fbpx
কলকাতাদেশহেডলাইন

একুশের ক্ষমতায় আসলে তিন মাসের মধ্যে সারদা রোজভ্যালি মামলার নিষ্পত্তি করব: দিলীপ ঘোষ

ইন্দ্রানী দাশগুপ্ত ,নিউ দিল্লি: একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় আসলে তিন মাসের মধ্যে সারদা, রোজভ্যালি সহ সমস্ত চিটফান্ডের মামলা নিষ্পত্তি ঘটানোর জন্য যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করব বলে শনিবার এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি আরও বলেন মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের অধীনস্থ থাকলেও সিবিআই রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার ফলে ঠিকমতো তদন্ত চালাতে পারছেনা । আমরা ক্ষমতায় এলে সিবিআইকে সবরকম সাহায্য করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই মামলা গুলো নিষ্পত্তি ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে প্রাপ্য টাকা তুলে দেবো।

একই সাথে দীলিপবাবু বলেন গতবার সদস্য সংগ্রহ অভিযানে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় এক কোটি রেকর্ড সংখ্যক মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্যপদ গ্রহণ করেছিলেন আমরা এবার সদস্য সংগ্রহ অভিযানে লক্ষ্য মাত্রার রেখেছি ৩ কোটি। এবং যে বিপুল জনসমর্থন ভারতীয় জনতা পার্টির সাথে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে আছে আমরা আশা করছি এই সংখ্যাটা অতিক্রম করে আরো বহু মানুষ এবছর ভারতীয় জনতা পার্টির সাথে যুক্ত হবেন। এবং অবশ্যই একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ২০০টি বেশি আসনে বিপুল ভোটে জিতে আমাদের সরকার গড়তে সাহায্য করবেন।

দিল্লিতে যুগশঙ্খকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেন বাংলা এখন মারাত্মক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শুরু হয়েছে। রাজ্যে স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে শিক্ষা, রেশন, প্রশাসন সব জাগায় দুর্নীতি ঢুকে আছে রন্ধে রন্ধে । ভেঙে পড়েছে সমস্ত প্রশাসনিক কাঠামো। এই মারাত্মক করোনা সংক্রমণের মধ্যেও যেভাবে সাধারণ মানুষ খাদ্যের অভাবে চিকিৎসার অভাবে বাসস্থানের অভাবে এবং সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদ জানানোর জন্য রাস্তায় নেমে এসেছেন তার থেকে পরিষ্কার যে সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা চালাতে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার একদম ব্যর্থ। আমফান থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর গরীব কল্যাণ যোজনা সর্বক্ষেত্রে লুট হয়ে গেছে টাকা এবং জিনিসপত্র। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে আমাদের সাংসদরা দলীয় কর্মীরা যখন বিপর্যস্ত এ অঞ্চলে ছুটে গেছেন তখন বাধা দিয়েছে পুলিশ। তা সত্বেও আমরা ২৫লক্ষ মানুষকে শুকনো খাবার ৩৫ লক্ষ মানুষকে রান্না করা খাবার ৫০ হাজার ত্রিপল সরবরাহ করেছি।

আরও পড়ুন: প্রশান্তের যুব জাগরণের প্রভাব তৃণমূলের দলীয় রদবদলে সামনের সারিতে মহুয়া-লক্ষ্মী

এমনকি পুলিশ জোর করে আমাদের বিধায়কদের গাড়ি থেকে রশিদ দেখানো সত্বেও ত্রিপল নামিয়ে নিয়েছে, মানুষের এই ভয়ঙ্কর বিপদেও পশ্চিমবঙ্গবাসী পাশে দাঁড়াতে দেয়নি আমাদেরকে। সেই কারণে আমরা সংগঠনকে আরো মজবুত করার জন্য সদস্য সংগ্রহ অভিযানে জোর দিচ্ছি। আশা করছি ভবিষ্যতে কয়েক মাসের মধ্যেই সদস্য সংগ্রহ অভিযানের মাধ্যমে আমরা আরো নতুন তিন কোটি সদস্যকে বিজেপি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত করতে পারব। কারণ পশ্চিমবঙ্গে এখনো বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম ভাবে মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা চলেছে বিশেষত সংখ্যালঘু মানুষকে আমাদের বিরুদ্ধে ভুল বুঝিয়ে নিজেদের ভোট ব্যাংক ধরে রাখার জন্য সবরকম চেষ্টা করছে শাসক দল কিন্তু তারা ভুলে গেছে এটা এক নতুন ভারত সংখ্যালঘু মানুষেরা ৩৪বছরের বাম শাসনের খেয়েছেন যেখানেই তাদের কোন উন্নয়ন হয়নি তারপরে প্রায় ১০ বছরের তৃণমূল শাসন ও তারা দেখলেন যেখানে উন্নয়ন হওয়া তো দুরের কথা এদের সাথে সুচতুরভাবে অপরাধীকরন যুক্ত করা হয়েছে।

অথচ প্রধানমন্ত্রীর গরিব কল্যাণ যোজনায় ফ্রী রেশন থেকে শুরু করে উজ্জ্বলা যোজনায় গ্যাস সার্ভিস, জন ধন যোজনায় টাকা তিন তালাক রদ আইন সবকিছুতেই লাভবান হয়েছেন তারা তাই বহু শিক্ষিত মুসলিম যুবক যুবতীরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করছেন এবং সদস্য পদ নিচ্ছেন ধর্মের আফিম খাইয়ে এদের আর উন্নয়নের আলো থেকে দূরে রাখা যাবে না তারপরেও যদি সংখ্যালঘু মানুষের আমাদের ভোট না দেন তা সত্ত্বেও ২০০ এর বেশি আসনে জিতে ২১- এ আমরা সরকার গড়বোই।  এর অনেক উদাহরণ আছে । আমাদের প্রতিবেশী রাজ্য আসামে প্রায় ৩৪ শতাংশ সংখ্যালঘু মানুষের বসবাস তবুও সেখানে আমরা সরকার করেছি। কারণ তার আগে আসামে আমাদের যে জোট সরকার হয়েছিল তখনই সংখ্যালঘু মানুষেরা বুঝে গিয়েছিলেন একমাত্র বিজেপি পারে তাদের সঠিক উন্নয়ন ঘটাতে । তাই তারা আমাদের সাথে আছেন। একইভাবে আমরা সরকারে আসার পর যখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাদের প্রাপ্য সমস্ত কিছু নিজের নাগরিকত্বের অধিকার বলে পাবেন, যখন আর তাদের কাজের জন্য গুজরাট উত্তরপ্রদেশে ছুটে যেতে হবে না ,তখন আর তারা অন্য কিছু ভাববেন বলে আমার মনে হয় না।

Related Articles

Back to top button
Close