fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অপর্যাপ্ত মাছের ভেড়ি নষ্ট করছে পূর্ব মেদিনীপুরের কৃষি মানচিত্র

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : বেআইনিভাবে যত্রতত্র ভেড়ি বানানোর ফলে জলনিকাশী ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে যেতে বসেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। জমিতে জমে থাকছে জল। বিভিন্ন স্লুইস গেটগুলো এখন মাছের ভেড়ির মালিকদের নিয়ন্ত্রনাধীন। ফলে আগের মতো জলনিকাশী সুষ্ঠুভাবে হচ্ছেই না। ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি ধানচাষ সহ রবিচাষের ব্যবস্থা।

জেলা জুড়ে চাষের ক্ষেত্রে এরকমই ব্যাতিক্রমী সমস্যার দিকে আঙ্গুল তুললেন জেলার মুখ্য কৃষি উপ অধিকর্তা ( প্রযুক্তি ) আশিষ কুমার বেরা। তিনি বলেন, জেলা জুড়ে ধানচাষের জমি কমছে ক্রমশঃ। সেখানে মাছ চাষের ভেড়ি বানানো হচ্ছে। ফলে ঐ জমির দফারফা হয়ে যাচ্ছে। একসময় ঐ জমিতে কোনভাবেই আর কোনো চাষাবাদ করা সম্ভব হবেনা। জমির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে যথেচ্ছ কেমিক্যাল, মাছের খাদ্য এবং নানা মেডিসিন ব্যবহারের ফলে। দশ বছর পরে এ জমিগুলি পতিত জমিতে পরিনত হয়ে উঠবে। তখন মাছের ভেড়ি বন্ধ হলেও ধানচাষ আর হবেনা।

       আরও পড়ুন: তৃতীয় পর্বের ‘কোভিশিল্ড’-এর ট্রায়াল শুরু করল সিরাম ইন্সটিটিউট

কৃষি দফতর জেলা জুড়ে ‘টাঙ্গা’ এলাকায় ডালশষ্য চাষের উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়িত করা যাচ্ছেনা এই জমে থাকা জলের জন্য। সাধারনত অক্টোবরের শেষে সরিষা চাষ করার নিয়ম। কিন্তু জমিতে জল জমে থাকার কারনে সরিষা চাষ হচ্ছে ডিসেম্বরের শেষে। আশিষবাবু এই সমস্যা তুলে বলেন, আসলে এখন রবি সিজিনটাই প্রায় নেই। দেরিতে ধান কাটা হচ্ছে। ফলে ‘সেকেণ্ড ক্রপ’ করার উপযুক্ত সময় পাওয়া যাচ্ছেনা।

 

তবে এবার ভয়াল বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ধানচাষের ক্ষতি তেমন হয়নি। চাষিদের কাছে এটা আশার খবর। আসলে কোরোনা উদ্ভুত লকডাউন পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ চাষির লবেজান অবস্থা। আয়ের উৎস কমেছে। এমতবস্থায় চলতি আউস এবং আমন চাষের মাধ্যমে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাইছেন সকলেই। এবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট ২ লক্ষ ৫৯ হাজার হেক্টর জমিতে আউস এবং আমন ধান চাষ হয়েছে। জেলা সহ কৃষি অধিকর্তা ( প্রযুক্তি ) নকুলচন্দ্র মাইতি জানান, জেলার একমাত্র পাঁশকুড়া ব্লক ছাড়া সর্বত্র বৃষ্টির পরিমাণ চাষোপোযুক্ত। এখানে বৃষ্টির অভাব রয়েছে ধানচাষের ক্ষেত্রে। তবে তা তেমনভাবে প্রভাব ফেলবেনা।

 

ধান চাষের কাজ শেষ জেলা জুড়েই। কোনো ব্লক থেকেই কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। জেলায় ২ লক্ষ ৫৪ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করেছেন চাষিরা। আর আউস চাষ হয়েছে ৪৮০০ হেক্টর জমিতে। কৃষিবিদদের অভিমত, যেসব এলাকায় ধানের জমিতে ভেড়ি বানিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে সেখানে ভূগর্ভস্থ এলাকায় বিষাক্ত জল প্রবেশ করছে বহুল পরিমাণে। ফলে একসময় নলকূপের জল হয়ে উঠবে অপেয়। নানা ধরনের পেটের রোগের ঘটনা ঘটতে চলেছে জেলা জুড়েই। এই সমস্যা কিন্তু দ্রুতগতিতেই জেলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। যা একসময় জেলাবাসীর কাছে অন্যতম মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

Related Articles

Back to top button
Close