fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অপছন্দের পাত্রীর সঙ্গে প্রেম, পূর্বস্থলীতে নৃশংসভাবে ছেলেকে খুন করল বাবা

অভিষেক চৌধুরী, কালনা: অপছন্দের পাত্রীর সঙ্গে ছেলের প্রেম, মানতে পারেননি বাবা। অনেক চেষ্টা করেও নাছোড়বান্দা ছেলেকে বাগে আনতে পারেননি। শুধু তাই নয় বোনেদের বিয়ের আগেই প্রেমিকাকে বিয়ে করতে চাওয়ায় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছেলেকে তাড়া বাবার। বাঁচার জন্য মরিয়া চেষ্টা করেও বাবার হাতেই নৃশংসভাবে খুন হতে হল ছেলেকে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী থানার হামিদপুর এলাকায়।পুলিশ জানায়, নিহত ওই যুবকের নাম আলিমউদ্দিন শেখ(২২)। খবর পেয়ে পূর্বস্থলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।রবিবার মৃতদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে, পূর্বস্থলীর হামিদপুরের বাসিন্দা আলিমউদ্দিনের সঙ্গে পাশের গ্রাম খড়দত্ত পাড়ার একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ছেলের এই প্রেমের সম্পর্কের কথা প্রথমে জানতে না পারলেও পরে জানতে পেরে তার বাবা এই সম্পর্কের বিরোধিতা করেন। বারবার ছেলেকে সম্পর্ক থেকে সরে আসার কথা বললেও ছেলে নাছোড়বান্দা মানসিকতা নিয়েই মেয়েটির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলে। শুধু তাই নয়, বাড়িতে থাকা দুই বোনের আগেই প্রেমিকাকে সে বিয়ে করতে চায়।আর তা থেকেই শনিবার রাতে বাবা ও ছেলের মধ্যে বিরোধ পৌঁছায় চরম পর্যায়ে। আর তারপরে সেই ‘অপরাধে’ নিজের ছেলের পেটে চপার ঢুকিয়ে খুন করে বাবা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, ঘটনার সূত্রপাত শনিবার বিকেল থেকেই। আলিমউদ্দিনের প্রেমিকার দিদির বাড়ি হামিদপুরে। শনিবার দিদির বাড়িতেই ছিল ওই প্রেমিকা। আলিমউদ্দিন বিকেলে ছাদে দাঁড়িয়ে ফোনে প্রেমিকার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ গল্পও করে। আর তখনই সেই বিষয়টি চোখে পড়ে যায় তার বাবা আবদুল সালেকের। এরপরেই বাবা ছেলের মধ্যে একপ্রস্থ বচসাও হয়ে যায়। বাবা ছেলেকে শাসিয়ে বলেন, এরপর যদি ওই মেয়েটার সঙ্গে সে সম্পর্ক রাখে তাহলে ছেলেকে তিনি দেখে নেবেন।

নিহত যুবকের মা রেজিনা বিবি বলেন, ‘ছেলের গল্প করা দেখে বিকেল থেকেই আমার স্বামী রেগে ছিলেন। আমি বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম। রাতে ছেলে খাওয়াদাওয়া সেরে ছাদে চলে যায়। ছাদে ফোন করার সময় আমার স্বামী বাড়িতে মাংস কাটার ছুরি নিয়ে নিয়ে ছেলের ওপর হামলা করে। ছেলে তখনকার মত নিজেকে বাঁচিয়ে নিচে আমার ঘরে ঢুকে পড়ে। আমার স্বামী ঘরে ঢুকে মারতে আসে। আমি বাঁধা দিতে গেলে আমাকেও কোপ মারে।’

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিমউদ্দিন নিজেকে বাঁচাতে ঘরের জানালার শিক ভেঙে বাইরে পালানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা করে। তখনই তার বাবা ছেলের পাঁজরে চপারটি ঢুকিয়ে দেয়। ওই অবস্থায় ছিটকে পড়ে যান আলিমউদ্দিন।কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থির হয়ে যায় তার দেহ। কেরলে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন আলিমউদ্দিন। একমাত্র ছেলে। দুই বোন পড়াশোনা করে।

নিহতের মাসি সেলিনা বিবি বলেন, ‘জামাইবাবু আলিমউদ্দিনকে বলেছিলেন বোনেদের বিয়ে দিয়ে তবে বিয়ে করতে হবে। অন্যদিকে ওই মেয়েটাকেই বিয়ে করবে বলে জানায় আলিমউদ্দিন। কিন্তু জামাইবাবু তা মানতে চায়নি। তাই রাগের বশে ছেলেকে খুন করে দিল।” পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আপত্তির পরেও সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ায় আলিমউদ্দিনের উপর তাঁর বাবার রাগ ক্রমশই বাড়ছিল।ছেলেকে খুনের পরই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় বাবা আবদুল সালেক। খবর পেয়ে পূর্বস্থলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।মৃতদেহটিকে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রক্তমাখা চপারটি ঘটনাস্থল থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তের খোঁজে চলছে তল্লাশি। রাতেই আহত রেজিনা বিবির চিকিৎসা করানো হয়। তার হাতে ৯ টি সেলাই পড়েছে। আর একমাত্র পুত্রকে এভাবে নৃশংস খুনের ঘটনায় স্তম্ভিত হামিদপুরের মানুষজন।অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এলাকাবাসী।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় নিহতের মা রেজিনা বিবি এফআইআর দায়ের করেছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(গ্রামীণ) ধ্রুব দাস বলেন, ‘একটি খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।’

Related Articles

Back to top button
Close