fbpx
অফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মাধ্যমিকে একই নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ যমজ দুই বোন

মিল্টন পাল, মালদা: মাধ্যমিক পরীক্ষায় যমজ দুই বোনের একই নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। আর এই ঘটনায় উচ্ছছিত পরিবার থেকে পাড়া-প্রতিবেশীদের। এবছর বুধবার মাধ্যমিকে দুই বোন ৫৩৮ করেই নম্বর পেয়েছে। বুধবার দুপুরে ফল প্রকাশের পর ইন্টারনেটে জমজ দুই মেয়ের রেজাল্ট দেখে রীতিমতো হতবাক হয়েছেন অভিভাবকেরা। কিভাবে এটা সম্ভব হল, ভেবে উঠতে পারছেন না পরিবার। মাধ্যমিকে কৃতি ওই দুই জমজ বোনের সাফ কথা , এটা আমাদের মনের মিল।

মালদা শহরের সিঙ্গাতলা এলাকার বাসিন্দা প্রণব ঘোষ দস্তিদার , পেশায় সরকারি কর্মী। বর্তমানে তিনি মালদা মহিলা বিদ্যালয়ের হেড ক্লার্ক পদে কর্মরত। তার দুই জমজ মেয়ে প্রাপ্তি ঘোষ দস্তিদার এবং প্রীচি ঘোষ দস্তিদার মালদা শহরের মালদা গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী। এবছর তাদের মাধ্যমিকের সিট পড়েছিল মালদা শহরের বাঁশবাড়ি এলাকার কৃষ্ণমোহন বালিকা বিদ্যালয়ে। তারা দুইজন পৃথক দুটি ঘরে বসেই পরীক্ষা দিয়েছেন । কিন্তু পরীক্ষার দুজনেরই ফলে সেই ৫৩৮ নম্বর মেলায় সকলকে অবাক করে দিয়েছে।প্রাপ্তি ঘোষ দস্তিদার বাংলায় পেয়েছে ৭৬ ইংরেজিতে ৬১, অংকে ৮১, ভৌতবিজ্ঞানে ৬৫, জীবন বিজ্ঞানে ৯০, ইতিহাসে ৮৩ এবং ভূগোলে ৮২। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৫৩৮।

অন্যদিকে যমজ আরেক বোন প্রাচী ঘোষ দস্তিদার বাংলায় পেয়েছে ৮২, ইংরেজিতে ৬৮, অংকে ৮৩, ভৌত বিজ্ঞানে ৭২, জীবন বিজ্ঞানে ৮০, ইতিহাসে ৬৬ এবং ভূগোলে ৮৭। তাঁরও মোট প্রাপ্ত নম্বর ৫৩৮।দুই জমজ বোনের বিভিন্ন বিষয়ের আলাদা আলাদা নম্বর থাকলেও সর্বমোট নম্বরের তালিকায় ৫৩৮ করে পেয়েছে। দুজনের মাধ্যমিকের এই ফল দেখে অবাক হয়ে গিয়েছেন পাড়া-প্রতিবেশী থেকে পরিবারের লোকেরা।

দুই যমজ বোন প্রাপ্তি ও প্রাচী ঘোষ দস্তিদার জানায় , মাধ্যমিক পরীক্ষায় আমাদের কৃষ্ণমোহন বালিকা বিদ্যালয় সিট পড়েছিল । একজন দোতলার ঘরে এবং আরেকজন নিচতলার আলাদা ঘরে বসেই পরীক্ষা দিয়েছি। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে আলাদা নম্বর হলেও মোট প্রাপ্ত নম্বর একই এসেছে। ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ওই দুই জমজ বোন। মেয়ের বাবা প্রণব ঘোষ দস্তিদার বলেন , দুই মেয়ের রেজাল্ট দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছি। ভালো নম্বর পেয়ে ওরা পাশ করেছে ঠিকই। কিন্তু মোট নম্বর একদম সমানে সমানে, এটাই আমার কাছে বড় পাওনা । ওরা চির জীবন যেন এভাবেই যেন মিলেমিশে থাকতে পারে।

মা দুই মেয়ের একই নম্বর পাওয়াতে বেজায় খুশি মা অর্চিতা ঘোষ দস্তিদার। তিনি বলেন, সাফল্যের সঙ্গে আমার দুই মেয়ে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছে। তার ওপর যমজ নম্বর এটা আরো অবাক করে দেওয়ার মতো। যমজ দুই মেয়ের যমজ নম্বর নিয়ে আমরাও হতবাক হয়েছি। মালদা গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুতপা চ্যাটার্জি জানান, প্রাপ্তি এবং প্রাচীর ঘোষ দস্তিদার ওরা দুই যমজ বোন। মাধ্যমিকে ওরা দুজনেই ৫৩৮ করে পেয়েছে। সত্যি বিষয়টি অবাক করে দেওয়ার মতোই। তবে ভাল ফল করেছে। আশীর্বাদ করি ভবিষ্যতেও যেন ওরা এভাবেই শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য পায়।

Related Articles

Back to top button
Close