fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ‘জামাই আদরে রাখা অসম্ভব’: শতাব্দী রায়

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ‘অব্যবস্থা’র বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছে বিরোধীরা। এই ইস্যুতে মুখ খুলে এবার বিতর্কে জড়ালেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। তবে শনিবার সাঁইথিয়ায় একাধিক প্রশাসনিক বৈঠক করেন শতাব্দী রায়। সেই সময় পরিযায়ী শ্রমিকদের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। বীরভূমের তারকা সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, ‘সবাইকে জামাই আদরে রাখা সম্ভব নয়। মাছ দিলে মাংস চাইছে। মাংস দিলে ডিম। এখন অস্থিরতার সময়। এলাকায় ফিরে সকলে বাড়ি ফিরতে চাইছেন। এটাই তো স্বাভাবিক। একজন এলে যে আদর যত্ন মিলবে হাজার জন এলে তো তা হবে না। তাই একটু মানিয়ে নিয়ে চলতে হবে’।

তবে তিনি এও বলেন, এই ক্ষোভ বিক্ষোভ তৈরি করা হচ্ছে। বীরভূমের সাংসদের এহেন মন্তব্যকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলার বিরোধী নেতারা। বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডলের কটাক্ষ, কোয়ারেন্টাইনে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকরা অবশ্যই তাঁর মতো বিলাসবহুল ব্যবস্থা চাইছেন না। তিনি আরও বলেন, এই জেলার পরিযায়ী শ্রমিকরা কী ভয়ানক দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন সেটা আদৌ উনি দেখেছেন কিনা সন্দেহ। বিজেপি নেতার দাবি, গোডাউনে চাল-গম রাখার মতোই আলো-পাখাহীন ঘরে পরিযায়ী শ্রমিকদের রাখা হয়েছে। অথচ এলাকার সাংসদ বলছেন পরিযায়ীরা কী জামাই আদর চাইছেন? শ্যামাপদ মণ্ডলের অভিযোগ, বীরভূমের সাংসদ এখানকার মানুষকে অপমান করেছেন। তাঁকে এই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।

আরও পড়ুন: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পরিবহণ সম্পূর্ণ চালু না হওয়ায় বিপুল ক্ষতির মুখে রফতানি বাণিজ্য

সম্প্রতি রাজ্যে একের পর এক আসছে শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেন। তার ফলে ভিনরাজ্য থেকে ফিরছেন বহু পরিযায়ী শ্রমিক। অন্যত্র থেকে আসার ফলে পরিযায়ী শ্রমিকদের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে যথেষ্টই। তবে শুধু আশঙ্কাই নয়। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরও মিলছে। তাই তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সে কারণে একাধিক স্কুল, কলেজে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারও তৈরি করেছে সরকার। দেওয়া হচ্ছে খাবারদাবারও। তবে পরিযায়ী শ্রমিকরা মাঝেমধ্যেই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলির অবস্থা মোটেও ভাল নয়। সেখানে নেই আলো। নেই পর্যাপ্ত জলও। আবার কিছু কিছু কোয়ারেন্টাইন সেন্টার দুর্গন্ধে ভরা বলেও দাবি অনেকের। খাবারও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না বলেও সুর চড়াচ্ছেন অনেকেই। এই পরিস্থিতিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন বীরভূমের তারকা সাংসদ শতাব্দী রায়।

Related Articles

Back to top button
Close