fbpx
দেশপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ওড়িশায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মৃত ৩, আহত আরও এক মহিলা সহ দুজন

মিলন পণ্ডা, কাঁথি (পূর্ব মেদিনীপুর) : প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মর্মন্তিক মৃত্যু পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথির কেশরকুণ্ডার তিন বাসিন্দার। আহত হলেন এক মহিলা সহ দুইজন। আহতরা বর্তমানে কটক মেডিক্যাল কলেজে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার ভোর ৪টে নাগাদ ওড়িশার জাজপুরের কাছে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে ধর্মশালা থানা এলাকায় চন্ডীখোল সংলগ্ন । পুলিশ এসে রক্তাক্ত অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিছুক্ষনের মধ্যে একের পর এক তিনজনের মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর সংবাদ গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

মৃতরা হলেন ওড়িশার ভুবনেশ্বর থেকে গাড়িতে ওঠা জামাই সুজিত গিরি ও বন্ধু দীপঙ্কর গঞ্জ। দুর্ঘটনার কবলে কেশুরকুঁদার অজগর আলি। গুরুতর আহত সুজিত গিরির স্ত্রী সুনিতা ও গাড়ি চালক সমীরকে পুলিশ প্রথমে ধর্মশালা মেডিক্যাল কলেজ এবং পরে কটক মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করে। দুইজনের অবস্থা সংকটজনক বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার জানতে শুক্রবার সন্ধ্যায় নাগাদ কাঁথির কেশরকুণ্ডা থেকে আত্নীয় পরিজনরা ওড়িশার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, কাঁথির কেশুরকুণ্ডার তিলোত্তমা মিষ্টি দোকানের প্রতিবেশী দোকানে মেয়ে ও জামাই সহ তিনজন হায়দ্রাবাদে থাকতো। লকডাউনের কারণে ট্রেনটি খড়্গপুরে না আসার ফলে ভুবনেশ্বরে নেমে পড়ে তিনজন। বৃহস্পতিবার কাঁথির কেশুরকুণ্ডার তিলোত্তমা মিষ্টি দোকানে সুভাষ করের ছেলে সমীর কর তার ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে পাশের দোকানদারের মেয়ে ও জামাইকে ভুবনেশ্বর থেকে আনতে ওড়িশার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সঙ্গে নেয় বন্ধু অজগর আলি। সমীর কর নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তারপরে ওড়িশার ভুবনেশ্বর থেকে তিনজনকে গাড়িতে তুলে নেয়।

এরপর ওড়িশার জাজপুরের কাছে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে উড়িষ্যার ধর্মশালা থানা এলাকায় চন্ডীখোল সংলগ্ন এলাকায় লরির পেছনের ধাক্কা মারে গাড়িটি। গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে লরির পেছনে ঢুকে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসে পুলিশ। এরপর পাঁচজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনজনের মৃত্যু হয়। পুলিশ গাড়ির নম্বর দেখে আপতত রাজ্যের গাড়ি বলে প্রাথমিক ভাবে জানতে পারেন। গাড়িতে আহত দুজন কথা বলার মতন পরিস্থিতিতে ছিল না।

এরপর তাদের আধার কার্ড দেখে জানতে পারে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কেশুরকুণ্ডার বাসিন্দা। পুলিশ তারপরে পরিবারের সদস্য সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনটি মৃতদেহ ময়না তদন্তের পর পরিবারই হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। গাড়ি খুব দ্রুত গতিতে থাকার কারণে দুর্ঘটনা বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।

Related Articles

Back to top button
Close