fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কোভিড পরীক্ষা করালেই বিনামূল্যে মিলছে আলু, অভিনব উদ্যোগ মেমারিতে

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: করোনা আবহের মধ্যেও উর্ধ্বমুখী আলুর বাজারদর। আর সেই আলুই এখন বিনামূল্যে মিলছে কোভিড পরীক্ষা করলেই। এমন ঘটনা শুনে অবাক লাগাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবেই মঙ্গলবার এমন উদ্যোগ দেখাগেল পূর্ব বর্ধমানের মেমারির পাল্লারোডে। কোভিড পরীক্ষা করিয়ে পাল্লারোড পল্লীমঙ্গল সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে বিনামূল্যে আলু পেয়ে খুশি এলাকার মানুষজন। প্রশাসনের কর্তারাও পল্লীমঙ্গল সমিতির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

করোনার আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে পূর্ব বর্ধমান জেলায়। ইতিমধ্যেই জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫০০ ছাড়িয়েছে । মৃত্যু হয়েছে ৪৯ জনের। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঠেকাতে রাজ্য সরকার জেলার প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাতক্ষণিক কোভিড পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে কোভিড পরীক্ষার শিবিরও করা হচ্ছে। এতকিছুর পরেও কোভিড পরীক্ষার ব্যাপারে জেলার বহু মানুষ অনিহা দেখিয়ে চলেছেন। সেই অবস্থার বদল ঘটাতেই কোভিড পরীক্ষায় আগ্রহীদের হাতে আলু তুলে দেবার উদ্যোগ নিয়েছে পল্লীমঙ্গল সমিতি।

এমন উদ্যোগ প্রসঙ্গে পল্লীমঙ্গল সমিতির সম্পাদক সন্দীপন সরকার বলেন, করোনা আবহের মধ্যেও রাজ্যে উর্ধ্বমুখী আলুর বাজারদর । খোলা বাজারে ২৫ টাকা কেজির বেশি দামে আলু বিক্রি করা যাবেনা বলে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছিলেন। তার পরেও গ্রামে গঞ্জের বাজারে আলুর দাম কমেনি। বাজারের আলু ব্যবসায়ীরা এখনও অনেক বেশী দামে আলু বিক্রি করে চলেছেন। করোনা আবহে রোজগারহীন হয়েপড়া মানুষজন আলুর মূল্য বৃদ্ধির জন্য বেজায় চটে রয়েছেন।সেই পরিস্থিতিতে তাদের কোভিড পরীক্ষা করার কথা বললে তারা খাবারের আলু আগে যোগাড় করে দেবার কথা শুনিয়ে আসছিলেন।

সন্দীপন বলেন, এই পরিস্থিতে তারা সিদ্ধান্ত নেন কোভিড পরীক্ষায় আগ্রহীদের হাতে সমিতির পক্ষথেকেই বিনামূল্যে ও স্বল্প মূল্যে আলু তুলে দেবেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এদিন বড়শুল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে করোনা পরীক্ষা করতে আশা প্রথম ২৫ জনকে বিনামূল্যে ২ কেজির আলুর প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তী ২৫ জনকে ১০ টাকা কেজি দরে ২ কেজি করে আলে তুলে দেওয়া হয়েছে। সন্দীপন সরকার জানিয়েছেন, সপ্তাহব্যাপি কোভিড পরীক্ষায় আগ্রহীদের আলু বিলির প্রক্রিয়া তারা চালিয়ে যাবেন।

পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ-সভাধীপতি দেবু টুডু বলেন, পল্লীমঙ্গল সমিতির এই ভাবনা ও উদ্যোগের প্রশংসা করতেই হয়। করোনা মোকাবিলায় পল্লীমঙ্গল সমিতির মতো জেলার অন্য ক্লাব গুলিকেও এইভাবে এগিয়ে আহ্বান জানিয়েছেন সহ -সভাধীপতি।

Related Articles

Back to top button
Close