fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চিত্তরঞ্জনে ঠিকাদার খুনের ঘটনায় ধৃত ৩ , নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: রেলের ঠিকাদার বলরাম সিং খুনের ঘটনায় শুক্রবার রাতে তিনজনকে গ্রেফতার করলো চিত্তরঞ্জন থানার পুলিশ। ধৃত তিনজনই রেল শহরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ধৃতদের নাম হলো অজয় মন্ডল ওরফে গাঙ্গু, রাহুল সিং ও মুকেশ বাল্মিকী।

শনিবার সকালে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পরে ঠিকাদারের শরীর থেকে দুটি গুলি পান চিকিৎসক। একটি গুলি তার বাঁদিকের কানের পাশ ও বাঁহাতের বগলের নিচের দিয়ে ঢুকেছিলো। দুষ্কৃতীরা কোন দেশী পাইপগান দিয়ে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাকে গুলি চালায় বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, বলরাম সিং তার কর্মীদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ স্কুটি নিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য কারখানার জেএসডি গেটের সামনে যাচ্ছিলেন, সেই সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দূষ্কৃতিরা।

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে, জেএসডি রোডে এত অজ্ঞাত ব্যক্তি কালো রঙের পালসার মোটরসাইকেলে এসে বলরাম সিংকে দাঁড় করিয়ে কথা বলছিলো। সেই সময় জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা দুজন বেরিয়ে এসে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে বুক ও মাথা লক্ষ্য গুলি চালায়। তারপর তিনজন ঐ পালসার মোটরসাইকেলে চেপে পালিয়ে যায়।
বলরাম সিং চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানায় অকশান বা নিলাম হওয়া মালের কেনাবেচার ব্যাবসা করতেন। তার বাবা ওমপ্রকাশ সিং চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার প্রাক্তন কর্মী । বলরাম তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চিত্তরঞ্জন থাকতেন। ৬ মাস আগে বলরাম রূপনারায়ণপুরের আছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মালবহালে নিজের বাড়ি করেন। বাড়িতে রয়েছে বলরামের স্ত্রী কিরণ দেবী ও দুই সন্তান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মানুষ হিসেবে বলরাম বেশ ভালো ছিলো। একবছর আগে সে তার অসুস্থ বাবাকে লিভার দান করেছিলো। এই খুনের ঘটনার পর তদন্ত করতে নেমে পুলিশ চিত্তরঞ্জনের বাসিন্দা অজয় মণ্ডল ওরফে গাঙ্গু , রাহুল সিং ও মুকেশ বাল্মীকিকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় পরেই তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত অজয় মণ্ডল চিত্তরঞ্জন রেল কারখানায় নিলামের কাজ করে। মুকেশ বাল্মীকি অজয় মণ্ডলের কর্মী। রাহুল সিং চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানারই কর্মী।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের পরে অনুমান, ব্যাবসা সংক্রান্ত শত্রুতা থেকেই বলরাম সিংকে খুন করা হয়েছে। ধৃতদের শনিবার আসানসোল আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের জামিন নাকচ করে ৮ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেয়।
এই খুনের ঘটনা পরে সংরক্ষিত রেলশহর চিত্তরঞ্জনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা।

Related Articles

Back to top button
Close