back to top button
Close