fbpx
কলকাতাহেডলাইন

হরিদেবপুরে ২ ঘটনায় তিন মৃত্যু! শারীরিক যন্ত্রণায় আত্মহত্যা ছেলের, পুত্রশোকে মৃত্যু দুই বাবার

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একই সঙ্গে একদিনে পর পর ৩ টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটল হরিদেবপুরে। একদিকে হরিদেবপুরের ধারাপাড়ায় শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করলেন এক প্রৌঢ় গোপাল মণ্ডল (৫৯)। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে সঙ্গে সঙ্গে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল তাঁর বাবা ভূতনাথ মণ্ডলেরও (৯৭)। আবার হরিদেবপুরেই বিদ্যাসাগর পল্লীতে কালিপুজোয় তুবড়ি ফেটে মৃত পুত্রের শোক এবং দাম্পত্য কলহ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করলেন আরেক ব্যক্তি কাজল দাস (৪০)।
হরিদেবপুরের ধারাপাড়ার প্রৌঢ় গোপাল মণ্ডল
৩৫ বছর আগে এক দুর্ঘটনার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন অসহ্য পায়ের যন্ত্রণায়। কিন্তু হাসপাতালে দীর্ঘক্ষণ বসে থেকেও বিনা চিকিৎসায় ফেরত আসা আর সরকারি হাসপাতালে ‘করোনা-ভয়’ আর বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে না পারায় ব্যর্থতা- এই তিনের ফাঁসে রীতিমতো মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। তাই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে দাবি পরিবারের।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩৫ বছর আগে গোপাল মণ্ডলের জীবনে একটি দুর্ঘটনা ঘটে। ডান পায়ে মারাত্মক চোট পান তিনি। এরপর তাঁর পায়ে প্লেট বসাতে হয়। ইদানীং সেই পায়েই যন্ত্রণা বেড়ে গিয়েছিল তাঁর। ভ্যান টেনেই সংসার চালাতেন গোপালবাবু।  লকডাউনে রোজগারও ছিল না। খরচের কথা ভেবেই আর ডাক্তার দেখাতে যাননি। সারাদিনই পায়ের ব্যথায় ছটফট করতেন।
চোখের সামনে ছেলের এই যন্ত্রণা সহ্য করতে পারেননি ৯৭ বছরের বৃদ্ধ ভূতনাথ মণ্ডল। ছেলে গোপালের চিকিৎসার জন্য নিজের অল্প সঞ্চয় থেকেই বউমাকে টাকা দিয়েছিলেন।  শনিবার তাঁকে বেহালা বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যান। অভিযোগ, জরুরি বিভাগে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন তিনি। এরপর ডাক্তার না আসায় তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
সরকারি হাসপাতালে করোনা সংক্রমণের ভয় ছিল পরিবারের মনে। আর বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতন আর্থিক অবস্থাও তাঁদের নেই। বাধ্য হয়েই বাড়ি ফিরে আসতে হয় গোপালবাবুকে। আর চিকিৎসা পাবেন না ভেবে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এরপর সকলের চোখের আড়ালে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি।
এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়েই  হৃদরোগে আক্রান্ত হন বাবা ভূতনাথ মণ্ডল। কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁরও মৃত্যু হয় স্ট্রোক হয়ে মৃত্যু হয়ে তাঁরও। এক দিনে পরিবারে ২ টি মৃত্যুর ঘটনায় শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে পরিবার।
এদিকে হরিদেবপুরেরই বিদ্যাসাগর পল্লীতে মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা করলেন আরেক ব্যক্তি কাজল দাস (৪০)। প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, একাধিক কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন কাজলবাবু।
জানা গিয়েছে, গত বছর কালীপুজোর সময় তুবড়ি বিস্ফোরণ ঘটে তুবড়ির খোল গলায় গেঁথে মৃত্যু হয়েছিল তাঁর বছর দশেকের ছেলে আদি দাসের। সেই ঘটনাও সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছিল। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কমিশনারকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রীও। একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে তখন থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে যান কাজল দাস। এরপর দীর্ঘ লকডাউনে বেসরকারি সংস্থায় সিকিউরিটি গার্ডের কাজটিও হারিয়েছেন তিনি। ছেলের মৃত্যুর পর থেকে স্ত্রীর সঙ্গেও বনিবনা হচ্ছিল না। অভিযোগ, এর মধ্যে স্ত্রীর পরকীয়ার ঘটনা সামনে আসতে আরও বেশি মানসিক অবসাদে চলে যান তিনি। বেশ কিছু এই নিয়ে দাম্পত্য কলহও হয়। এরপরই রবিবার সকালে ওই ব্যক্তি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

Related Articles

Back to top button
Close