fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পশ্চিম বর্ধমানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হাজার পার, বাড়লো আরও ১১ টি কনটেনমেন্ট জোন

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলার মধ্যে রানিগঞ্জে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা এখন সব থেকে বেশি। জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সোমবার রাতে হাজার পার করে গেছে। তারমধ্যে রানিগঞ্জেই শুধুমাত্র আক্রান্তর সংখ্যাটা ২০০-র বেশি। এমনকি রানিগঞ্জ থানার ২২ পুলিশ কর্মী ও সিভিক ভলেন্টিয়ার একসঙ্গে করোনায় আক্রান্তের হয়েছেন। সেখানেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, রানিগঞ্জেই কেন করোনা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না?

আসানসোল পুরনিগমের রানিগঞ্জ পুর এলাকার ১১ টি ওয়ার্ডেও পর্যাপ্ত সংখ্যায় স্বাস্থ্যকর্মী নেই। এই এলাকার মানুষদের দাবি, রানিগঞ্জ শহর ও গ্রামীণ এলাকায় করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আরও জানা গেছে , রানিগঞ্জের ৬টি পঞ্চায়েতে লোকসংখ্যার বিচারে রানিগঞ্জ আশাকর্মী রয়েছেন হাতে গোনা কয়েকজন । ১১৫ জনের জায়গায় মাত্র ১৯ জন আশাকর্মী রয়েছেন। যাদের দিয়ে কোন মতেই এই গ্রামীন এলাকায় নজরদারি করা সম্ভব নয়। ফলে ভুগতে হচ্ছে রানিগঞ্জবাসীদের।

ব্লকের স্বাস্থ্য আধিকারিক বা বিএমওএইচ মনোজ শর্মা বলেন, গ্রামীণ এলাকায় যে পরিমাণ আশাকর্মীর প্রয়োজন তা আমাদের কাছে নেই। আশা কর্মীরাই মুলতঃ এলাকার খোঁজখবর রাখেন। করোনা সন্দেহ মনে হলে তারাই নজরে আনতে পারেন। তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে কর্মী না থাকায় সমস্যা রয়েছে।

আসানসোল পুরনিগমের স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ দিব্যেন্দু ভগত বলেন, এই এলাকায় মানুষদের মধ্যে যথেষ্ট সচেতনতার অভাবও রয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের নজরদারির অভাবকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই উপসর্গ থাকা সত্বেও ঔষধ খেয়ে নিজেদের রোগ লুকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়েছেন। যার জেরে অনেক ক্ষেত্রেই বলতে গেলে করোনা সংক্রমণের হার বেশি হয়েছে।

এলাকার বাসিন্দাদের পাল্টা অভিযোগ, করোনা সংক্রমণ যখন মারাত্মক আকার নিয়েছে তখনও সেভাবে স্বাস্থ্য দফতরের সক্রিয়তা দেখা যায়নি। যাতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায়। দিব্যেন্দু ভগত বলেন, আমরা মেনে নিচ্ছি সমস্যা কিছুটা রয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি সংক্রমিত এলাকা বারবার স্যানিটাইজার করে ভাইরাসের প্রকোপ কমাতে। পাশাপাশি একাংশের দাবি, বাসিন্দাদের সচেতনতা না থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের গাফিলতিও এই করোনা সংকটে প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

এদিকে জেলার আসানসোল ও রানিগঞ্জের ১১ টি এলাকাকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নতুন করে কনটেনমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষণা করা হল। পশ্চিম বর্ধমান জেলার জেলাশাসক পূর্ণেন্দু কুমার মাজি এদিন সন্ধ্যায় কনটেনমেন্ট জোন করার জন্য একটি বিঞ্জপ্তি জারি করেছেন। ১১ টি জোনের মধ্যে ৯টি রয়েছে রানিগঞ্জ পুর এলাকা ও রানিগঞ্জ ব্লক এলাকায়। বাকি দুটি আসানসোল শহরের। আসানসোলের দুটি এলাকা হল আপার ও লোয়ার চেলিডাঙ্গা ও মহিশীলা কলোনির ১, ২ ও ৩ নংয়ের কিছু অংশ। রানিগঞ্জে রয়েছে সিয়ারশোল রাজবাড়ি, রামবাগান, শিশুবাগান, বল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মতো এলাকা।

প্রসঙ্গতঃ, সোমবার রাতেই পশ্চিম বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বা সিএমওএইচ ডাঃ দেবাশীষ হালদার করোনা সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তর জন্য জেলার ৩০টি এলাকাকে কন্টাইনমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষণার জন্য জেলাশাসককে লিখিত ভাবে সুপারিশ করেছিলেন। তারপরই এদিন জেলাশাসক পূর্ণেন্দু কুমার মাজি আসানসোল ও রানিগঞ্জের ১১টি এলাকাকে কনটেনমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষণা করেন

Related Articles

Back to top button
Close