fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সংক্রমণের আতঙ্কের মধ্যেই মালদা হাসপাতাল সহ একাধিক জায়গায় যত্রতত্র পড়ে আছে পিপিই কিট!

মিল্টন পাল, মালদা: করোনা আবহে একদিকে আতঙ্কে রয়েছে মানুষ। এরই মধ্যে বেসরকারি হাসপাতাল সহ মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বর ও শহরের যত্রতত্র পড়ে রয়েছে ব্যবহার করা পিপিই কিট। এই নিয়ে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। আর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের এহেন কাজে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারণ বাসিন্দারা। ঘটনা জানতে পেরে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও ইংরেজবাজার পৌরসভা। গোটা ঘটনা নিয়ে পুরসভা ও স্বাস্থ্য দফতরের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিজেপি।

দেশ, রাজ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মালদা জেলায় বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যে জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৪২৭জন।সুস্থ হয়েছে ২৭৯৯জন। মৃত্যু হয়েছে ১৭জনের।

জেলায় নারায়ণপুরে কোভিড হাসপাতাল তৈরি হয়। পাশাপাশি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা চলছে। শহরের মধ্যে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড পরীক্ষা ইউনিটের পাশেই পড়ে রয়েছে ব্যবহার করা পিপিই কিট। শুধু মেডিকেল কলেজে নয় শহরের বেসরকারি হাসপাতালের পাশেই যত্রতত্র,পথে ঘাটে ও কয়েক জায়গায় পড়ে রয়েছে এধরণের ব্যবহৃত পিপিই কিট।

শহরের বাসিন্দা মদন মন্ডল বলেন, করোনা অতিমারী আকার নিয়েছে। প্রতিদিন জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা হুহু করে বাড়ছে। আমরা আতঙ্কিত। কখন কোথায় কার কি হয়। যে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।

পিপিই কিট থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। সেই কারণে ব্যবহৃত কীটগুলি ব্যবহারের পর নির্দিষ্ট স্থানে ধ্বংস করা উচিত। ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমের নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:করোনা আক্রান্ত রামমন্দির ট্রাস্টের প্রধান, আতঙ্ক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে

মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রিন্সিপ্যাল পার্থপ্রতিম মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের এখানে নির্দিষ্ট স্থানে ডিস্পোজ করার জায়গা রয়েছে। সেখানে ডিস্পোজ করা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানে কিভাবে এগুলি ডিস্পোজ করতে হয়। ক্ষতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইংরেজবাজার পৌরসভার প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য দুলাল সরকার বলেন, মালদা মেডিক্যাল সেন্টার ও মেডিক্যাল কলেজের সামনে পিপিই কিট পড়ে রয়েছে। আমরা সমস্তটা খোঁজ নেব। কেন তারা এটা ফেলেছে। এটা ফেলা উচিত নয়। এতে মানুষের ক্ষতি করবে। পুরসভা ও বেসরকারি হাসপাতাল এনিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। আর কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ফেলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য দফতরের ও পুরসভার ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজেপির মালদা জেলার সহ-সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, যেভাবে শহরে পিপিই কিট পড়ে রয়েছে তাতে কি ভয়ঙ্কর রূপে যে সংক্রমণ হতে পারে এটা প্রশাসনের ধারনার বাইরে হয়ে যাচ্ছে। নানা মহল থেকে আমাদের কাছে এই খবর আসছে।

স্বাস্থ্য দফতর, জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা নিশ্চুপ। যেকোনও কাজে তাদের শাক দিয়ে মাছ ঢাকা অভ্যাস। কোনও কিছু হলেই কিছু কাউন্সিলর সেগুলি পক্ষে করার চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকতে বলছেন কিন্তু মানুষ সজাগ থাকচ্ছেন। যেভাবে ব্যবহৃত পিপিই পড়ে থাকছে তাতে সংক্রমণ আরও ছড়াবে। স্বাস্থ্য দফতর, জেলা প্রশাসন ও পুরসভার কাছে বিজেপি করজোরে আবেদন করছে যারা এই ধরনের কাছ করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক।

Related Articles

Back to top button
Close