fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কুমারগ্রামের সর্বত্র বিক্রি হচ্ছে চোলাই সহ অবৈধ বিলিতি মদ, নির্বিকার প্রশাসন

সুকুমার রঞ্জন সরকার, কুমারগ্রাম: কুমারগ্রাম ব্লকের সর্বত্র অবাধে বিক্রি হচ্ছে চোলাই সহ অবৈধ বিলিতি মদ, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে সরব এলাকার শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন নাগরিক সমাজ। তাদের আশঙ্কা যে কোন দিন মদের বিষক্রিয়ায় ঘটে যেতে পারে সাম্প্রতিক অতীতের শান্তিপুর অথবা ক্যানিং এর মত বহু মৃত্যুর ঘটনা।

 

 

প্রশাসনের উচিত কঠোর ভাবে এই মদের কারবার বন্ধে তৎপর হওয়া। জানা গেছে কুমারগ্রামের সর্বত্র হাট বাজার থেকে শুরু করে গ্রাম গঞ্জের বিভিন্ন দোকানে যে কোন সময় চাইলেই পাওয়া যাবে চোলাই থেকে শুরু করে যে কোনো ব্র‍্যান্ডের অবৈধ বিলিতি মদ। তবে সন্ধ্যার পর চলে অবাধ বিক্রি। পানবিড়ি, তেলেভাজা, ছোট বড় হোটেল এমনকি মুদীখানাতেও সহজ লভ্য সব ধরনের মদ। খদ্দেরের তালিকায় আছে কিশোর থেকে বয়স্ক সকলেই। কিছু কিছু ভ্রাম্যমান দোকান ও এই তালিকায় রয়েছে। পাড়ার মোড়ে মোড়ে সাইকেল এর চাকা লাগানো ভ্যানে যেসব তেলেভাজার দোকান আছে সন্ধ্যার পর তেলেভাজার সাথে এগুলোতে বেশী বিক্রি হয় চোলাই মদ। এলাকায় এর চলতি নাম থাপ্পু।

 

খদ্দের থাপ্পু চাইলেই তার হাতে দশ টাকার বিনিময়ে ধরিয়ে দেওয়া হয় একটি পলিপ্যাক আর স্ট্র। ঐ পলিপ্যাকে থাকে চোলাই মদ। খদ্দের পলিপ্যাক আর স্ট্র নিয়ে একটু আড়ালে চলে যান। চাইলে বিলিতি মদ ও মিলবে। একটি সুত্রে জানা গেছে বিলিতি মদ আসে ভুটান ও পার্শ্ববর্তী রাজ্য অসম থেকে অবৈধ ভাবে। আর চোলাই মদ তৈরি হয় কুমারগ্রামের বিভিন্ন এলাকায়। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সূত্রে জানা গেছে চা বাগান ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেই চোলাই সহ অবৈধ বিলিতি মদ বেশি বিক্রি হয়।

 

সূত্রের খবর এই চোলাই মদ পান করে অনেকেই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক চিকিৎসক বলেন, চোলাই মদে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হয় যেগুলো মানব দেহের পক্ষে ক্ষতিকর। অপর দিকে যেসব অবৈধ বিলিতি মদ বিক্রি হচ্ছে সেগুলোতেও আছে ভেজাল। এসব কারনে মদ্যপায়ীরা আক্রান্ত হচ্ছেন স্নায়বিক রোগে, হারিয়ে ফেলছেন কর্মক্ষমতা, বাড়ছে লিভারের অসুখ এমনকি অনেকে অন্ধত্বের ও শিকার হচ্ছেন। স্বেচ্ছাসেবি সংস্থার পক্ষে জানানো হয় তারা মাঝে মাঝেই এলাকায় মদ্যপান বিরোধী সচেতনতা অভিযান চালান কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।

 

 

তারাও জানান প্রশাসন কঠোর ভাবে পদক্ষেপ নিলেই এই কারবার বন্ধ হওয়া সম্ভব। তাহলে প্রশাসন কি এই কারবার বন্ধে সক্রিয় নয় এই। প্রশ্নের জবাবে জেলা আবগারী দপ্তর এর জনৈক আধিকারিক বলেন তাদের দপ্তর এই কারবারের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে। অভিযানে চোলাই মদ তৈরির ঘাটি ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে, মদ তৈরির সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করে নির্মাতাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। আইন অনুযায়ী শাস্তিও পাচ্ছে তা সত্বেও এই কারবার বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। মদ বিরোধী অভিযানে দপ্তরের কর্মীদের আক্রান্ত হবার ঘটনা ও ঘটেছে। পাশাপাশি পুলিশ ও অভিযান চালিয়ে সাম্প্রতিক কালে প্রচুর মদ বাজেয়াপ্ত করেছে। কিন্তু মদের কারবার একই ভাবে চলছে। এলাকার শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন নাগরিক সমাজের প্রশ্ন তাহলে কি এই কারবার বন্ধ হবেনা? এই প্রশ্নের জবাবে এলাকার সমাজ সংস্কারক রতন চন্দ্র পন্ডিত, কিরন ছেত্রী, আভিরাম তিরকী রা জানান মদ্য পানের কুফল সম্পর্কে জন মানসে চেতনা বোধ জাগ্রত হলেই বন্ধ হতে পারে এই সমাজ বিধ্বংসী কারবার।

Related Articles

Back to top button
Close