fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গব্লগহেডলাইন

একদা সিপিএমের শক্তঘাঁটি গড়বেতায় একুশে মূল লড়াই হবে তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে

বড় ফ্যাক্টর সংখ্যালঘু ভোট

মোকতার হোসেন মন্ডল:

২০১৬ বিধানসভার ফল

তৃণমূল কংগ্রেস-১১০৫০১
সিপিএম-৪৯৩৪৪
বিজেপি -২২৫২৫

২০১৯ লোকসভার ফল

বিজেপি-৯১৩২৮
তৃণমূল কংগ্রেস-৮৪৫১৭
সিপিএম-১০৩৪৩
কংগ্রেস-৩২৯৪

একদা সিপিএমের শক্তঘাঁটি বলে পরিচিত ঝাড়গ্রাম লোকসভার অন্তর্ভুক্ত গড়বেতা বিধানসভায় একুশের নির্বাচনে মূল লড়াই হতে পারে তৃণমূল বনাম বিজেপির মধ্যে। তবে এই কেন্দ্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোট।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৫১ সালে এই কেন্দ্রে সিপিআইএম জয়ী হয়েছে। তারপর কংগ্রেস জয়ী হয়। সিপিআইএম ও কংগ্রেসের মধ্যেই মূলত লড়াই হয়েছে দীর্ঘদিন। তারপর ১৯৬৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৬ বছর এখানে কমিউনিস্ট পার্টির বিধায়ক ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের আসিস চক্রবর্তী জয়ী হন। সেই সময়ের সিপিএমের প্রভাবশালী নেতা সুশান্ত ঘোষের খাস তালুকে সেদিন ঘাস ফুল ফুটেছিল। কিন্তু ঊনিশের লোকসভা নির্বাচনে ফের ঘাস ফুলকে টেক্কা দিয়েছে পদ্মফুল। বিজেপির এক রাজ্য নেতা এই প্রতিবেদককে জানান, সিপিএমের বহু নেতা ও কর্মী এখন বিজেপি করছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই তাদের পুরানো মাটি বিজেপির দখলে।
২০১৬ বিধানসভা ভোটে গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের আসিস চক্রবর্তী পেয়েছিলেন ১১০৫০১ ভোট। সিপিএমের সরফরাজ খান  ৪৯৩৪৪ ও বিজেপির প্রদীপ লোধা ২২৫২৫ ভোট পেয়েছিলেন। এরপর হয় পঞ্চায়েত নির্বাচন হয় যেখানে এককভাবে জয়ী হয় তৃণমূল কংগ্রেস,যদিও বিজেপির উত্থান সে সময় স্পষ্ট হয়েছিল।
কিন্তু ২০১৯ লোকসভার নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি ৯১৩২৮ ভোট পায়, অথচ মাত্র চার বছর আগে এখানে বিজেপি পেয়েছিল ২২৫২৫ ভোট। বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে লড়ে ষোলোতে জয়ী হলেও ঊনিশের লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেস ৮৪৫১৭ ভোট পায়। যদিও সেটা বিজেপির চেয়ে সামান্য কম। বিগত লোকসভায় গড়বেতায় সিপিএম ১০৩৪৩ ও কংগ্রেস ৩২৯৪ ভোট পায়।
কিন্তু মানুষের মৌলিক সমস্যা কী?
গড়বেতা এক নম্বর ব্লকের ১১ নম্বর অঞ্চলের স্থানীয় বিশ্বজিৎ ব্রহ্মচারী বলেন,স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও উন্নত পরিষেবা দরকার। অনেক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। গণতান্ত্রিক পরিবেশ দরকার।
বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনের বাড়ি এই কেন্দ্রে। তিনি বলেছিলেন,
২০১৮ পঞ্চায়েত নির্বাচন টিএমসি পার্টির জন্য বেশিরভাগ জায়গাতেই বিজেপি পার্টি নমিনেশন করতে পারেনি, তার মধ্যেও আমলাশুলি সাত নম্বর অঞ্চলের কর্মীদের কে নিয়ে পঞ্চায়েত জয়লাভ করি, যে সমস্ত এলাকায় নমিনেশন করা গিয়েছিল সেখানে বিজেপি পার্টি জয়লাভ করে, যেখানে সিপিএম পার্টির শক্ত ঘাঁটি ছিল, সুশান্ত ঘোষ, তপন ঘোষ,শুকুর আলী, এদের সেই জায়গায় ২০১১ এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে আস্তে আস্তে সিপিএম পার্টির ভোট একেবারে নিচের দিকে নেমে যায়। মানুষের মধ্যে  বিজেপি পার্টির সমর্থন বাড়তে থাকে।’

তাঁর আরও অভিযোগ, গ্রাম গঞ্জের রাস্তাঘাট,পানীয় জল, সমস্ত কিছুরই অভাব, গরবেতায় যে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি আছে সেটির অবস্থাও ভালো নয়, ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী নিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে মেদিনীপুর সদর মেডিকেলে ট্রান্সফার করে দেওয়া হয়।
কিন্তু একুশের নির্বাচনে কী হবে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখানে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর। সিপিএম ও কংগ্রেস যৌথভাবে লড়াই করলে একটা ভালো ফল করতে পারে। তবে মূল লড়াই হতে পারে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে। পঞ্চায়েত নির্বাচন, বিগত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ও বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করলে সেটাই মনে হবে। যদিও রাজনীতিতে যেকোন মুহূর্তে যেকোন ঘটনা ঘটতে পারে। তাই একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মূল লড়াই কার সঙ্গে কার হবে,জিতবেই বা কে, তা ভবিষ্যতেই জানা যাবে।

Related Articles

Back to top button
Close