fbpx
কলকাতাহেডলাইন

ইমামদের ফতোয়া চ্যালেঞ্জ বিজেপির

রক্তিম দাশ, কলকাতা: রাজ্যের ইমাম ফাউন্ডেশনের একটি ফতোয়া ঘিরে বেজায় ক্ষিপ্ত গেরুয়া শিবির। বিজেপির অভিযোগ, এতে নাকি বলা হয়েছে, রাজ্যের মুসলিমরা আরএসএস এবং বিজেপি করতে পারবেন না! ইমাম ফাইন্ডেশনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গোটা বাংলা জুড়ে ২০ লক্ষ সংখ্যালঘুকে বিজেপির সদস্য করার টার্গেট নিয়েছে গেরুয়া শিবির। এমনটাই দাবি করেছেন রাজ্য সংখ্যালঘুর মোর্চার রাজ্য সভাপতি আলি হোসেন।

বৃহস্পতিবার আলি হোসেন বলেন,‘ ইমামদের এধরণের ফতোয়াকে বাংলার মুসলমানরা হাস্যকৌতুক মনে করছে। ধর্ম কখনওই ঠিক করে দেয় না কে কোন রাজনৈতিক দল করবেন। যেসব ইমাম এসব বলছেন, তাঁরা তৃণমূল থেকে নুন খেয়ে, এখন গুণ গাইছেন। এদের এলেম, কালেম কিছুই নেই। আমি এদের চ্যালেঞ্জ করছি।আলি হোসেন মনে করিয়ে দেন, নবীজি বলেছেন, যে দেশে আপনি জন্মেছেন, সেদেশের মাটির সঙ্গে মিশে থাকতে হবে। দেশকে নিজের বলে ভাবতে হবে। এঁরা কি নিজেদেও ইসলাম ধর্মের পণ্ডিত মনে করেন?’

আলি হোসেন আর বলেন,‘ ধর্ম আর রাজনীতি আলাদা। আমাদের দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে প্রত্যেকের। মুষ্টিমেয় কয়েকজন ধর্মগুরু কোন রাজনৈতিক দল করবেন তাঁর নিদান দিচ্ছেন। রাজনীতি ধর্মগুরুদের বিষয় নয়, এটা নাগরিকদের বিষয়। তাঁর কেন ঠিক করবেন এসব? বিভিন্ন রাজ্যে ও কেন্দ্রে বিজেপি আছে। সেখানে তো অনেক মুসলিম বিজেপি করছেন। অনেকেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বে আছেন। এভাবে চললে তো দেশটা চিন হয়ে যাবে।’

রাজনীতি করা ধর্মগুরুরা কখনও বাংলার সংখ্যালঘুদের আইকন হতে পারেন না বলে, তিনি বলেন,‘ বাংলার মুসলিম সমাজে অনেক আইকন আছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামীরা রয়েছেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম বা বাংলার দানবীর বলে খ্যাত হাজি মহম্মদ মহসীন আছেন। এঁরা কেন আমাদের সমাজের আইকন হবেন না?’

বাংলার ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে আলি হোসেনের প্রশ্ন তোলেন এদিন। তিনি বলেন,‘ যাঁরা মুসলিমদের বিজেপি করতে না বলছেন, তাঁরা কেন বেদখল হয়ে যাওয়া ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে কথা বলছেন না? খোদ কলকাতায় ১১০০ ওয়াকফ সম্পত্তি বেদখল হয়ে গিয়েছে। যা মুসলিম সমাজের উন্নয়ণের কাজে লাগতে পারত। মুসলিমদের উন্নয়ণের জন্য সরকারি কোনও টাকার প্রয়োজন নেই। যদি ওয়াকফ সম্পত্তি সঠিক ব্যবহার হয়। এটা নিয়ে তো কোনও প্রতিবাদ নেই। আমরা চাই ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে সিবিআই তদন্ত হোক।’

আরও পড়ুন: দেশের করোনা সংক্রমণের হার উর্দ্ধমুখী, মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৩৯ লক্ষ

বিজেপিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে যোগদান বাড়ছে বলে দাবি করে আলি হোসেন বলেন,‘ গত লোকসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথগুলিতে আমাদের ভোট বেড়েছে। গত ৭ দিনে আমাদের ৬০ হাজার সদস্য হয়েছে। গতবছর আমাদের ৪ লক্ষ সদস্য ছিল বাংলা জুড়ে। ৪১ টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভায় আমরা এবছর ১০ লক্ষ সদস্য সংগ্রহ করব। আর বাকি বিধানসভাগুলো থেকে ১০ লক্ষ সদস্য করার টার্গেট নিয়েছি। আমাদের জনসমর্থন বাড়ছে।’

বিজেপি সাম্প্রদায়িক দল এই অভিযোগ মানতে নারাজ সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি আলি হোসেন। তিনি বলেন,‘ বিজেপি একটি ধর্ম নিরপেক্ষ দল। আমাদের আর্দশ একাত্ম মানববাদ। সবাইকে নিয়েই এই দল তৈরি হয়েছে। যাঁরা সাম্প্রদায়িক মানসীকতায় বিশ্বাসী তাঁরাই আমাদেও মদ্যে সাম্প্রদায়িকতার ভূত দেখে। মনে রাখতে হবে এপিজে আবদুল কালামকে বিজেপি রাষ্ট্রপতি পদে সমর্থন করেছিল। আর যাঁরা ধর্মনিরপেক্ষ দল বলে নিজেদের জাহির করে সেই কংগ্রেস-সিপিএমরা কিন্তু লক্ষ্মী সায়গলকে সমর্থন করেছিল। বাংলায় গত লোকসভায় বিজেপি ২ জন সংখ্যালঘুকে প্রার্থী করেছিল, তার মধ্যে একজন ছিল মহিলা। এটা এখন বাংলার সংখ্যালঘুরাও বুঝতে পারছেন। আর বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক বলে চালানো যাবে না। আর সেটা একুশের বিধানসভা ভোটেই প্রমাণ হয়ে যাবে।’

Related Articles

Back to top button
Close