fbpx
কলকাতাহেডলাইন

বাঁশদ্রোণীতে পুলিশের সঙ্গে বিজেপির সংর্ঘষ, গ্রেফতার অর্জুন-সৌমিত্র সহ ৪৮

রক্তিম দাশ, কলকাতা: গড়িয়া শ্মশান কাণ্ডের প্রতিবাদে স্মারকলিপি জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বুধবার বাঁশদ্রোণীতে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লেন বিজেপির কর্মীরা। উত্তেজিত বিজেপি কর্মীদের সরাতে পুলিশের ব্যাপক লাটিচার্জে মারাত্বক আহত হলেন এক যুবকর্মী। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার হলেন সাংসদ অর্জুন সিং, যুবমোর্চার সভাপতি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ সহ ৪৮ জন বিজেপিকর্মী।

বিজেপির অভিযোগ, তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিনা প্ররোচনায় লাটি চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও পুলিশের পালটা দাবি, করোনা পরিস্থিতিতে জমায়েতে বাধা দেওয়ায় অযথা অশান্তি করেছে বিজেপি।

 

 

এদিন গড়িয়া শ্মশান কাণ্ডের প্রতিবাদে বাঁশদ্রোনী থানায় ডেপুটেশনের কর্মসূচি নিয়ে ছিল বিজেপি। দুপুর আড়াইটে নাগাদ অর্জুন সিং , সৌমিত্র খাঁ এবং বিজেপির দক্ষিণ কলকাতার সভাপতি মোহন রাও গড়িয়া শ্মাশান পরিদর্শনে যান। সেখান থেকে তাঁরা এনসি বোস রোড়ে ঊষা বাসষ্ট্যান্ডে এসে উপস্থিত হন। ততক্ষণে বিজেপিকর্মীরা জড়ো হয়ে গিয়েছিলেন। এরপরই অর্জুন সিং-সৌমিত্র খাঁর নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা মিছিল করে স্লোগান দিতে দিতে ঊষা ব্রীজ পেরিয়ে বাঁশদ্রোনী থানার দিতে এগোতে থাকেন।

 

 

থানার একশো মিটার দূরে বাশঁদ্রোনী থানার পুলিশ তাঁদের গতিরোধ করেন। বিজেপি নেতারা দাবি করেন তাঁরা থানায় গিয়ে ডেপুটেশন দেবেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের মিছিল করে থানায় যেতে বাঁধা দেয় বলে অভিযোগ। এরপরেই পুলিশের সঙ্গে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়েন অর্জুন সিং, সৌমিত্র খাঁনরা। একদল বিজেপি সমর্থক পুলিশের বাঁধা সরিয়ে থানার দিকে এগিয়ে য়ান। এই সময় অর্জুন সিং, সৌমিত্র খাঁ, মোহন রাও সহ ৪ জন বিজেপিকর্মীকে গ্রেফতার করে একটি জিপে তোলে পুলিশ। এরপরেই উত্তেজনা চরমে উঠে। বিজেপি কর্মীরা ওই জিপের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। জিপ ঘিরে পুলিশে সঙ্গে চলে ধাক্কাধাক্কি। শুরু হয় দুপক্ষের ব্যাপক হাতাহাতি। জিপের সামনে থেকে বিজেপির কর্মীদের কয়েকজনকে চ্যাংদোলা করে একটু দূরে থাকা ভ্যানে তুলে নিয়ে যান পুলিশকর্মীরা।

 

 

এই সময় বেশ কিছু মহিলাকর্মী ঊষা ব্রীজ থেকে থানার দিকে আসতে গেলে পুলিশ তাঁদের লাটি হাতে তাড়া করে। এই সময় পুলিশ লাটি চার্য করে বলে অভিযোগ। পুলিশের লাটির ঘাঁয়ে মারাত্বক ভাবে জখম হন যুবমোর্চার দক্ষিণ কলকাতার সহসভাপতি রাজীব দত্ত চৌধুরী। তাঁকে বিজয়গড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। তাঁর পিঠে ও ঘাড়ে আঘাত লেগেছে বলে জানা গিয়েছে।  গ্রেফতার হওয়া সাংসদ অর্জুন সিং, যুবমোর্চার সভাপতি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ সহ ৪৮ জন বিজেপিকর্মীকে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

 

এই ঘটনার প্রতিবাদে অর্জুন সিং বলেন,‘ বাংলায় গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। এখানে পিসি-ভাইপো প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি চলছে। রাজার ইচ্ছা যা তাই হচ্ছে। কোনও গণতান্ত্রিক আন্দোলন করা যাবে না। প্রতিটি মানুষকে অপমান করা হচ্ছে। বেওয়ারিশ লাশ হলেও তাকে এভাবে অপমান বিশ্বের কোথাও হয় না। পশ্চিমবঙ্গে কোনও কথা বলতে গেলে মার খেতে হবে, জেল যেতে হবে। আজ আমাদের মহিলা কর্মীদেরও মারা হল, ধরে আনা হল। যতক্ষণ না এই শাসন শেষ না হচ্ছে বাংলার সুদিন আসবে না।’

 

 

সৌমিত্র খাঁ বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে ডেপুটেশন দিয়ে চাইছিলাম পুলিশ নিল না। বাংলায় পুলিশের এখন একটাই কাজ বিজেপি কর্মীদের ওপর অত্যাচার করা আর জেলে ভরা।’

Related Articles

Back to top button
Close