fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কালীপুজোয় মাটির প্রদীপ বিক্রির আশায় বুক বেঁধেছে ২০০টি পরিবার

জেলা প্রতিনিধি, কোচবিহার: একদিকে করোনা আবহ, অন্যদিকে ভারতে স্বদেশি মানসিকতা। তাই এবার লাভের আশাতে প্রতি বছরের তুলনায় দ্বিগুণ প্রদীপ বানাচ্ছেন ওরা। মাটির প্রদীপের চাহিদা বৃদ্ধির আশায় বুক বাঁধছে কোচবিহারের প্রায় ২০০টি কুমোর পরিবার। ইতিমধ্যেই বায়না শুরু হয়ে গিয়েছে। জায়গাটার নাম চাড়ালজালি। কোচবিহার শহর থেকে ২৩ কিমি দূরত্বে অবস্থিত একটি ছোট গ্রাম। এক সময়ে এই গ্রামে কুমোর পরিবার বাস করত। কথিত আছে, কালই পুজোয় চারালজালির প্রদীপ ছিল কোচবিহার মহারাজার প্রথম পছন্দের। দিন কাটেছে, বদলেছে সময় তবুও নিজেদের জন্মগত শিল্প থেকে সরে আসতে পারেনি গ্রামের ৩৪টি পরিবার।

গ্রামের প্রবীণ নাগরিক নৃপেন পাল জানাচ্ছেন, আজ ৫ পুরুষ থেকে এই মাটির প্রদীপ ও পুজোর ব্যবহৃত সামগ্রীর ব্যবসা করে যাচ্ছেন তারা। বিগত বছরগুলিতে এলাকার পুরুষদের বেশিরভাগটাই ভিন রাজ্যে কাজে যেত, কিন্তু করোনা আবহে এখন সবাই বাড়িতে। তাই তারাও হাত লাগিয়েছেন কাজে।
নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের চারালজালী গ্রাম। রাজ আমলে ২০০ বেশি পরিবার এখানে মাটির প্রদিপ বানাতেন। সেই সময়ে নিত্য প্রয়োজনে ও ব্যবহার হত প্রদীপ। শুধু কোচবিহারে নয় অসম ও বিহারের একটা বিরাট অংশে এই প্রদীপ বিপণন হত।

নৃপেন বাবু জানাচ্ছেন ১/২ আনা করে ৫০ পিস প্রদিপ বিক্রি করতেন তার পূর্বপুরুষরা। প্রতিদিন ১০,০০০ এর বেশি প্রদীপ বিক্রি হত। বিরাট মাটির তন্দুরে পড়ান হত প্রদীপ। বিশেষ করে কালীপুজোর আগে নাওয়া খাওয়ার সময় পাওয়া যেত না। কিন্তু এখন দিন পাল্টেছে।
নৃপেনবাবু বলেন, ১৯০০ সালের প্রথমেও রাজবাড়িতে তাদের তৈরি করা প্রদীপ দেওয়া হত। কিন্তু আধুনিক আলোর শোভাতে এখন মাটির এই প্রদীপ ম্লান।এখনও কিছু বিপণন হয় ঠিকই কিন্তু তা না হওয়ার মতনই। এবার মাটি এসেছে অসম থেকে। মাটির যা দাম হয় তাতে লাভ হয় না বললেই চলে। তবে সব থেকে খুশির তার দুই নাতনি পিংকি পাল ও মামনী পাল দুজনেই প্রদীপ বানাতে পারে। পরিবারের ঐতিহ্য তারা ধরে রাখতে সক্ষম।

আরও পড়ুন: আরও পড়ুন: এই প্রথমবার এয়ার ইন্ডিয়ার CEO পদের দায়িত্ব পেলেন এক মহিলা


পিংকির কথায়, প্রদীপ বানাতে , রং করতে ভালো লাগে। ছোটো থেকেই দেখছি এই কাজ করছে বাড়ির সবাই। তবে আমি পড়াশোনা করে ডাক্তার হতে চাই। মাটির কাজ ছাড়ব না, এটা আমাদের রক্তে আছে।

এই বছরে এখন থেকেই মাটির প্রদীপের চাহিদা দেখা দিয়েছে। চায়না থেকে কম দামের টুনি বাতি আসছে না। তাছাড়া সাধারণ মানুষ আধুনিকতার পাশাপাশি নিজেদের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে মরিয়া। তাই এবার লাভের আশায় এই পরিবারগুলি।

Related Articles

Back to top button
Close