fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

দক্ষিণ কলকাতায় ৭ বিধানসভায় জিতবে বিজেপি! দাবি নব নির্বাচিত সভাপতি শঙ্কর শিকদারের

রক্তিম দাশ, কলকাতা: একুশের লড়াইয়ে তৃণমূলকে হারিয়ে দক্ষিণ কলকাতায় ৭ বিধানসভায় জিতবে গেরুয়া শিবির! শুক্রবার বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা জেলার সভাপতি হওয়ার পর প্রথম যুগশঙ্খকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনই দাবি করলেন বিজেপির দক্ষিণ কলকাতার নবনির্বাচিত সভাপতি শঙ্কর শিকদার।

শঙ্কর শিকদার এদিন বলেন,‘ নতুন সভাপতি হয়ে ভাল লাগছে। এটা একটা বড় দায়িত্ব। দল আমার প্রতি আস্থা রেখেছে। আমাদের দলের জনক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম এই জেলায়। এখানে যখন আমরা বিজেপিকে প্রতিষ্টিত করতে পারব তখনও আমার আরও ভাল লাগবে। বলতে পারব সভাপতি হিসাবে আমি এই কাজটা করতে পেরেছি।’

তৃণমূলের গড় বলে পরিচিত দক্ষিণ কলকাতায় বিজেপি কি সফলতা পাবে, এ প্রশ্নের উত্তরে শঙ্করবাবু বলেন, ‘তৃণমূলের গড় বলে কিছু নেই। ৩৪ বছর বামফ্রন্ট ছিল তখনও এই গড়ে কথা শুনতাম। কিন্তু বাংলার মানুষ বুঝতে পারলেন এরা বছরের পর বছর ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে। তখন ওদের উলটে দিল। আজ আমাদের যা সংগঠন আছে। তৃণমূলের তাও ছিল না। বাংলার মানুষের কাছে কোনও বিকল্প ছিল না। তাই মমতা সরকার এসেছিল। আমি বলছি, আজ আমাদের যা সংগঠন আছে একুশে তৃণমূলকে উৎখাত করতে যথেষ্ট। আরও ৬ থেকে ৭ মাস সময় আছে নির্বাচনের। আমরা যে পরিকল্পনা নিচ্ছি,তা তৃণমূলকে নবান্ন থেকে তুলে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেবে।’

এদিন শঙ্করবাবু দাবি করেন,‘ আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বলতে পারি বিজেপি দক্ষিণ কলকাতায় ১০টা বিধানসভার মধ্যে ৭ টা বিধানসভায় তৃণমূলকে হারিয়ে জিতবে। বাকি তিনটে বিধানসভায় আমাদের কাজ চলছে। এর মধ্যে একটা বা দুটোও আমরা পেতে পারে।’

বেশ কয়েকমাস দক্ষিণ কলকাতা জেলার বিজেপির সভাপতি ছিল না, তাতে সাংগঠনিক কোনও সমস্যা হয়নি বলেই মনে করেন নবনির্বাচিত সভাপতি শঙ্কর শিকদার। তিনি বলেন,‘ আমরা কাণ্ডারি বিহীন ছিলাম না। দলীয় সংবিধান হিসাবে আগের সভাপতি কাজ চালান যতদিন না নতুন সভাপতি দায়িত্ব না নেন। সেরকমই চলছিল। প্রাক্তন সভাপতি ওঁনার সাধ্যমত করেছেন। সংগঠন স্তব্ধ হয়ে যায়নি। এটা মিডিয়ার প্রচার। যেভাবে কাজ চলছিল, সেটাকে আমরা বাড়াব নতুন সংগঠনের মাধ্যমে।’

তৃণমূলকে একুশে দক্ষিণ কলকাতায় একইঞ্চিও জমি ছাড়া হবে না জানিয়ে শঙ্করবাবু বলেন,‘ আমরা সবটাই ভেবে রেখিছি। আমাদের কথা, বুথে জেতো-ভোটে জেতো। ভোটের দিন তৃণমূলের গু-াগিরি,বুথ দখল থেকে আমাদের বুথকে রক্ষা করতে হবে। বুথ রক্ষা করতে পারলে মানুষ আমাদেরই ভোট দেবেন। তার জন্যই আমরা তৈরি হচ্ছি। আমরা প্রতিটি বুথে কর্মী সংখ্যা বাড়াচ্ছি।’

দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে অভিযোগ করে শঙ্করবাবু বলেন,‘ পিপিলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে। আজকে তৃণমূলের একই অবস্থা। তাঁরা মৃত্যুর কাছাকাছি চলে এসেছে। যে কোনও উপায়ে বাঁচতে চাইছে। তাই আমাদের কর্মীদের হুমকি,মারধোর করছে। প্রশাসনকে আমি সাফ বলতে চাই, আপনারা নিরপেক্ষ হন। আর যদি তা না হয়, আমরা আপনাদের ছাড়ব না। দক্ষিণ কলকাতায় যদি একটাও আসন না জিতি, আমরা কিন্তু বাংলায় একুশে ক্ষমতায় আসব। এটা আপনার ভুলে যাবে না।’

Related Articles

Back to top button
Close