fbpx
কলকাতাহেডলাইন

কবি অলোকরঞ্জন স্মরণে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  করোনা পরিস্থিতিতে জীবন যেন একটু থমকে গেছে। আক্রান্তের গ্রাফ বেশিরভাগ সময়ই উর্দ্ধগামী। মৃত্যুর হারও থেমে নেই।  ২০২০ সাল বাঙালির জীবন থেকে কেড়ে নিয়েছে অনেক নক্ষত্রকে। সেইসব নক্ষত্রের মৃত্যুমিছিলে রয়েছেন আন্তর্জাতিক কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত। সৌমিত্র শোক বাঁ-হাতের উল্টোপিঠে মুছে উঠতেই আবার বাঙালির চোখের পাতা ভিজে উঠল গত ১৭ নভেম্বর জার্মানির হির্শবার্গে কবির নিজস্ব বাসভবনে তাঁর প্রয়াণে।

কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত মূলত অনুবাদক। তবে তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থের সংখ্যাও কম না। তাঁর কবিতা আমাদের পরম্পরার অংশ। তিনি অধ্যাপক, গ্যোয়টে-হাইনে-রিলকের অনুবাদক, বিশিষ্ট রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ এবং অবশ্যই একজন শিল্পরসিক মানুষ। গত ৪ ডিসেম্বর কলকাতার আইসিসিআর-এর অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর গ্যালারিতে হয়ে গেল কবির প্রতি শ্রদ্ধায় এক স্মরণসভা। আয়োজনে কল্পনির্ঝর ফাউন্ডেশন ও ঋতবাক।

এই স্মরণসভায় বিশিষ্ট মানুষের কথায় ধরা দিলেন মানুষ অলোকরঞ্জন এবং তাঁর নানা কর্মকাণ্ডের কথা। ভারতীয় এবং জার্মান সংস্কৃতির মেলবন্ধনে তিনি ছিলেন অগ্রপথিক। শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় তিনি ছিলেন ইতিহাস পুরুষ। কবির শব্দচয়নে চমকিত হতে হয়। দুই যুগের ভাষা সংস্কৃতির থেকে তুলে আনা শব্দের অনায়াস ব্যবহার পাঠককে মুগ্ধ করেছে। পবিত্র সরকার বললেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাজামা-পাঞ্জাবীর সঙ্গে স্যান্ডেলের বিপ্লব এনেছিলেন কবি অলোকরঞ্জন। শুধু তাই নয়, নিছক আড্ডা দেওয়ার সময়ও তাঁর ব্যবহৃত শব্দ ছিল মনে রাখার মতো। আপাত দৃষ্টিতে সেইসব শব্দ কঠিন মনে হলেও কবির মুখে তা ছিল অত্যন্ত সাবলীল।

চলচ্চিত্র পরিচালক সুদেষ্ণা রায় ব্যক্ত করলেন তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি। মূলত ‘আন্তিগোনে’ নাটকের স্মৃতিকথাই উঠে এলো তাঁর কথায়। গৌতম ঘোষ, শুভাপ্রসন্ন, সুনীল দাশ, মনসিজ মজুমদার, শুভ্ররঞ্জন দাশগুপ্ত, শৌনক চক্রবর্তী প্রমুখ বিশিষ্ট মানুষের অনেকেই স্বশরীরে, কেউ আবার রেকর্ডবন্দি হয়ে উপস্থিত ছিলেন সভায়। অনেকেই তাঁদের বক্তব্যের পরে পড়ে শোনালেন অলোকরঞ্জনের কবিতা। শেষে ছিল সুরঞ্জন রায়ের পরিচালনায় অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তকে নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র ‘আ ব্রিজ বিটুইন টু কালচারস’।

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close