গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

অমিত-কেজরি সাক্ষাতে উঠল না শাহিনবাগ প্রসঙ্গ

ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি: নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দিল্লি দখল করার পর কেজরিওয়াল বার্তা দিয়েছিলেন কেন্দ্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে দিল্লির উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন তিনি। সেই উদ্দেশ্যেই বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

বৈঠক শেষে কেজরিওয়াল জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অমিত শাহর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং বৈঠক যথেষ্ট ফলপ্রসূ হয়েছে। যদিও বহুচর্চিত শাহীনবাগ ইস্যু নিয়ে তাঁর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনও কথা হয়নি বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন কেজরিওয়াল। বৈঠক থেকে বেরিয়ে তিনি জানান, মূলত রাজধানী দিল্লির উন্নয়নের জন্য এবং দিল্লিকে ভারতবর্ষের এক নম্বর শহর ও রাজ্য হিসাবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি নিয়েই আলোচনা হয়েছে। ২০২০ দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে ৭০টির মধ্যে ৬২টি আসন পেয়ে তৃতীয়বারের জন্য দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ফেব্রুয়ারি মাসের ১৬ তারিখ রামলীলা ময়দানে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি সবার মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ বিরোধীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার একটা বার্তা সেই সময় তিনি দিয়ে রেখেছিলেন। একইসঙ্গে বলেছিলেন, নির্বাচনপূর্ব সমস্তরকম বিরোধিতা ভুলে গিয়ে দিল্লির উন্নয়নের লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজধানী দিল্লি কে ভারতবর্ষের এক নম্বর শহর হিসেবে গড়ে তুলতে এবং দিল্লিবাসীকে সুন্দর এবং গণতান্ত্রিক সরকার উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাহায্য পার্থনা করেছিলেন।

                                    আরও পড়ুন: যাদবপুরের লাল দুর্গে গেরুয়া হানা!

উল্লেখ্য, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অরবিন্দ কেজরিওয়াল কিন্তু বিরোধী-বিজেপি দলগুলির কাউকে আমন্ত্রণ জানাননি। এমনকী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে কেজরিওয়ালের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও দিল্লি থেকে নবান্ন পর্যন্ত নিমন্ত্রণপত্র কিন্তু পৌঁছায়নি। কিন্তু শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিজেপি সাংসদ এবং বিধায়কদের নিমন্ত্রণ করেছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ঠিক তার তিনদিনের মধ্যে অমিত শাহর সঙ্গে তাঁর এই বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ বিগত লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী বিজেপি বিরোধী যে জোট তৈরি হয়েছিল তার অন্যতম মুখ ছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কিন্তু ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে সেইভাবে তাঁকে কিন্তু আর বিজেপির বিরোধিতা বা মোদি সরকারের বিরোধিতা করতে দেখা যায়নি। এহেন রাজনৈতিক আবহেই যখন দিল্লিতে নির্বাচন হলো তখন বিজেপি নানাভাবে কেজরিওয়ালকে আক্রমণ করলেও কেজরিওয়াল কিন্তু ভরসা রেখেছেন উন্নয়ন যজ্ঞেই। এমনকি নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতা করে কোনও কথা কিন্তু তার মুখে শোনা যায়নি।

উলটোদিকে দিল্লি নির্বাচনে বিজেপির দায়িত্ব মূলত একা কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন বিজেপির পূর্বতন সভাপতি অমিত শাহ। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ভালো ফল করানোর জন্য সারা দিল্লিতে ৩৫টির বেশি সভা এবং একাধিক রোড শো এবং মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে পর্যন্ত জনসংযোগ করেছেন তিনি। নির্বাচনের পরে অবশ্য আক্রমণাত্মক মেজাজ থেকে দু’পা পিছিয়ে অমিত শাহ স্বীকার করে নিয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে কুকথা বলা তার দলের নেতৃত্বের সঠিক কাজ হয়নি। তারপরেই এই দুই শীর্ষ নেতার বৈঠক ঘিরে রাজধানীর অলিন্দে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। যদিও উভয় তরফ থেকেই এই বিষয়ে বিশেষ কিছু খোলাসা করা হয়নি।

Related Articles

Back to top button
Close