fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ভাঙড়ের কাশীপুরে পুজোর মূল কারিগর কোভিড যোদ্ধারা, প্যান্ডেল তৈরি, চাঁদা তোলা সবই করলেন প্রমীলা বাহিনী

ফিরোজ আহমেদ, ভাঙড়: ভাঙড়ের কাশীপুরে পুজোর মূল কারিগর কোভিড যোদ্ধারা। প্রতিমা বায়না, চাঁদা তোলা, প্যান্ডেল তৈরি সব কিছুতেই প্রথম সারিতে কোভিড যোদ্ধা জয়ন্তী, সোমা, অমৃতা, আসমারা। এরা প্রত্যেকেই স্বাস্থ্যকর্মী। করোনা অতিমারীতে জীবন বাজি রেখে দিন রাত এক করে কাজ করেছেন। এখন সেই কাজের ফাঁকে মেতেছেন পুজোর আয়োজনে। যেহেতু নিজেরা স্বাস্থ্যকর্মী তাই সবার আগে করোনা সচেতনতায় অগ্রাধিকার তাদের। মণ্ডপের প্রবেশ দ্বারে স্যানিটাইজার মেশিন সহ মাস্কের ব্যবস্থা থাকবে। মণ্ডপের দু’পাশে এলসিডি স্ক্রিনে অডিও ভিজুয়্যালের মাধ্যমে করোনা সচেতনতার প্রচার চলবে দর্শনার্থীদের জন্য। পাশাপাশি পুজোর সময় পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের লাইভ টেলিকাস্ট(ভার্চুয়াল পুজো)হবে, যাতে ঘরে বসে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এলাকার লোকজন পুজো দেখতে পারেন। আবার মণ্ডপে না এসে অনলাইনে প্রসাদের আবেদন করতে পারবেন গ্রামের লোকেরা। উদ্যোক্তারা সেই প্রসাদ পাঠিয়ে দেবেন বাড়ি বাড়ি। সব মিলিয়ে কোভিড পরবর্তী পরিস্থিতে সময়োপযোগী ও বাস্তবতায় মোড়া শতধারা প্রমীলা সংঘের পুজো।

নামে সংঘ হলেও আসলে পাড়ার কলেজ পড়ুয়া, গৃহবধূ, চাকুরিরত মহিলাদের আড্ডা, মজা, সমাজসেবার একটা ছোট্ট প্ল্যাটফর্ম। সারাবছর হাড়ভাঙা খাটুনি থেকে কয়েকদিনের সাময়িক মুক্তি পেতে মাতৃ আরাধনা শুরু করেছিলেন ভাঙড়ের মহিলারা। প্রমীলা দল পরিচালিত এই পুজোয় চাঁদা সংগ্রহ থেকে শুরু করে, প্যান্ডেল,ঠাকুর আনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্টান সব কিছুই করেন গণ্ডগ্রামের মহিলারা। শহরতলির এই পুজোতেই এবার হৃদয়ের টানে এক হয়েছেন স্থানীয় একটি মানসিক হোমের আবাসিকরা। পুজোর মূল উদ্যোক্তা জয়ন্তী গঙ্গোপাধ্যায়, অমৃতা চক্রবর্তী দুজনেই স্বাস্থ্য দফতরে চাকুরিরত। সোমা হালদার, আসমা বিবি,আলমারা বিবি, মিঠু বিবি, মীরা মণ্ডলরা আশাকর্মী। প্রত্যকেই এই পুজোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

জয়ন্তীর কথায়, ‘গত ছ’মাস ধরে আমরা সচেতনতার প্রচার চালিয়ে আসছি, বারবার মানুষকে সাবধান করছি। পুজোতেও তাঁর ব্যতিক্রম হবে না। আমরা পুজোর চারদিন মণ্ডপে আনন্দের ফাঁকে দায়িত্বে কর্তব্যে অবিচল থাকব।‘

‘আটচালার চালচ্চিত্রে দেবী দুর্গাতিনাশিনী’ এই ভাবনাকে পাথেয় করে ফি বছর সাবেকি সাজে দুর্গাপুজো করে কাশীপুরের শতধারা প্রমীলা সংঘ। এবছর সেই উদ্যোগে শামিল করোনা যোদ্ধারা। প্রমীলাদের সবরকম সহযোগিতা করছেন ভাঙড়ের দুই ব্লক ও তিন থানার প্রশাসনিক কর্তারা। এই আনন্দযজ্ঞে শামিল এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও। ইতিমধ্যে কিশোর ভারতী স্কুলের কাছে বাঁশ কাঠ দিয়ে প্রাচীন ঠাকুরদালানের আদলে মণ্ডপ বানানোর কাজ চলছে। রাজারহাটের শিল্পী ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস সাবেকি মূর্তি গড়ছেন।

আরও পড়ুন:“তৃণমূলের শত্রু তৃণমূলই” -জনসভার মঞ্চ থেকে মন্তব্য সাংসদ সুনীল মণ্ডলের

পুজো কিমিটির সভাপতি পাপিয়া চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা শুধু পুজোর মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখিনি। আমফানের পর এলাকায় কমিউনিটি কিচেন চালানো, রক্তদান শিবিরের আয়োজন, স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন সহ একাধিক সমাজসেবা মূলক কাজ করেছি।‘ শতধারার উদ্যোগ ও ভাবনাকে কুর্ণিশ জানিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারাও। ভাঙড় ২ ব্লকের বিডিও কৌশিককুমার মাইতি বলেন, ‘শহরতলির সাধারণ মহিলারা মাত্র পাঁচ বছরে একটা গ্রামীণ পুজোকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। পুজোর বাইরেও ওঁরা নানারকম সমাজসেবা মূলক কাজ করেন।গত তিনবছর ধরে ওঁরা সরকারি অনুদানও পাচ্ছেন।‘

Related Articles

Back to top button
Close