fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কেতুগ্রামে লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু অন্তসত্ত্বা বধুর

দিব্যেন্দু রায়, কেতুগ্রাম: স্বামীর সঙ্গে বাইকে চড়ে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার পথে একটি লরির গায়ে ঠেকে গিয়ে উলটে পড়ে বাইকটি। এই দুর্ঘটনায় বধুর স্বামী অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও ন’মাসের অন্তসত্ত্বা ওই বধুর শরীরের মাঝ বরাবর চলে যায় লরির চাকা। ফলে লরির চাকার চাপে বধূর গর্ভস্থ সন্তান বেড়িয়ে এসে রাস্তার ওপরে ছিটকে পড়ে। সোমবার সকালে এই পথ দুর্ঘটনাটি ঘটে কেতুগ্রাম থানার বন্দর বাসস্ট্যান্ডের কাছে।

এদিকে ঘটনাস্থলেই সাবিরা বেগম(২৮) নামে ওই বধুর মৃত্যু হলেও তখনও জীবিত ছিল তাঁর কন্যাভ্রুনটি। শেষে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ভ্রুনটিকে উদ্ধার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে আনার প্রায় পাঁচ ঘন্টা পর ভ্রুনটির মৃত্যু হয়। এটিই বধুর প্রথম সন্তান ছিল বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘাতক লরিটকে আটক করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, চালক পলাতক। তাঁর সন্ধান চালানো হচ্ছে৷

জানা গেছে, মুর্শিদাবাদ জেলার সালার থানা এলাকার মেয়ে সাবিরার সঙ্গে বছর দেড়েক আগে বিয়ে হয় কেতুগ্রামের আমগড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক মৃদুল শেখের। লকডাউনের কারনে মৃদুল বাড়ি ফিরে আসেন। শনিবার তিনি সালারে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। এদিন ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বাইকে চাপিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কাটোয়ায় আসছিলেন মৃদুল। কিন্তু কেতুগ্রামের বন্দর বাসস্ট্যান্ডের কাছে আসতেই মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনাটি ঘটে যায়।

মৃদুল শেখ জানিয়েছে, তিনি রাস্তার সাইড দিয়েই আসছিলেন। কিন্তু একটি লরি তাঁর বাইকের গা ঘেষে চলে যায়। ফলে লরির সাথে তাঁর বাইকের কিছুটা অংশ ঠেকে যাওয়ায় তিনি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে উলটে পড়েন। জানা গেছে, মৃদুল শেখ ও তাঁর স্ত্রী সাবিরা বেগম দু’জনেই ছিটকে পড়েন । মৃদুল প্রানে রক্ষা পেলেও তাঁর স্ত্রীর শরীরের মধ্যভাগ দিয়ে লরির চাকা চলে যায়। ফলে লরির চাকার চাপে সাবিরার গর্ভস্থ সন্তান ছিটকে বেড়িয়ে আসে। ঘটনাস্থলেই সাবিরার মৃত্যু হলেও তাঁর কন্যাসন্তান তখনও প্রানে বেঁচে ছিল। বেশ কিছুক্ষন ওভাবে পড়ে থাকার পর পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ওই শিশুটি উদ্ধার করে কাটোয়া হাসপাতালে পাঠায়। পাশাপাশি মৃত বধূর দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ এলাকাবাসী।

Related Articles

Back to top button
Close