fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

হালিশহরে তৃণমূল বিজেপি সংঘর্ষে জখম ৫, গাড়ি আটকানোয় ক্ষোভ প্রকাশ অর্জুনের

অলোক কুমার ঘোষ, ব্যারাকপুর: লকডাউনের চলাকালীন সময়ে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুর থানার অন্তর্গত হালিশহর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের খাসবাটি এলাকা। উভয় পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৫ জন জখম হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, হালিশহর খাসবাটি এলাকায় শুক্রবার রাত থেকে রাজনৈতিক সংঘর্ষ চলছিল বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে। রাতেই ওই এলাকার বিজেপি কর্মী পরিমল কুণ্ডুর বাড়িতে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ওই বিজেপি কর্মীর বৃদ্ধ বাবার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং তার বাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ।

এদিকে দলীয় কর্মীর পরিবার আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে খাসবাটি এলাকায় যান বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। আক্রান্ত বিজেপি কর্মী পরিমল কুণ্ডুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন অর্জুন সিং। এরপর অর্জুন সিং যখন খাসবাটি এলাকা থেকে বেরিয়ে আসেন, অভিযোগ তখন ফের ওই এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে মাঝ রাস্তা থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে অর্জুন সিং ফের হালিশহর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের খাসবাটি এলাকায় পৌঁছন।

সেই সময় অর্জুন সিংয়ের গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায় বীজপুর এলাকার এক তৃণমূল নেতার গাড়ি। তাতেই ফের ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাংসদ অর্জুন সিং। তিনি গাড়ি থেকে নেমে তেড়ে যান । সাংবাদিকদের বলেন, “এক লোহা চোর এখন বীজপুরের তৃণমূল নেতা হয়েছে, তাকে পুলিশ এসকর্ট দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তার কত সাহস সে আমার গাড়িকে আটকে দিচ্ছে। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আমার উপর হামলা করার পরিকল্পনা চলছে। আজ ও সেই চেষ্টা হল। আমার গাড়ি আটকে দেওয়ার মানে কি ? পুলিশের সামনে আমাদের কর্মীরা মার খাচ্ছে। আমি জানি পুলিশকে জানিয়ে লাভ নেই । তবুও আইনত আমরা আজকের বিষয়টা পুলিশকে জানাচ্ছি ।”

এদিকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে হালিশহর পুরসভার পুর প্রশাসক অংশুমান রায় বলেন, “উনি ভুলে গেছেন উনি একজন সাংসদ। উনি এলাকায় দাদাগিরি করতে এসেছিলেন। জনতা ওনার গাড়ি আটকে দিয়েছে। এখন উনি তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন। এখন মানুষ ঠিকমত খেতে পারছে না। সেখানে উনি ভাঙচুর, হাঙ্গামা করে বেড়াচ্ছেন। এটা কি একজন সাংসদের কাজ ? আমাদের অনেক কর্মী আক্রান্ত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে আছে। নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এটাই আশা করছি।”

এদিকে হালিশহর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের খাসবাটি এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জেরে ওই এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। এলাকায় চলছে পুলিশি টহল।

Related Articles

Back to top button
Close