fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেও ওভারলোড বালির লরির দাপট গ্রামের রাস্তায়, লরি আটকে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বালির অবৈধ কারবার বন্ধ করতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রশাসনকে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এরপরেও বালির অবৈধ কারবার বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। ক্ষোভে ফুঁষছেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের কোড়া গ্রামের বাসিন্দারা।বাঁধের রাস্তা দিয়ে দিনে ও রাতে বেপরোয়া গতীতে ওভারলোড বালির ট্রাক ও লরি যাতায়াত বন্ধের দাবিতে তারা সরব হয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ রাস্তা বাঁচাতে ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানী রুখতে তারা পথে নেমে ওভারলোড বালির লরি আটকালেও পুলিশের সহযোগিতা মিলছে না।
উল্টে ওভারলোড বালির লরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ গ্রামবাসীদের বাধ্য করছে। এই পরিস্থিতিতে গণস্বাক্ষর সংবলিত অভিযোগ পত্র মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোড়া গ্রামের বাসিন্দারা।

জামালপুর ব্লকের জ্যোৎশ্রীরাম পঞ্চায়েত
এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম কোড়া। এই অঞ্চলের মুইদিপুর থেকে কোড়া এলাকা পর্যন্ত দামোদরের বাঁধের দুই পাশ অত্যন্ত জনবহুল। নদী বাঁধের ওপরেই তৈরি হয়েছে পাকা পিচ রাস্তা। মুইদিপুর থেকে কোড়া পর্যন্ত বাঁধের রাস্তার দুই ধারে বেশ কয়েকটি স্কুল ও শিশুশিক্ষা কন্দ্র রয়েছে। বাঁধের রাস্তা ধরে কানারিয়া সেতু কিংবা চাপাডাঙ্গা সেতু পেরিয়ে বালি বোঝাই ট্রাক ও লরি হগলী হয়ে কলকাতা পৌঁছায়। নদী বাঁধের এই রাস্তা দিয়ে এখন বেপরোয়া গতীতে ওভারলোড বালি বোঝাই ট্রাক ও লরির যাতায়াত বেড়ে যাওয়ায় কোড়া গ্রামের বাসিন্দাদের ক্ষোভ মাত্রা ছাড়িয়েছে।

কোড়া গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন , “সিন্ডিকেটের লোকজন মুইদিপুর সংলগ্ন এলাকায় বালি খাদান চালু করেছে। পুলিশ ও শাসক দলের লোকজনের মদতে সিন্ডিকেটের লোকজন সেই খাদান চালাচ্ছে। ওই খাদান থেকে ওভারলোড বালি নিয়ে প্রতিদিন শয়ে শয়ে ট্রাক ও লরি নদী বাঁধের রাস্তায় উঠে চাপাডাঙ্গা হয়ে কলকাতা চলে যাচ্ছে। বিশ্বজিৎ আরও বলেন,ওই সব বালির লরিতে থাকা চালানেও রয়েছে অসঙ্গতি। রায়না ২ ব্লকের নরসিংহপুর মৌজার খাদানের চালান ব্যবহার করে জামালপুরের মুইদিপুরের খাদান থেকে চলছে বালি পাচার। গ্রামবাসীরা পথে নেমে রবিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এমন একাধিক ওভারলোড বালির লরি আটকে রাখে। সোমবারও প্রতিবাদ অব্যাহত থাকে। বালি লরি আটকানোর খবর পেয়ে পুলিশ গ্রামে আসে। কিন্তু লরিগুলিতে ওভারলোড বালি থাকা সত্তেও আইনানুগ কোন ব্যবস্থা তারা নেননা। উল্টো ওভারলোড বালির লরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ চাপ সৃষ্টি করে।”

গ্রামের অপর বাসিন্দারা বলেন ,“বিগত কয়েকদিন ধরে নদী বাঁধের রাস্তার উপর দিয়ে ওভারলোড বালির চাপ অত্যধিক বেড়ে গিয়েছে। বেপরোয়া ভাবে ওই বালির লরিগুলি যাতায়াত করছে। কয়েকদিন আগে এলাকার একজন বালির লরির ধাক্কায় জখম হন। ওভার লোড বালির লরির দাপটে নদী বাঁধের রাস্তা দিয়ে সাধারণের যাতায়াতের সমস্যা হয়ে উঠেছে। গ্রামবাসীরা বলেন , তারা প্রশাসনের উপরে আস্থা রাখতে পারছেন না। তাই চিঠি লিখে সবিস্তার মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ”

যদিও গ্রামবাসীদের তোলা অভিযোগ মানতে চাননি জ্যোৎশ্রীরাম অঞ্চল তৃণমূলের যুব নেতা রফিকুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন ,“শাসক দলের মদতে মুইদিপুরে বালি খাদান চলছে বলে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা । খাদান বৈধ ভাবে চলছে না অবৈধ বাবে চলছে সেটা প্রশাসনের দেখার বিষয়।”

জামালপুর থানার পুলিশের এক কর্তা বলেন, কোড়া এলাকার লোকজন দুর্গা পুজোর চাঁদার জন্য লরি আটকে ছিল।গ্রামবাসীদের বলা হয়েছে ওই এলাকার রাস্তা দিয়ে ওভারলোড বালির লরি যাতায়াত বাড়লে ব্লকের বিএল আ্যান্ড এলআরওকে জানাতে।

জামালপুর ব্লকের বিএল অ্যান্ড এলআরও পার্থ ঘোষ বলেন ,“নরসিংহপুর মৌজার চালান নিয়ে কোথায় কি খাদান চলছে সেই ব্যাপারে রায়না ২ ব্লকের বিএল অ্যান্ড এলআরও ভালো বলতে পারবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন জামালপুরের কোড়া গ্রামের বাঁধের রাস্তা দিয়ে ওভারলোড বালির গাড়ি চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Related Articles

Back to top button
Close