fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আলিপুরদুয়ারে পিছিয়ে তৃণমূল সব আসনে এগিয়ে বিজেপি

রক্তিম দাশ, কলকাতা: একুশের ফাইনাল রাউন্ডের আগেই আলিপুরদুয়ারে কিস্তিমাত করে আছে গেরুয়া শিবির। ২০১৬-ও বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র একটি আসনে জিতলেও তিন বছর পরে ২০১৯ এই লোকসভার অর্ন্তগত ৭ টি  বিধানসভায় এগিয়ে থেকে একুশের লড়াইয়ে নামতে চলেছে বিজেপি। একদা বামেদের এবং পরবর্তীতে তৃণমূলের ঘাঁটি বলে পরিচিত এই বিধানসভাগুলোতে এখন গেরুয়া রঙ লেগেছে।

আলিপুরদুয়ার লোকসভা আসনটি  তুফানগঞ্জ, কুমারগ্রাম (এসটি), কালচিনি (এসটি), আলিপুরদুয়ার, ফালাকাটা (এসসি), মাদারিহাট (এসটি) এবং নাগরাকাটা (এসটি) বিধানসভা নিয়ে গঠিত। এই ৭টি বিধানসভার ২০১৬-তে ফলাফল ছিল তৃণমূল ৬ এবং বিজেপি মাত্র ১।

তুফানগঞ্জ বিধানসভা ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ছিল সিপিএমের দখলে ছিল। ২০১১-২০১৬-য় এই আসনটি তৃণমূল দখল করে। ২০১৬ বিধানসভায় তুফানগঞ্জ কেন্দ্রে তৃণমূলের ফজল করিম মিঞা ৮৫০৫২ (৪৪.২০ শতাংশ) কংগ্রেসের শ্যামল চৌধুরী ৬৯৭৮২(৩৬.২৬ শতাংশ) এবং বিজেপির বিভাস সেন ইশোর ৩০০৪৮ (১৫.৬০শতাংশ) ভোট পেয়েছিলেন।  এই কেন্দ্রে তৃণমূল ১৫২৭০ ভোটে জয় লাভ করে।  কিন্তু ২০১৯-র লোকসভায় ফল উলটে এই কেন্দ্রে বিজেপি ৯৮৭৭৬, তৃণমূল ৯১২৯০ এবং বাম মাত্র ৫৩৯২ টি ভোট পান। বিজেপি এই কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছে ৭৪৮৬ ভোটে।

আরও পড়ুন:ভূট্টার দানায় রবীন্দ্রনাথ, দেশলাই কাঠিতে ৪৭ জন স্বাধীনতা সংগ্রামী… সৃষ্টিতে মগ্ন শিল্পী বিমান আদক

কুমারগ্রাম বিধানসভা ১৯৭৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত ছিল বামশরিক আরএসপির দখলে। ২০১৪-ও উপনির্বাচনেও এই বিধানসভাটি ফের আরএসপির দখলে যায়। ২০১৬-য় এই আসনটি তৃণমূল দখল করে। ২০১৬-তে কুমারগ্রাম কেন্দ্রে তৃণমূলের জেমস কুজুর ৭৭৬৬৮ (৩৭.২৬ শতাংশ), আরএসপির মনোজ কুমার ওরাঁও ৭১৫১৫ (৩৪.৩০ শতাংশ)এবং বিজেপির লেওস কুজুর ৪৫১৩৭ (২১.৬০ শতাংশ) ভোট পান। এই কেন্দ্রে তৃণমূল  ৬১৫৩ ভোটে জয়ী হয়। কিন্তু ২০১৯ লোকসভায় বিজেপি এই কেন্দ্রে ১১৬০২৩, তৃণমূল ৮৭২১০ এবং বাম ৯৩৪৩ ভোট পায়। এই আসনটিতে বিজেপি ২৮৮১৩ ভোটে এগিয়ে।

কালচিনি কেন্দ্রটি ১৯৫৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত কখন কংগ্রেস কখন বা আরএসপির দখলে ছিল। ২০০৯ এবং ২০১১-তে এই আসনটিতে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থনে জয়লাভ করেন নির্দল প্রার্থী উইলসন চম্প্রামারি। ২০১৬-তে আসনটি তৃণমূলের দখলে যায়। তৃণমূলের উইলসন চম্প্রামারি ৬২০৬১ (৩৪.৯৯ শতাংশ), বিজেপির বিশাল লামা ৬০,৫৫০ (৩৪.১৪ শতাংশ) এবং কংগ্রেসের অভিজিৎ নারজিনারি ১৪২২০ (৮.০১%) ভোট পান। এই কেন্দ্রে তৃণমূল  মাত্র ১৫১১ ভোটে জয়ী হয়। কিন্তু ২০১৯ লোকসভায় বিজেপি এই কেন্দ্রে ১১১৪৭৭, তৃণমূল ৬৪০৪৫,কংগ্রেস ৪৮৬০ ভোট পায়। এই আসনটিতে বিজেপি ২৮৮১৩ ভোটে এগিয়ে।

আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রটি ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আরএসপির দখলে ছিল। ২০১১-তে আসনটি তৃণমূল সমর্থনে জেতে কংগ্রেস। ২০১৬-তে আসনটি যায় তৃণমূলের দখলে। তৃণমূলের সৌরভ চক্রবর্তী ৮৯৬৯৫ (৪৪.০৮৮ শতাংশ), কংগ্রেসের বিশ্বরঞ্জন সরকার ৭৭৭৩৭ (৩৮% শতাংশ) এবং বিজেপির কুশল চট্টোপাধ্যায় ২০,০৯৮ (১০ শতাংশ) ভোট পান। এই কেন্দ্রে তৃণমূল ১১৯৫৮ ভোটে জয়লাভ করে। ২০১৯-র লোকসভায় এই আসনটিতে বিজেপি ১১৪৮৭৯, তৃণমূল ৭৭৮৫৯ এবং বাম পায় ৮৪৫৫ ভোট। বিজেপি এই আসনটিতে এগিয়ে ৩৭০২০ ভোটে এগিয়ে।

আরও পড়ুন:বাড়ছে বিপদ, ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮ লক্ষ ছুঁইছুঁই

ফালাকাটা বিধানসভাটি ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ছিল সিপিএমের দখলে। ২০১১-তে এই আসনটি জেতে তৃণমূল।  ২০১৬-র বিধানসভায় আসনটি ফের পায় তৃণমূল। তৃণমূলের কংগ্রেস অনিল অধিকারী ৮৬৬৪৭ (৪৩.৭৭শতাংশ), সিপিএমের ক্ষিতীশ চন্দ্র রায় ৬৯,৮০৮ (৩৫.২৬ শতাংশ), বিজেপির নারায়ণচন্দ্র ম-ল ৩০৬৩৯ (১৫.৬০ শতাংশ) ভোট পান। তৃণমূল এই আসনটি জেতে ১৬৮৩৯ ভোটে। ২০১৯ এর লোকসভায় এই আসনটিতে বিজেপি ১০০২৮০, তৃণমূল ৮২২১০ এবং বাম ১০২৪৮। এই আসনটিতে বিজেপি এগিয়ে ১৮০৭০ ভোটে।

মাদারিহাট বিধানসভাটি ১৯৬৯ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত একটানা আরএসপি জেতার পর ২০১৬ সালে এই আসনটি চলে যায় বিজেপির দখলে। বিজেপির মনোজ টিগ্গা ৬৬৯৮৯ (৪৩.৯৮ শতাংশ),তৃণমূলের পদম লামা ৪৪৯৫১ (২৯.৫১ শতাংশ) এবং আরএসপির কুমারী কুজুর ২৯৮৮৫ (১৯.৬২শতাংশ) ভোট পেয়েছিলেন। বিজেপি এই আসনে ২২৩০৮ ভোটে জয় লাভ করে। এই জয়ের ধারাকে অব্যহত রাখে গেরুয়া শিবির ২০১৯ লোকসভায়। লোকসভা ভোটে এই আসনে বিজেপি ৯৩৪৮৮,তৃণমূল ৪৯৬৫০ এবং বাম ৫৫৮৬ ভোট পায়। বিপুল ভোট বাড়িয়ে বিজেপি এই আসনটিতে এগিয়ে আছে ৪৩৮৩৮ ভোটে তৃণমূলের থেকে।

নাগরাকাটা বিধানসভাটি ১৯৭১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত একটানা ছিল সিপিএমের দখলে। ২০১১-তে তৃণমূলের সমর্থনে এই আসনটি জয়লাভ করে কংগ্রেস। ২০১৬-তে আসনটি যায় তৃণমূলের দখলে। তৃণমূলের সুকড়া মুন্ডা ৫৭৩০৬ (৩২.৪৬ শতাংশ), কংগ্রেসের জোসেফ মুন্ডা ৫৪০৭৮ (৩০.৬০ শতাংশ) এবং বিজেপির জন বারলা ৪৭৮৩৬ (২৭.০৯ শতাংশ) ভোট পান। কিন্তু ২০১৯এর লোকসভায় বিজেপির প্রার্থী জন বারলা এই আসনের তাঁর ভোট অনেকটাই বাড়িয়ে নেন। তিনি পান ১০৩৮৬৫। অপরদিকে তৃণমূল ৫৩৬২১ এবং বাম পায় ১০৬৪১ ভোট। এই আসনটিতে ফলত বিজেপি এগিয়ে ৫০২৪৪ ভোটে।

Related Articles

Back to top button
Close