fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

দরিদ্র দেশের ঋণ মকুব করুক আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক, আর্জি বিশ্বের ৩ শতাধিক আইনপ্রণেতা

ওয়াশিংটন, সংবাদ সংস্থা: নিম্নআয়ের দেশগুলির ঋণের বোঝা মকুব করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের কাছে লিখিত অনুরোধ জানিয়েছেন বিশ্বের ৩ শতাধিক আইনপ্রণেতা।

মহামারী করোনাভাইরাসে লণ্ডভণ্ড গোটা বিশ্ব। ইতিমধ্যেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ লাখেরও বেশি মানুষ। প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় তিন লক্ষ মানুষ। শুধু প্রাণহানিই নয়, করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। উন্নত দেশগুলি এই সংকট থেকে কোনওভাবে কাটিয়ে উঠতে পারলেও বড় সহায়তা ছাড়া দরিদ্র দেশগুলির ক্ষেত্রে এই বন্ধুর পথ অতিক্রম একপ্রকার অসম্ভব। তাই, ঋণের বোঝা মকুব করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের কাছে লিখিত অনুরোধ জানিয়েছেন আইনপ্রনেতারা।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও মিনেসোটার ডেমোক্রেট নেতা ইলহাম ওমরের নেতৃত্বে এ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ব্রিটেনের লেবার পার্টির প্রাক্তন নেতা জেরেমি করবিন, আর্জেন্টাইন আইনপ্রণেতা কার্লোস মেনেমসহ ছয় মহাদেশের তিন শতাধিক আইনপ্রণেতা।

এদিন বার্নি স্যান্ডার্স বলেছেন, “এমন সংকটকালে দরিদ্র দেশগুলির প্রত্যেকটি পয়সা ‘অস্থিতিশীল ঋণ’ পরিশোধের চেয়ে তাদের লোকজনের সেবায় খরচ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” বার্নি স্যান্ডার্সের কথায়, “বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা অকল্পনীয় দারিদ্র্য ও ক্ষুধা বৃদ্ধি এবং লক্ষ লক্ষ  মানুষের মৃত্যুর হুমকির স্বরূপ করোনা রোগ প্রতিরোধে অন্তত দরিদ্র দেশগুলির ঋণ মকুব করতে পারে।”

 

মহামারী করোনার কারণে গত মাসে বিশ্বের দরিদ্রতম ২৫টি দেশের ঋণের কিস্তি ছয় মাসের জন্য মকুব করার ঘোষণা দিয়েছে আইএমএফ। বিশ্বনেতারা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও বলেছেন, “পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও পদক্ষেপ জরুরি।” কিন্তু, বিশ্বব্যাংক জানাচ্ছে, তারাও দরিদ্র দেশগুলোর সহায়তা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। তবে, ঋণ মকুব করলে ক্রেডিট রেটিংয়ের ক্ষতি হতে পারে এবং সদস্য দেশগুলিকে কম খরচে তহবিল সহায়তার সক্ষমতাও কমে যেতে পারে!

 

তারপরেও চিঠিতে বিশ্বের আইনপ্রণেতারা বলেছেন, “দরিদ্র দেশগুলির ঋণ সরাসরি মকুব করা দরকার। গত এপ্রিলে জি-২০ভুক্ত দেশগুলির সিদ্ধান্ত মোতাবেক শুধু স্থগিত করলে খুব একটা সুফল মিলবে না।” তাদের মতে, ঋণ মকুব না করলে দরিদ্র দেশগুলি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে পারবে না। এর ফলশ্রুতিতে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা ও অর্থনৈতিক সংকট চলতেই থাকবে।”

 

সেইসঙ্গে, বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতারা এসময় আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাসকে নতুন এসডিএফ (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস, আইএমএফের মুদ্রা) হিসেবে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার ছাপানোর বিষয়ে সমর্থন জানানোরও অনুরোধ জানিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button
Close