fbpx
অন্যান্যঅসমক্রিকেটখেলাগুরুত্বপূর্ণফুটবলহেডলাইন

খেলা ছাড়াও সামাজিকতায়‌ও এগিয়ে শিলচরের ‘কল্লোল সংঘ’

তাজ উদ্দিন, শিলচর:  খেলার জগতে একটু দেরিতে পা রাখলেও বর্তমানে শিলচরের ফুটবল ও ক্রিকেটে নিয়মিত অংশ নিয়ে চলেছে ‘কল্লোল সংঘ’। ভারতের স্বাধীনতার বছর অর্থাৎ ১৯৪৭ সালে কল্লোল সংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মধ্যে তাদের প্রথম কয়েকটি বছর কেটে যায়। এরপর খেলাধুলায় অংশ নিলেও সেটা ছিল সীমিত আকারে। শিলচর ডি এস এ-র ছাতার নিচে আসার পর থেকে ক্রীড়া জগতে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে থাকে শহরের এই ক্লাবটি। এরপর থেকে ফুটবল এবং ক্রিকেটে এ ডিভিশনে অনেক বছর খেলেছে তারা। ভলিবলে তো টানা চার বছর চ্যাম্পিয়ন হয়।

আরও পড়ুন: মারণ ভাইরাসকে হারিয়ে বাড়ি ফিরলেন মন্ত্রী সুজিত বসু

১৯৯০ সালে চিন্ময় সূত্রধর ক্লাব সচিব থাকাকালীন শিলচর ডি এস এ-র অ্যাফিলিয়েশন পায় কল্লোল সংঘ। পরের বছর থেকে ফুটবল এবং ক্রিকেট লিগে বি ডিভিশনে অংশ নেয় তারা। তবে গত শতাব্দীতে বড় কোনও সাফল্য পায়নি। আরেকটি মজার ব্যাপার হল, ক্লাবটি সাফল্যে থাকার সময় একসঙ্গে ফুটবল-ক্রিকেটে সুনাম কুড়িয়েছে। আবার ব্যর্থতাও এসেছে হাত ধরাধরি করে। বিগত ২০১৯-২০ মরশুমে কল্লোল সংঘের পারফরম্যান্স পড়ে যায়। তারা ফুটবলে বি ডিভিশনে নেমে যায়। ক্রিকেটেও এ ডিভিশন থেকে অবনমন ঘটে।

এর আগে ২০০৭-০৮ মরশুমে একই সঙ্গে তাদের ফুটবল এবং ক্রিকেটের দল বি ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন হয়ে জেলার সর্বোচ্চ লিগে খেলেছিল। এখন অবশ্য উভয় ক্ষেত্রেই সুপার ডিভিশন চালু হয়ে গেছে। প্রথমবার এ ডিভিশনে খেলতে নেমে তেমন সুবিধা করতে পারেনি কল্লোল সংঘ। ফলে এক-দুই মরশুমের মধ্যেই অবনমন ঘটে যায় তাদের। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয় তারা। ২০১০-১১ মরশুমে আবার‌ও বি ডিভিশন ক্রিকেট খেতাব জেতে। ২০১৩-১৪ মরশুমে এ ডিভিশন ফুটবলেও ফিরে আসে তারা।

 

এই আসা-যাওয়ার মধ্যে শিলচরের ক্রিকেটে কল্লোল সংঘের সেরা সাফল্য ২০১৩ সালে। সেবার টেস্ট ম্যাচ ফরম্যাটের টু ডে’জ ক্রিকেটে তারা রানার্স-আপ হয়। ক্লাবের সমৃদ্ধ ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে শিলচরের অনেক তারকা ক্রিকেটার এই দলের জার্সি পরেছেন। তাঁদের মধ্যে সুজয় দত্তরায়, কৃষ্ণ বাহাদুর ছেত্রী, মেহবুব আলম মজুমদার, রাজেন্দ্র প্রসাদ সিং, নিরঞ্জন দাস উল্লেখযোগ্য।

কল্লোল সংঘের বর্তমান সচিব অতনু ভট্টাচার্য একসময় শিলচর ডি এস এ-র বলস শাখার সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময় ক্লাবের ভলিবল দল‌ও প্রচুর সাফল্যের মুখ দেখে। ২০১১ থেকে ‘১৪ পর্যন্ত টানা চার বছর ডি এস এ-র ভলিবল খেতাব জেতে কল্লোল সংঘ।

এলাকার উন্নতির দিকে নজর রাখার পাশাপাশি দুর্গাপুজো ও কালীপুজো আয়োজন করে কল্লোল সংঘ। তারা দীপাবলিতে যুগশঙ্খ পত্রিকাগোষ্ঠী আয়োজিত সুন্দর আলোর উৎসব প্রতিযোগিতায় একাধিকবার বিজয়ী হয়েছে। এছাড়া নিজেরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণীজনদের প্রতিবছর কল্লোল সম্মাননা প্রদান করে থাকে।

আরও পড়ুন:সাতসকালে ভেঙে পড়ল তিনতলা বাড়ি! এলাকায় আতঙ্ক

২০১০ সালে ক্লাবের পাকা ঘর তৈরি করা হয়। এর ছয় বছরের মাথায় তৈরি করা হয় ক্লাবের আর সি সি বিল্ডিং। রাধামাধব কলেজ রোডের এই ক্লাবে নিয়মিত ব্যায়াম ও যোগাসন চর্চা হয়ে থাকে। সেলাই প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য শিবির এমনকি দুঃস্থদের বিয়ের ব্যবস্থাও করে থাকে ক্লাব।

১৯৪৭-এ দাস পুরকায়স্থ পদবীর জনৈক ভদ্রলোক ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। সচিব ছিলেন সব্যসাচী বসু। পরবর্তী সভাপতিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নির্মলেন্দু দাস লস্কর, কমলেন্দু ভট্টাচার্য, গোপাল চৌধুরী এবং বর্তমানে সৌগত সোম। ২০০৬ সাল থেকে অতনু ভট্টাচার্য ক্লাবের সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

 

Related Articles

Back to top button
Close