fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ফের রাজনৈতিক সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ভগবানপুর, আহত ৬ বিজেপি কর্মী

মিলন পণ্ডা, পূর্ব মেদিনীপুর: ফের দুই রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর। পুলিশের সামনেই বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মারধরের অভিযোগ উঠলো তৃণমূল আশ্রিত দুস্কৃতিকারী যুবকদের বিরুদ্ধে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় বিজেপির মন্ডল সভাপতি, পঞ্চায়েত সদস্য সহ ছয়জন বিজেপি কর্মী সমর্থক গুরুতর জখম হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে ভগবানপুর গ্রামীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন সঙ্কটজনক অবস্থায় বিজেপি কর্মী সমর্থক চিকিৎসাধীন রয়েছে। যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় উওেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গিয়েছে পূর্ব ঘোষিত অনুযায়ী পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ভগবানপুর এক ব্লকের শিমুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে বিজেপির ডেপুটেশান ছিল। যদিও এর আগে থেকেই পঞ্চায়েত অফিসের সামনে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীকারী যুবকেরা পঞ্চায়েত অফিসের সশস্ত্র অবস্থায় উপস্থিত ছিল বিজেপির অভিযোগ। যদিও পঞ্চায়েত অফিসে উপস্থিত থাকা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে শাসক দল নেতা কর্মীরা। তৃণমূলের দলীয় পতাকা নিয়ে পঞ্চায়েত অফিসে জমায়েত করার ছবি সংবাদমাধ্যমে ক্যামেরার সামনে ধরা পড়েছে।এদিন বিজেপি কর্মী সমর্থক সুসজ্জিত মিছিল করে পঞ্চায়েতের অফিসের সামনে হাজির হয়। বিজেপির পক্ষে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের কাছে একটি ডেপুটেশান দেন।

একাধিক দুর্নীতি ও একাধিক দাবিতে ভগবানপুর এক ব্লকের শিমুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসের একটি ডেপুটেশান দেন বিজেপি নেতৃত্বরা। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান দীপ্তেন্দু মাইতির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। সেই ভিডিওতে বিজেপি কর্মীদের বারংবার হুমকি দিচ্ছে। বিজেপি করলে কোন সরকারী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে না। একাধিক দাবিতে বিজেপি কর্মী সমর্থক একজোট হয়ে একটি ডেপুটেশান দেন। কোন বিশৃঙ্খলা এড়াতে উপস্থিত ছিলেন ভগবানপুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী।

আরও পড়ুন: ত্রাণ নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছবি ও লেখা সহ ব্যানার, ব্যাপক চাঞ্চল্য দিনহাটায় 

ডেপুটেশান দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় পুলিশের সামনে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করে তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডাবাহিনীরা বলে বিজেপির অভিযোগ। লোহার রড, ধারালো অস্ত্র, বাঁশ দিয়ে বিজেপি কর্মীদের মারধর চালানো হয়। সমস্ত ঘটনা পুলিশের সামনে ঘটে। পুলিশ নির্বিকার ছিল বলে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের অভিযোগ। বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য অশোক প্রামাণিক, বিজেপি মন্ডল সভাপতি স্বপন প্রধান সহ ছয়জন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা আহত হয়। খবর সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়। তাদের মোবাইল ও ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয়। আহত বিজেপি কর্মীদের ভগবানপুর গ্রামীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন সঙ্কটজনক অবস্থায় বিজেপি কর্মীরা চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বিজেপির জেলা সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য তথা বিজেপি নেতা সুব্রত মহাপাত্র বলেন, আমরা ডেপুটেশান দেওয়া জন্য আগে থেকে বিডিও পঞ্চায়েত প্রধান ও পুলিশকে জানিয়ে ছিলাম। আমরা কর্মী সমর্থকরা একজোট হয়ে ভগবানপুর শিমুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে হাজির হই। পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল পঞ্চায়েত অফিসের ডেপুটেশন দেওয়া হয়। বেরিয়ে আসার পর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিকারী যুবকেরা বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এলাকার বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য অশোক প্রামাণিক, মন্ডল সভাপতি স্বপন প্রধানসহ ছয় জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত হয়েছে। তাদেরকে ভগবানপুর গ্রামীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সমস্ত ঘটনায় পুলিশের সামনে ঘটে।পুলিশ কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি।

এ বিষয়ে এগরা মহাকুমা পুলিশ আধিকারিক আকতার আলি বলেন ডেপুটেশানকে ঘিরে পুলিশি ব্যারিকেড করা হয়েছিল। প্রচুর পরিমাণ পুলিশ উপস্থিত ছিল। কোন মারধরের ঘটনা ঘটেনি। যদিও এখনো পর্যন্ত কোন থানায় অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখবে। ভগবানপুর তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি মদনমোহন পাত্র বলেন মিছিল করে পঞ্চায়েত অফিসে ডেপুটেশান দেন বিজেপি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডেপুটেশানকে ঘিরে পুলিশি ব্যারিকেড করা হয়েছিল।এই ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের কেউ জ্বড়িত নয়। বিজেপি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারনে এমন ঘটনা বলে মদনবাবুর দাবি করেন।

Related Articles

Back to top button
Close