fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শিলিগুড়ির ইনডোর স্টেডিয়ামে সেফ হোম করাকে কেন্দ্র করে মহকুমা শাসককে ঘিরে বিক্ষোভ স্থানীয়দের

কৃষ্ণা দাস, শিলিগুড়ি: গোটা রাজ্য জুড়ে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। শিলিগুড়িতে ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে সম্প্রতি জেলা  প্রশাসনের তরফে  শিলিগুড়ির ইনডোর স্টেডিয়ামে সেভ হোম করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইনডোর স্টেডিয়ামে ১০০ বেডের সেফ হোম করার কথা।
বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের নির্দেশিত সপ্তাহের প্রথম লকডাউনের দিনে শিলিগুড়ির মহকুমা শাসক, পুরসভার আধিকারিক ও স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলে এলাকায় সেফ হোম করার বিরুদ্ধ সরব হয়ে তাদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয়রা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে আসে শিলিগুড়ি থানার পুলিশ। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
করোনা সংক্রমন যেভাবে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে তাতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। এদিন শিলিগুড়ির ইনডোর স্টেডিয়ামে সেফ হোম করার কথা চাউর হতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা লকডাউন ও সামাজিক স্বাস্থ্যবিধিকে তোয়াক্কা না করে মহকুমা শাসককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। তাদের বক্তব্য জনবহুল এলাকায় সেফ হোম তারা করতে দেবে না। ক্ষুব্ধ হয়ে বাসিন্দারা বাড়ি ছেড়ে বাইরে বেড়িয়ে এসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া শুরু হতেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শিলিগুড়ি থানার পুলিশ।
  মানুষকে এভাবে রাস্তায় বেড়িয়ে আসতে দেখে শিলিগুড়ি থানার আইসি নিজে  বারবার মাইকিং করে মানুষকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ করতে থাকেন। সেফ হোম ও লকডাউন যে সকলের কথা মাথায় রেখেই তা বারবার বুঝিয়ে বলেন। তবুও মানুষ না মানলে লাঠি হাতেই ময়দানে নামতে হয় পুলিশ প্রশাসনকে।এরপর আস্তে আস্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। শিলিগুড়ির মহকুমাশাসক সুমন্ত সহায় বলেন, করোনা সাংক্রমণ যেভাবে বেড়ে চলেছে তাতে টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে শিলিগুড়ির ইনডোর স্টেডিয়ামে ১০০ বেডের সেফ হোমের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী প্রশাসনিক কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভের বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয়রা বাসিন্দার প্রথমে বাধা দেয়। তবে তারাও তো করোনাতে আক্রান্ত হতে পারে। তাদেরও এখানে থাকতে হতে পারে। সবাই মেনে নিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক। শিলিগুড়ি পৌরসভার প্রশাসক মন্ডলির সদস্য শংকর ঘোষও সাধারন মানুষের কাছে আবেদন জানান এলাকায় সেফ হোমের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যেভাবে কোভিডের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আগামী দিনে হাসপাতালে জায়গা সংকুলান নাও হতে পারে তখন সবার ক্ষেত্রেই এই সেফ হোমের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই সবাইকে এ ব্যাপারে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আবেদন জানান তিনি।

Related Articles

Back to top button
Close