fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ভাটপাড়ায় বিজেপির মিছিলে ধুন্ধুমার, বোমা, গুলি চলার অভিযোগ, বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল, বলছে তৃণমূল

অলোক কুমার ঘোষ, ব্যারাকপুর : বাংলায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরানো, আমফান দুর্নীতি, পুলিশের পক্ষপাতিত্ব মূলক আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার বিকেলে উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায় এক বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং । বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, মিছিলের শুরু থেকেই দুষ্কৃতীরা পুলিশের সামনে বোমাবাজি করে, ইঁট বৃষ্টি করে ও পাথর ছোঁড়ে । এই ঘটনায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তবে ভাটপাড়ার তৃণমূল নেতা দেবজ্যোতি ঘোষ জানান, আদি ও নব্য বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।
বিজেপির এই মিছিলে অন্তত ১৫ হাজার কর্মীর জমায়েত হওয়ার কথা ছিল । মিছিলে যাতে বিজেপি কর্মীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে পৌঁছাতে না পারে সেই জন্য শাসক দলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা অতর্কিতে এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ । জগদ্দলের অকল্যান্ড জুটমিলের সামনে থেকে এই মিছিল হওয়ার কথা ছিল ভাটপাড়া মোড় পর্যন্ত । মিছিল শুরু হয় বিকেল ৫ টা নাগাদ । ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং এবং বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন । কাঁকিনাড়া থেকে যখন ২০০ টি বাইক নিয়ে বিজেপি কর্মীরা মিছিলে যোগ দিতে আসছিলেন, সেই সময় মিছিলে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা । অতর্কিতে হামলা হয় সুন্দিয়াপাড়া মাঠ সংলগ্ন এলাকা এবং কাঁকিনাড়া ব্রীজের উপর । বিজেপি কর্মীদের উপর অতর্কিতে বোমা ও গুলি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ ।
মিছিলে আসতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে মার খেয়ে গুরুতর জখম হন ভাটপাড়া পুরসভার প্রাক্তন বিজেপি কাউন্সিলর প্রমোদ সিং, বিজেপি নেতা হারাধন মল্লিক, অরুণ ব্রহ্ম সহ অন্তত ১০ জন । ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের নেতৃত্বে এই মিছিল ঘোষপাড়া রোড দিয়ে যখন এগোতে থাকে, তখন পুলিশ কর্মীরা এই মিছিল ব্যারিকেড করে আর্য্য সমাজ মোড়ের কাছে আটকানোর চেষ্টা করে । তবে মিছিলে উপস্থিত বিজেপি কর্মীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে দেয় । ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মার সঙ্গে সাংসদ অর্জুন সিংয়ের তুমুল বচসা শুরু হয় ।
অর্জুন সিং বলেন,”ওই পুলিশ আধিকারিক তৃণমূলের নেতা হিসেবে এই অঞ্চলে কাজ করছে । উনার সামনে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বিজেপি কর্মীদের উপর বোমা গুলি চালিয়েছে । বাংলায় কোথাও গনতন্ত্র নেই । আজকে তা আরো একবার প্রমাণ হল ।” সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেন, “এই পুলিশ আধিকারিক তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি হতে চাইছেন । তাই উনি শাসক দলের পক্ষে কাজ করছে । আমরা গোটা বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে জানিয়েছি । ২০২১ সালে তৃণমূল আর ক্ষমতায় আসবে না, ওদের পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে, তাই বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা করা হচ্ছে ।”
এদিকে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট সূত্রের খবর, বিজেপির এই মিছিলের কোনও অনুমতি ছিল না । লকডাউন ভেঙে আইন বিরুদ্ধ ভাবে ওরা মিছিল করছিল । সেই মিছিল পুলিশ আটকানোর চেষ্টা করে । সেখানে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী জখম হন । এদিকে ভাটপাড়ার তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে, বিজেপির মিছিলে হামলার ঘটনায় তৃণমূলের কেউ জড়িত নয় । লগডাউন ভেঙে আইন বিরুদ্ধ মিছিল করছিল বিজেপি, পুলিশ তার কাজ করেছে । এদিকে বিজেপি কর্মীদের বেশ কিছু গাড়ি ও মোটর বাইকে শাসক দলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে ।
সাংসদ অর্জুন সিং জানিয়েছেন, “পুলিশ অনৈতিক ভাবে আমার বাড়ি ব্যারিকেড করে রেখেছে । এভাবে আমাদের ভয় দেখানো যাবে না । আমরা বাংলায় গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনবই ।” ভাটপাড়ার তৃণমূল নেতা দেবজ্যোতি ঘোষ জানান, “আমাদের দলের কেউ এই ঘটনায় জড়িত নেই । আদি বিজেপি ও নব্য বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলের কারণে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে । তবুও ওরা যখন অভিযোগ করছে, আমি বলছি যদি তৃণমূলের কোন নেতা বা কর্মী এই ঘটনায় যুক্ত থাকে তার কোন দায় দল নেবে না । যদি আমাদের দলের কেউ হামলায় যুক্ত এরকম ফুটেজ বা প্রমাণ থাকে তার বিরুদ্ধে দল কঠিন পদক্ষেপ নেবে এবং পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে । ওই হামলাকারীর পাশে দল দাঁড়াবে না । তবে এই ঘটনায় তৃণমূলের কোন যোগ নেই ।”

Related Articles

Back to top button
Close