fbpx
কলকাতাহেডলাইন

রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের অধিকার বহির্ভূত কাজ অব্যাহত: জয়দীপ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য মানবাধিকার কমিশন অনৈতিক ও বেআইনি কার্য কলাপ অব্যহত রেখেছে। আভিযোগ করলেন অল ইন্ডিয়া লিগাল এড ফোরামের সাধারণ সম্পাদক তথা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তিনি ফের একবার রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরব হলেন। এর আগেও তিনি কমিশনের চেয়ারপার্সেনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন। এদিন এক বিবৃতি জারি করে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর কথায় স্পষ্ট রাজ্য মানবাধিকার কমিশন আধিকার বহির্ভূত কাজ করছে।

এদিন, জয়দীপবাবু বলেন, ‘রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন গিরিশ গুপ্ত বিভিন্ন আইন বহির্ভূত এবং মানবাধিকার কমিশন অ্যাক্ট ১৯৯৩ -এর অধিকার বহির্ভূত কার্যকলাপ করে চলেছেন। এর আগে তিনি কমিশনে বেঞ্চ গঠন করার চেষ্টা করেছিলেন এবং রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন ভুলে যাচ্ছেন যে , রাজ্য মানবাধিকার কমিশন কোনাে আদালত নয়, এটা সম্পূর্ণ একটি স্ট্যাটুটরি অথরিটি । স্ট্যাটুটরি অথরিটির কতগুলাে সুনির্দিষ্ট নিয়ম – কানুন থাকে। রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের গাইডলাইনে লেখাই আছে, কতদূর পর্যন্ত তাদের এক্তিয়ার। এই এক্তিয়ার বহির্ভূত কার্যকলাপ দীর্ঘদিন যাবৎ করে চলেছেন রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের বর্তমান চেয়ারপার্সন এবং প্রাক্তন বিচারপতি গিরিশ গুপ্ত।’

রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের কার্যকলাপের বিরোধিতা করে জয়দীপবাবু অভিযােগ করেন,  ‘গত মাসে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন তাঁর জয়েন্ট সেক্রেটারিকে দিয়ে একটি নির্দেশিকা প্রদান করেছেন যার নাম্বার হল 27 ( 22 / WBHRD / 2020-2021 , Dated 21.09.2020 ) 9216 fofa রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের নির্দেশিকা দিয়ে বলেছেন আসন্ন দুর্গাপূজায় রাজ্যের প্রতিটি দুর্গাপূজার স্টলে মানবাধিকার কমিশনের লিফলেট বিলি করবার জন্য, যা একেবারেই অধিকার বহির্ভূত হস্তক্ষেপ এবং জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের কাজ এটা কখােনই হতে পারে না।’

জয়দীপবাবু আরাে বলেন, ‘রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের জয়েন্ট সেক্রেটারি প্রতিটি জেলাশাসককে 24.09.2020 তারিখে একটি চিঠি দিয়ে বলেন যে, এই লিফলেট বা পত্রিকা বিলি করবার জন্য মানবাধিকার কমিশন প্রতিটি জেলার জেলাশাসকের তহবিলে টাকা পাঠাবে।’ এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি জয়দীপ মুখার্জী প্রশ্ন তােলেন , ‘রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের মত একটি স্ট্যাটুটরি অথরিটি কি করে রাজ্য সরকারের অর্থ দফতরের অনুমতি ছাড়া সরাসরি জেলার জেলাশাসকের তহবিলে অনুদান পাঠাচ্ছে ? রাজ্য সরকারের অর্থ দফতরের অনুমতি ছাড়া রাজ্য মানবাধিকার কমিশন কখনােই কোনাে অর্থ জেলাশাসকের তহবিলে পাঠাতে পারে না । এছাড়াও জয়দীপবাবু আরাে প্রশ্ন তােলেন , জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার সরাসরি রাজ্য সরকারের অধীনস্ত অফিসার , তাদের ওপর একমাত্র নির্দেশ প্রদান করতে পারেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং মুখ্যসচিব ।

রাজ্য মানবাধিকার কমিশন কখনােই জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারকে প্রশাসনিক নির্দেশ দিতে পারেন না । শুধুমাত্র কোনাে অভিযােগ সংক্রান্ত বিষয়ে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছ থেকে রিপাের্ট চাইতে পারে রাজ্য মানবাধিকার কমিশন । এছাড়াও , জয়দীপবাবু বলেন ভয়াবহ কোভিড পরিস্থিতিতে রাজ্য মানবাধিকার কমিশন যেভাবে মন্ডপের সামনে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের স্টল করে মানবাধিকার কমিশনের পুস্তক বিলি করার নির্দেশ দিয়েছেন তা অত্যন্ত নিন্দনীয় । কারন , এই পরিস্তিতিতে জমায়েত বা ভীড় এড়ানাের জন্য কোনাে প্রকার স্টল করা বাঞ্ছনীয় নয় । সেক্ষেত্রে এই ধরণের স্টল করে সেখানে ভীড় বাড়াবার কোনাে অর্থ হয় না ৷

রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের আইন বহির্ভূত এই কার্যকালাপ এবং জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের ওপর যে এই নির্দেশিকা প্রদান করা হয়েছে সেটা প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিৎ বলে তিনি দাবী করেন । ইতিমধ্যেই বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে , রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের এই নির্দেশিকা কোলকাতা পুলিশ মানতে পারবেনা বলে লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছে । তার কারণ , এই কঠিন পরিস্থিতিতে পুলিশের পক্ষে এই ধরণের স্টল করা সম্ভব নয় । রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন প্রাক্তন বিচারপতি গিরিশ গুপ্ত এই যে বিভিন্ন ধরনের অধিকার বহির্ভূতভাবে একটার পর একটা কার্যকলাপ করে চলেছেন সেগুলি সম্পূর্ণ বেআইনি বলে দাবী করেন আইনজীবি জয়দীপ মুখোপাধ্যায় ।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন , ‘রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সনের বােঝা উচিৎ তার কতটা এক্তিয়ার আছে এবং কতটা তার ক্ষমতা । রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সনের বােঝা উচিৎ তারা কোনাে ক্ষেত্রে সরকারকে শুধুমাত্র সুপারিশ করতে পারে , তার বেশি কিছু নয় । কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্য মানবাধিকার কমিশন আইন বিরুদ্ধ কার্যকলাপ করতে শুরু করেছেন , যা শােভনীয় নয় । আইনজীবি জয়দীপ মুখার্জী বলেন যে , এই পরিস্তিতিতে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সনের এইরূপ অধিকার বহির্ভূত কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিৎ এবং এ বিষয়ে তিনি বলেন দরকার পড়লে তিনি জনস্বার্থ মামলা করতে বাধ্য হবেন।

Related Articles

Back to top button
Close