fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

প্রশান্তের যুব জাগরণের প্রভাব তৃণমূলের দলীয় রদবদলে সামনের সারিতে মহুয়া-লক্ষ্মী

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরের যুব জাগরণের প্রভাব সাংগঠনিক রদবদলে। সোশাল মিডিয়া জুড়ে প্রশান্ত যে যুব জাগরণের প্রচার চালাতেন। তা এবার তৃণমূলের একুশের লড়াই এর অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠল। সেই কারণেই এবার সামনের সারিতে উঠে এল মহুয়া মৈত্র ও লক্ষ্মীরতন শুক্ল। যদিও সংগঠনের নিরিখে এই দুই তৃণমূল নেতা অপেক্ষাকৃত নতুন। তা সত্ত্বেও একুশের নির্বাচনে লড়াই কে সামনে রেখে এদেরকেই দলের সারথি করা হল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে গত বৃহস্পতিবারের এই সাংগঠনিক রদবদল তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যপাধ্যায়ের অঙ্গুলিলেহন বলেও মনে করছেন। লোকসভা নির্বাচনের পরই দলের স্ট্র্যাটেজি সাজাতে এনেছিলেন প্রশান্ত কিশোরকে। তারপর থেকেই তৃণমূলের অনেক কৌশলে তাঁর মাথা ছিল বলে জানা যায়। এবার দলের এই রদবদলেও পিকে-র স্ট্র্যাটেজি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। খোদ দলীয় নেতৃত্বই এমন কথা বলছে।
ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দলীয় নেতৃত্ব এর কার্যকলাপ নিয়ে তৈরি করা গোপন ফাইল জমা দিয়েছেন। সেখানে প্রশান্ত আলাদা আলাদা ভাবে নেতাদের জনগনের কাছে গ্রহণ যোগ্যতার কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি শাসকদলের কোন নেতার প্রতি রাজ্যের মানুষ কী ভাবছেন, তার উপর ভিত্তি করেই রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তারই প্রতিফলন দেখা গেল ২০২১-এর আগে তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদলে। ৩-৪ মাস আগেই সেই রিপোর্ট জমা পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই গোপন রিপোর্টের ভিত্তিতেই নতুন সংগঠন তৈরি করা হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
এ ছাড়াও তৃণমূলের দলীয় সংগঠনের শ্রী বৃদ্ধির রাশ হাতে নিয়ে প্রথম দিন থেকেই নতুন প্রজন্মের উপর জোর দিয়েছিলেন। তা নিয়ে দলের অন্দরে বহু বিরোধের সম্মুখীন হতে হয় প্রশান্তকে। প্রশান্ত কিশোরের রিপোর্ট অনুযায়ীই দলের তরুণ নেতৃত্বকে সামনের সারিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছিল। যদিও দলের শেষ কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তবুও প্রশান্ত কিশোরের রিপোর্ট মতোই মমতা কাজ করেছেন বলেই দাবি তৃণমূলের একাংশের। তাই লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তথা দলের বিধায়ক লক্ষ্মীরতন শুক্লাকে জেলার গুরু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রথম থেকেই প্রশান্ত কিশোর দলের অন্যতম মুখ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর সমর্থন পেয়ে আসছেন এ বিষয়ে। তবে দলনেত্রী এই সিদ্ধান্তকে তৃণমূলের অনেক দুঁদে নেতাই ভালো চোখে নিচ্ছেন না। সূত্রের খবর, এ নিয়ে দলের মধ্যে চোরাগোপ্তা বিরোধ শুরু হয়ে গিয়েছে।
হাওড়ায় জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়কে। তার বদলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অপেক্ষাকৃত তরুণ মুখ ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লাকে। সম্প্রতি, হাওড়ায় দুর্নীতির প্রসঙ্গে দলের তিন জনকে শোকজ করেছিলেন প্রাক্তন সভাপতি আরুপ রায়। সে সময়ে হাওড়া জেলার পর্যবেক্ষক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদ মধ্যমের সামনে বলে ছিলেন, ‘চুনোপুঁটিদের ধরে লাভ নেই রাঘববোয়ালদের ধরতে হবে।’ তারপরেই দলের অন্দরেই রাজীবকে নিয়ে শুরু হয়ে যায় সংঘাতের আবহ। কিন্তু রাজীবের সেদিনকার কথা কতটা তাৎপর্যবহ ছিল তা তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদল এরপর পরিষ্কার হয়ে গেল।
অন্যদিকে, নদিয়ায় জেলা সভাপতি করা হয়েছে সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে। নদীয়ার জেলা সভাপতি, গৌরীশংকর দত্তকে সরানো হয়। সম্প্রতি মহুয়া মৈত্র সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তার এলাকার বিভিন্ন কাজের খতিয়ান তুলে ধরেছিলেন। কোন দলীয় বিরোধের কথা মুখে না বললেও কাজের নিরিখে বিভিন্ন পঞ্চায়েতের প্রতি অসন্তোষ জাহির করেছিলেন। যে উন্নয়ন এর কাজ কি দলনেত্রী একুশের হাতিয়ার করতে চাইছেন মানুষের জনসংযোগের জন্য সেখানেই খামতি। পাশাপাশি গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ভালো ছিল না। সে কারণেই গৌরীশংকর দত্ত কে সরিয়ে মহুয়া মিত্র কে সভাপতি পদ দেওয়া হয়।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, একুশের লড়াইয়ের আগে মানুষের কাছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তৈরি করতেই দল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।  শুধু তরুণ নেতৃত্বই নয়, স্বচ্ছ মুখ হিসেবেও এদের তুলে ধরতে চাওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তাঁদেরকে মুখ করেই প্রচার চালাতে চাইছে তৃণমূল। প্রবীণ নেতাদের হয় পদচ্যুত করা হয়েছে নতুবা উচ্চ পদ দেওয়া হয়েছে গুরুত্ব বিচার করে। কোনও নেতা-নেত্রীর প্রভাব প্রতিপত্তি না ভেবে তিনি জোর দিয়েছেন স্বচ্ছতাকে। তিনি মনে করেন মানুষ চাইলে তাঁকে রাখবেন। মানুষের কাছে তাই এমন নেতাকে তুলে ধরতে হবে তাঁর ইমেজ একেবারেই স্বচ্ছ। সেই কারণেই সভাপতি হিসেবে আনকোরা মুখকেও এনেছেন তিনি।

Related Articles

Back to top button
Close