fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

বিতর্কের মাঝে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে বেরেটের নাম ঘোষণা ট্রাম্পের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বহু বিতর্কের মাঝে সুপ্রিম কোটের বিচারপতি পদে নিয়োগের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যামি কোনি বেরেটের নাম ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার হোয়াইট হাউসের রোড গার্ডেনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আজ দেশের অন্যতম উজ্জ্বল এবং প্রতিভাশালী আইন বিশারদকে সুপ্রিম কোর্টে মনোনীত করতে পেরে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। তিনি অতুলনীয় কৃতিত্বের, দুর্দান্ত বুদ্ধিমত্তা, শুদ্ধ বিশ্বাসযোগ্যতা এবং (মার্কিন) সংবিধানের প্রতি নিরপেক্ষ আনুগত্য থাকা একজন নারী- বিচারক অ্যামি কোনি বেরেট।”

ফলে এবার প্রয়াত বিচারপতি ও নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ রুথ বেডার জিন্সবার্গের স্থালাভিষিক্ত হতে চলেছেন বেরেট। এর আগে, ২০১৭ সালে বিচারক অ্যামি কোনি বেরেটকে ফেডারেল আপিল বেঞ্চে নিয়োগ দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিকে, শনিবার বেরেটের নাম ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টে তার নিয়োগ বিষয়ে সিনেটের শুনানিতে অবিচল থাকার জন্য রিপাবলিকান সিনেটরদের ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কেননা, ট্রাম্পের ইচ্ছাকে সম্মতি জানিয়ে, আগামী ৩ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ নিশ্চিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন সিনেটের রিপাবলিকান নেতৃত্ব। কিন্তু, ডেমোক্র্যাটদের দাবি, নির্বাচনের পর বিজয়ীদেরই বিচারপতি নিয়োগ দেয়া উচিত।

উল্লেখ্য, বর্তমানে মার্কিন সিনেটে ৫৩-৪৭ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানরা। এদের মধ্যে মাত্র দুই রিপাবলিকান সিনেটর নির্বাচনের আগে বিচারপতি নিয়োগের বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন। ফলে অ্যামি কোনি বেরেটের নিয়োগ নিশ্চিত করতে ক্ষমতাসীনদের সামনে খুব একটা বাধা থাকার কথা নয়। তার নিয়োগের পর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন বিচারপতির মধ্যে রক্ষণশীলদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ৬-৩ ব্যবধানে পৌঁছাবে। এরপর, সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটিতে বেরেটের নিয়োগ সংক্রান্ত শুনানি শুরু হতে পারে আগামী ১২ অক্টোবর।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে বিরাটের নাম ঘোষণার পর এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানায় নি ডেমোক্রেটিক পার্টি। তবে, এর আগে ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইমপিচমেন্ট করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি জানিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টি নির্বাচনের আগেই বিচারপতি নিয়োগের উদ্যোগ নিলে তাঁদের কাছে তা মোকাবিলার অস্ত্র আছে।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “কিছুই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁরা দেশের গণতন্ত্র ও মূল্যবোধ রক্ষায় যেকোনো রাজনৈতিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত আছেন। এমনকি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা অ্যাটর্নি জেনারেল উলিয়াম বারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব নেওয়া হতে পারে।” এর পাশাপাশি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে ট্রাম্পের মনোনয়নে হওয়া বিচারপতিকে অপসারণের উদ্যোগ নেবেন।

ফলে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে নতুন বিচারপতি নিয়োগ প্রসঙ্গ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের মধ্যে প্রথম সরাসরি বিতর্কেও বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি উঠে আসবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, এই বিতর্কের মাধ্যমে ট্রাম্প পুরো নির্বাচনী বিতর্কে বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টিকে অগ্রভাগে নিয়ে আসার প্রয়াস নেবেন। কেননা, কোভিড-১৯ সামাল দিতে ব্যর্থতা বা বিপর্যস্ত অর্থনীতি নিয়ে ট্রাম্পকে কথা যত কম বলতে হবে, ততই মঙ্গল।

Related Articles

Back to top button
Close