fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণদেশবাংলাদেশহেডলাইন

তিস্তার জল বণ্টনের সমস্যা সমাধানে সম্মত ঢাকা-দিল্লি

মৌসুম আকন, ঢাকা: তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর জল বণ্টনের সমস্যা সমাধান এবং সীমান্ত হত্যাকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসতে ভারত ও বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

মঙ্গলবার ভারত-বাংলাদেশ ষষ্ঠ যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) বৈঠকের পর ঢাকায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশে বিদেশ মন্ত্রী বলেন, অন্যান্য অভিন্ন নদীর জল বণ্টনের সমাধান ছাড়াও তিস্তার জল বণ্টনের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দিকে গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ও ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্তে মৃত্যু নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, উভয়পক্ষই রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উৎপত্তিস্থলে স্থায়ী প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করেছে।

ভার্চুয়াল এ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিদেশমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন আর ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

সাংবাদিক সম্মেলনে মোমেন বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। কিন্তু সীমান্ত হত্যা বা পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের মতো কিছু বিষয় এই সম্পর্কের ওপর আঘাত হানে।

মোমেন বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষ একমত হয়েছি যে কেউ যাতে না মারা যায়। যেসব অঞ্চলে মারা যায় সেখানে যৌথভাবে মনিটরিং করবো। এটা আমাদের জন্য লজ্জার, ভারতেরও জন্য লজ্জার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যে দৃঢ় সম্পর্ক, সেটি একজন মারা গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন পেঁয়াজ একটি ছোট জিনিস। কিন্তু যখন দুর্ঘটনা হয় তখন এই সম্পর্কে আঘাত হানে।’

সীমান্ত হত্যা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে এটিকে শূন্যের কোটায় নিয়ে আসার। আমাদের দুই দেশের দায়িত্ব আছে এবং সেটি আমরা করবো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ভারত থেকে বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ আনি। যেমন পেঁয়াজ এবং সেটি হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে এর প্রভাব বাংলাদেশের বাজারের ওপর প্রভাব পড়ে।’

মোমেন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ডিসেম্বরে ভার্চুয়াল বৈঠক হবে। তিনি বলেন, ‘দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকে কি হবে সেটি এখনও ঠিক করি নাই। আমরা সম্মত হয়েছি দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক হবে। এখন আমরা প্রস্ততি নেবো। আমাদের হাতে সময় আছে।’

লাইন অফ ক্রেডিট বৈঠকে একটি বড় ইস্যু ছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি খুব ধীরগতিতে হচ্ছে। এজন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি হয়েছে।’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ও ভারতের রাষ্ট্রদূতের সমন্বয়ের গঠিত কমিটি হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী জানান, ‘আমাদের মতো তারাও উদগ্রীব। অনেক ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কারণ কিছু সমস্যা আছে। যে গ্যাপ তৈরি হয়েছে সেটি দূর করার জন্য কমিটি হয়েছে।’

ভারতের দিকে আইন-কানুন নিয়ে কিছু ঝামেলা হয়েছে জানিয়ে মোমেন বলেন, ‘যেমন বলা হয়েছে বিভিন্ন এজেন্সির অনুমতি লাগে। তারপরে কাঁচামালের ক্ষেত্রে ভারত থেকে আমদানির জটিলতা রয়েছে। যে জিনিস বাংলাদেশে সহজলভ্য সেটি আমরা ভারত থেকে কেন আনবো। এ বিষয়ে আলোচনা হবে।’

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় একে অপরের সহযোগিতার বিষয়ে মোমেন বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে যখনই টিকা বের হবে তখনই সেটি সংগ্রহ করা এবং যে আগে তৈরি করবে তার কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করবো।’

শুধু চিন ও ভারত নয়, বাংলাদেশ অন্য দেশ যেমন রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপিয়ানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের টীকা সংগ্রহ এবং বাংলাদেশে উৎপাদন করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে ভারতের আইনি বাধার বিষয়টি বাংলাদেশ তুলেছে এবং তারা বলেছে তারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে। এছাড়া তারা বাংলাদেশি বিনিয়োগ স্বাগত জানায় বলে জানান মন্ত্রী।

মেমেন জানান, ভিসার মেয়াদের পরে বাংলাদেশি মুসলিমরা ভারতে অবস্থান করলে ২০০ শতাংশ জরিমানাসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে কনস্যুলার বৈঠক নভেম্বরে হবে।

Related Articles

Back to top button
Close