fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নিরলস সেবার পাশাপাশি দশ হাজার টাকা দান করলেন আশাকর্মী

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : পূর্ব মেদিনীপুর জেলাকে ‘হটস্পট’ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বভাবতই কাজের চাপ বেড়েছে জেলার আশাকর্মীদের। যতসামান্য বেতনেই গ্রামাঞ্চলে বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্যসংগ্রহ এবং আদান প্রদানের কাজে এঁরাই সবচেয়ে মাটির কাছাকাছি। এহেন আশাকর্মী স্মিতা চক্রবর্তী কোরোনা ভাইরাস মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে দান করলেন দশ হাজার টাকা।

রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রত্যেকদিন বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে করোনা নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ আর্থিক ফান্ড তৈরি করেছেন। তবে এই ফান্ড যথেষ্ট নয়। তাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীর কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে বহু সংগঠন সহ অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে টাকা দিচ্ছেন। এবার মানুষের সেবার পাশাপাশি এই ত্রাণ তহবিলে হাত বাড়িয়ে দিলেন সাইরা গ্রামের আশাকর্মী স্মিতা চক্রবর্তী। তাঁর এই মহৎ কীর্তি একটা আলাদা দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বলে জানান শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সুমন মন্ডল।

আরও পড়ুন: রেড ক্রশের উদ্যোগে হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি শিখছে মেদিনীপুর

শুক্রবার স্মিতা সরাসরি সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের হাতে চেক তুলে দেন। উপস্থিত ছিলেন ব্লকের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ জয়দেব বর্মন। বর্তমানে করোনা আবহ এতোটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে দিনরাত এক করে কাজে লেগে পড়েছেন সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা। সেই সঙ্গে সেবার কাজে এগিয়ে এসেছেন অসংখ্য আশাকর্মীরাও। এই ব্লকের সাবলআড়া এবং বল্লুক গ্রামে বেশকিছু কোরোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মেলায় প্রশাসন ঐ দুটি গ্রামে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এমতবস্থায় এখানকার একজন আশাকর্মীর এহেন সদর্থক উদ্যোগে সবাই খুশি।

স্মিতা চক্রবর্তী বলেন, “শুধু সেবাই নয়, আমাদের কর্তব্য সেবার জন্য সবকিছুর নজর রাখা। তাই আমি মুখ‍্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে এই সামান্য অর্থ তুলে দিলাম।” বর্তমানে করোনা আতঙ্কের আবহে দিনরাত এ গ্রাম থেকে ও গ্রাম মানুষকে সচেতন করার কাজে নিয়োজিত তিনি। কোনো ব্যাক্তির মধ্যে কোন রোগ লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে নিজেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন‌। গোটা দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার কথাও তাঁর অজানা নয়। সামনে আরও কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। এমতবস্থায় তাঁর মতো অতি সাধারণ স্বাস্থ্যকর্মীর এহেন মহানুভবতা এক বিরল নজির সৃষ্টি করেছে এলাকায়।

Related Articles

Back to top button
Close