fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

৬ বছর আগের পুনরাবৃত্তি!  ফের একবালপুরে খুন মা, জখম দুই মেয়ে, থানায় আত্মসমর্পণ দেওরের

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ঠিক যেন ৬ বছর আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি। ২১ দিন নিখোঁজ থাকার পরে একবালপুর সুধীর বসু রোডে ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল প্রতিবেশীর দোকানের মেঝে খুঁড়ে প্লাস্টিকের ব্যাগে মিলেছিল তিন জনের পচাগলা দেহ। ঘটনায় ৪ জন গ্রেফতারের পর জানা যায়, মূল অভিযুক্ত সিকন্দর ঘরে ঢুকে খুন করে গিয়েছিল মা ও দুই মেয়েকে। ঠিক সেভাবেই ওই একই এলাকায় শুক্রবার দুপুরে মা ও দুই মেয়েকে ঘরে ঢুকে খুনের চেষ্টা চালিয়ে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করল আততায়ী সুলতান আনসারি। এই ঘটনায় মা আকিদা বেগম (৫০)-এর মৃত্যু হলেও প্রাণে বেঁচে গিয়েছে তার দুই মেয়ে ২০ বছরের শাগুফতা ও ১৮ বছরের তইবা।
জানা গিয়েছে, মৃতার স্বামী হারুণ রশিদ ওই সময়ে বাড়ি ছিলেন না। অভিযুক্ত সুলতান সম্পর্কে হারুণের খুড়তুতো ভাই এবং মৃ়তার দেওর। পারিবারিক সম্পত্তিগত বিবাদ নিয়ে তাদের মধ্যে বহুদিন ধরেই অশান্তি চলছিল।  সূত্রের খবর, এ দিন দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ সকলে জুম্মাবারের নমাজে ব্যস্ত থাকার সময়ে সুধীর বসু রোডের ওই বহুতলের চারতলায় একটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা আকিদা খাতুন (৫০) এবং তাঁর দুই মেয়ের উপর চড়াও হয় হামলাকারী সুলতান আনসারি (২৫)। প্রথমে বচসার পর শিলনোড়া জাতীয় ভারী জিনিস দিয়ে তিন জনকে আঘাত করে এবং তারপর কোপানোর চেষ্টা করে। নমাজ সেরে ফেরার সময়ে আর্তনাদ শুনে সকলে ছুটে যান। ততক্ষণে সুলতান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
 এদিকে ঘটনার পরে সুলতান থানায় পৌঁছে জানায়, সে তিনজনকে খুন করে এসেছে।  দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ। এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে আকিদার মৃত্যু হয়। দুই মেয়ের অবস্থা এখনও সঙ্কটজনক।
ঘটনার পরেই বহুতলটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। ঘটনাস্থলে যান কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড স্কোয়াডের তদন্তকারীরাও। ঘটনাস্থলে পৌঁছন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক তথা রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘‘এরকম ঘটনা আগেও এখানে ঘটেছে। হামলাকারী নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।’’ কারোর প্ররোচনাতে সুলতান এ কাজ করেছিল কি না এবং তার কি পরিকল্পনা ছিল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুুলিশ।

Related Articles

Back to top button
Close