fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ঘাট পারাপারে সমস্যা

গোপাল সরকার, তুফানগঞ্জ: কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ মহকুমার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত চর বালাভুত। ভারতীয় ভূখণ্ডে দুইটি গ্রাম, বালাভুত ও ঝাউ কুঠি। মোট বাসিন্দা প্রায় ৬,০০০। তাঁরা ঘাট পারাপার করতে পারছেন না, কারণ এই দুই গ্রামের মধ্যবর্তীতে অবস্থিত কালজানি নদী। সীমান্ত পারের এই দুই গ্রামের রক্ষণাবেক্ষণ করেন সীমান্তরক্ষী বাহিনী এক বিশেষ দল। কিন্তু নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সবকিছুর জন্যই তাদের নির্ভর করতে হয় ভারতীয় ভূখণ্ড তুফানগঞ্জ এর উপর।

বিগত ৪৫ দিন থেকে ঘাট পারাপার বন্ধ।কারণ এই দুই গ্রামের বিপরীতে রয়েছে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলা, কাঁটাতার বিহীন এই ভূখণ্ড যখন-তখন পার হয়ে চলে যান গ্রামবাসীরা। বিশেষ করে চোরাকারবারি ও স্মাগলার দের মুক্তাঞ্চল। কিন্তু লকডাউন এর কারণে তারা পড়েছেন বিপদে। খাদ্যের হাহাকার উঠেছে গ্রামজুড়ে। ঘাট পারাপার বন্ধ থাকায় তুফানগঞ্জ থেকে সহযোগিতা নিয়ে যেতে পারছেন না তারা। তাই ঘাট চালুর দাবিতে একাধিকবার দফায় দফায় আন্দোলন করে যাচ্ছেন গ্রামবাসীদের একাংশ।

বালাভুত গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আইনুল মিয়া বলেন, এখনও পর্যন্ত রেশন পৌঁছয়নি গ্রামে। ঘাট পারাপার বন্ধ হওয়ার কারণে গ্রামবাসীরা প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র পর্যন্ত নিতে পারছেন না। বেশ কয়েকজন প্রসূতি মহিলা রয়েছেন, তারা ডাক্তার দেখাতে পারছেন না, ওষুধ সংগ্রহ করতে পারছেন না। ঘাটের থেকে গ্রামের দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার। প্রায় প্রতিদিন তারা পায়ে হেঁটে ৪ কিলোমিটার আসার পর ঘাট পারাপার না করতে পেরে পুনরায় ফিরে যাচ্ছেন। বেশিরভাগ মানুষের বাড়িতে খাবার নেই, বেশিরভাগ মানুষের বাড়িতে ছোট বাচ্চা রয়েছে, তাদের দুধ নেই। এমত অবস্থায় মানুষরা বিক্ষোভরত হয়ে পড়েছেন।

এই অবস্থা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক হবে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকার জন্য গ্রামবাসীরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারস্থ হচ্ছেন, গ্রামবাসীদের দাবি একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী পারেন তাদের এই সঙ্কটজনক মুহূর্তে সহযোগিতা করতে। সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে যে, কেন্দ্র-রাজ্য উভয় পক্ষ থেকেই অন্তর্বর্তী যাতায়াত বন্ধ করার নির্দেশ রয়েছে। তাই সীমান্ত সিল করা রয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close