fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

রাজনীতিতে আমি বরাবরই ফ্রন্ট ফুটে খেলতে ভালোবাসি: দিলীপ ঘোষ

ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি: ‘রাজনীতিতে আমি বরাবরই ফ্রন্ট ফুটে খেলতে ভালোবাসি’। জেপি নাড্ডার সঙ্গে তার বৈঠকে ঘিরে তৈরি হওয়া যাবতীয় জল্পনার উত্তর সোজা ব্যাটে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দলের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া বিভিন্ন অভিযোগকেও উড়িয়ে দিয়ে দিলীপবাবু সোজা বক্তব্য, অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে যারা আমাদের দলে যোগদান করেছেন তাদের শুধু বিধায়ক সংসদ বানায়নি রাজ্য কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেওয়াসহ বিভিন্ন মোর্চা তাদের হাতে তুলে দিয়েছি । মুকুল রায় তৃণমূলে যোগদান ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা নিয়েও সাবধানী দিলীপ ঘোষ বলেন, মুকুলদা দলে আছেন বলেই আমি জানি। এরপরে সপাটে ছক্কা হাঁকিয়ে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য এগুলো আসলে সবই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জরাজীর্ণ তৃণমূলের রটনা। যত দিন যাচ্ছে  ততই ওরা ক্ষমতা থেকে চলে যাবে বুঝতে পারছে আর ততই ওদের দলের মধ্যে ফাটল বড় হচ্ছে আর আমাদের সম্বন্ধে ভ্রান্ত রটনা করে বেড়াচ্ছে।

উত্তরবঙ্গ সফর শেষ করে শনিবার দিল্লিতে এসেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ । রবিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় তিনি যান বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করতে। জেপি নাড্ডা সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার পর  এই প্রথম দিলীপ ঘোষকে  সময় দেন তিনি। এই প্রসঙ্গে দিলীপবাবুর বক্তব্য,  দিল্লিতে যখন সাংগঠনিক সভা চলছিল  তখন আমি  নাড্ডাজির সঙ্গে দেখা করার  জন্য সময় চেয়েছিলাম  । কারণ পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচন ,শাসকদলের আমাদের দলীয় কর্মীদের উপর বেলাগাম অত্যাচার পুলিশ প্রশাসনের অদ্ভুত ভূমিকা এবং একের পর এক রাজ্য সরকারের দুর্নীতি । কিন্তু সেই সময় নাড্ডাজি যেদিন সময় দিয়েছিলেন সেদিন আমার কলকাতায় ফেরার টিকিট ছিল ।তাই সেদিন দেখা হয়নি । তারপর আমার জন্মদিনে নাড্ডাজি যখন আমায় ফোন করেছিলেন তখনই আমি আরও একবার দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করি । সেই অনুযায়ী আমাদের সময় দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি এবং আমি দিল্লি এসেছি।

বৈঠকের আগে নর্থ এভিনিউর বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘সারা জীবন আমি ফ্রন্টে ফুটে খেলেছি । রাজনীতিতে ও আমি সামনে থেকে লড়াই করতে ভালোবাসি । আমি কারোর পরোয়া করে রাজনীতি করি না, আর রাজনীতিতে আমি কাউকে ভয় ও পাই না ।আমার মনে হয় না যে আমার কোনও দলীয় কর্মী কোনও বিষয়ে অখুশি হয়ে আমার বিরুদ্ধে  অভিযোগ করছেন। কারণ আমি বরাবরই যোগ্যতা বিচার করে দলে পদ দিই। যার জেতার ক্ষমতা আছে যে আমাদের দলীয় নীতি ও আদর্শকে মেনে চলবে সে অবশ্যই দলে জায়গা পাবে। আমাদের দলে আগে যোগ্যতা প্রমান করতে হয় তারপরে নেতৃত্বে যেতে হয়।

এরপর দিলীপবাবু সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘আমি যখন গতবার প্রদেশ সভাপতি ছিলাম তখন ২০১৯-এর  লোকসভা ভোটে বিপুল আসনে জিতে বিপুল ভোটে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে ।সেইসময় কিন্তু কেউ কোনো অভিযোগ করেছেন বলে আপনারা প্রশ্ন তোলেননি? অন্য রাজনৈতিক দল থেকে আমাদের দলে  যারা যোগদান করেছেন তাদের শুধু বিধায়ক বা সাংসদ বানাইনি রাজ্য কমিটিতে ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শাখা সংগঠন গুলোর যাবতীয় দায়িত্ব তাদের হাতে তুলে দিয়েছে । অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে এসব করা হয় না।

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায়ের আবার তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে সাবধানী দিলীপ বলেন, মুকুলদা কেন্দ্রীয় নেতা তার সম্বন্ধে সার্টিফিকেট দেওয়া আমার ঠিক নয়। আমি জানি মুকুল রায় বিজেপিতেই আছেন। উনার একটু শারীরিক সমস্যা চলছে ঠিকই কিন্তু বিজেপিতে উনি আছেন বলে জানিয়েছেন।

সবশেষে দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন আসন্ন তাই তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের মারাত্মক রুপ সবার সামনে চলে আসছে। এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জীর্ণতা থেকে নজর সরানোর জন্য ওরা আমাদের দলীয় নেতৃত্বকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জল্পনা সংবাদমাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে । আসলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হল তৃণমূলের একটা অঙ্গ । যেমন উটের কুজ আছে তেমনি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ছিল আছে এবং থাকবে। কিন্তু এখন ওরা বুঝতে পারছে যে ওদের ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। তাই এই ধরনের বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক প্ররোচনা ওরা সংবাদমাধ্যমে ছড়ানোর চেষ্টা করছে যাতে আমাদের কর্মীদের বিভ্রান্ত করা যায় । কারণ এখন আর খুন করে, মিথ্যা মামলার  ভয় দেখিয়ে জেলে পুরে দিয়ো ওরা বিজেপিকে আটকাতে পারছেনা । তাই বিভ্রান্ত করার কৌশল গ্রহণ করেছে ।কিন্তু আমার বিশ্বাস আমাদের দলীয় কর্মীরা তৃণমূলের এই প্ররোচনায় পা না দিয়ে মোদীজির নেতৃত্ব বিজেপির পতাকা তলে একত্রিত হয়ে সঙ্ঘবদ্ধ লড়াইয়ের মাধ্যমে দুর্নীতি পরায়ন তৃণমূল সরকারকে ২০২১-এ বাংলা থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে সোনার বাংলা গড়ে তুলবে।

Related Articles

Back to top button
Close