fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শিলিগুড়িতে করোনা সংক্রমণে শীর্ষে ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড, ভাবাচ্ছে প্রশাসনকে

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়িতে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। এরমধ্যে ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে সবথেকে বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৭ জন ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন। যা প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে।

 

 

বিভিন্ন ভাষাভাষী ও পেশার মানুষের বসবাস এখানে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল বাইরে থেকে আসা মানুষের সংস্পর্শে এই এলাকায় করোনা সংক্রমণ শুরু হয়েছে। চম্পাসারি, সমরনগর, রাজিবনগর সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় করোনা সংক্রমিত ব্যক্তির খোঁজ প্রতিদিন মিলতে শুরু করায় সংক্রমনের সম্ভাব্য সবদিক খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে প্রশাসন। শিলিগুড়ি মহকুমা শাসক সুমন্ত সহায় জানান, এই ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে এখনও পর্যন্ত যতজন আক্রান্ত হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই ফল, সবজি ও মাছ বিক্রেতা। কোন না কোনভাবে এদের রেগুলেটেড মার্কেটের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তাতেই প্রাথমিকভাবে অনুমান, রেগুলেটেড মার্কেট থেকেই এখানে করোনা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। তাই আমরা রেগুলেটেড মার্কেট কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

 

কিন্তু রেগুলেটেড মার্কেট বন্ধ রাখার পরও সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়তে থাকায় মানুষের সচেতনতার অভাবে দিকটিও উঠে আসে। অভিযোগ, এই এলাকায় মানুষ সেভাবে মাস্ক ব্যবহার করছেন না। বাজারে, রাস্তায় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন না। তাই এলাকার চম্পাসারি বাজারও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

 

রেগুলেটেড মার্কেট থেকে শিলিগুড়িতে করোনা সংক্রমণ ব্যাপক আকার নিতে পারে, সে ব্যাপারে আগেই সতর্ক করেছিল কেন্দ্রীয় দল। পরিদর্শনে এসে এই বাজার ঘুরে এখানকার অবস্থা ও সচেতনতার অভাব দেখে তারা এই সতর্কবাণী শুনিয়েছিল। পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতি কিছু পরামর্শ তারা রেখেছিলেন। যেভাবে ভিন রাজ্য থেকে পণ্য নিয়ে শয়ে শয়ে ট্রাক এই বাজারে আসতো তাতে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যাপারে এই বাজারে আগে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। শহরে করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে রেগুলেটেড মার্কেটের যোগসুত্র পাওয়ার পরই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।

 

 

কিন্তু নাগরিকদের একাংশের প্রশ্ন, এই বাজারে শহরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসা-যাওয়া করতেন। তাহলে শুধু ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডেই কেন বেশি মানুষ করোনা সংক্রমিত হচ্ছেন? এই প্রশ্ন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদেরও ভাবিয়ে তুলেছে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, করোনা সংক্রমণে হটস্পট হয়ে ওঠা এক বা একাধিক রাজ্য থেকে মানুষ কি এখানে আগেই গোপনে এসেছিলেন এবং উপসর্গ না থাকায় তাদের করোনা সংক্রমনের সন্দেহ জাগেনি? সেই অবস্থায় তারা ব্যাপকভাবে মেলামেশা করায় করোনা সংক্রমণ এখানে ছড়িয়ে পড়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close