fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

৩৪ বছর পর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনল কেন্দ্র

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  ৩৪ বছর পর বদল এল জাতীয় শিক্ষানীতিতে । প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা, শিক্ষাব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলা হল এই নয়া নীতিতে। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে কেন্দ্রের তরফে এই পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করা হয়। শিক্ষা ব্যবস্থায় এবার থেকে ৫+৩+৩+৪ পদ্ধতি চালু করা হবে। এর ফলে দেশে পড়াশুনার ধরনে বড়সড় বদল আসতে চলেছে । সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই এই নীতি প্রণয়ন করতে চায় কেন্দ্র । নয়া শিক্ষা নীতিতে স্কুল শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চশিক্ষাতেও বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে । ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান কে কস্তুরিরঙ্গনের নেতৃত্বে শিক্ষার সংস্কার সংক্রান্ত কমিটি গঠন করে কেন্দ্র। তাদের দেওয়া খসড়া রিপোর্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করলেন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল।

  • মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের নাম বদলে হল শিক্ষামন্ত্রক। স্বাধীনতার পর থেকে এই নামেই পরিচিত ছিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক। পরে ১৯৮৫ সালে বদল করা হয়।
  • নতুন শিক্ষানীতিতে সকলের জন্য শিক্ষার অধিকার। এর আওতায় আনা হয়েছে ৩ থেকে ১৮ বছরের পড়ুয়াদের।
  • নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে গুরুত্বহীন দশম বা দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় পড়ুয়াদের  মুখস্থ বিদ্যার বদলে হাতেকলমে শিক্ষায় জোর দেওয়া হবে ।
  • প্রতিবছরের বদলে তৃতীয়, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পরীক্ষা নেওয়ার সুপারিশ।
  • দশম শ্রেণির পর কলা বিভাগ, বিজ্ঞান বিভাগ বা বাণিজ্য বিভাগের তফাৎ উঠে যাচ্ছে।
  • পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়লেও, থাকতে পারে সংগীত । পদার্থবিদ্যা, রসায়ন নিয়ে পড়লেও, ফ্যাশন ডিজাইনিং পড়ার সুযোগ।
  • পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষা/আঞ্চলিক ভাষায় শিক্ষা বাধ্যতামূলক। কারোর উপর জোর করে কোনও ভাষা চাপিয়ে দেওয়া চলবে না।
  • অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষা/আঞ্চলিক ভাষায় শিক্ষায় ঐচ্ছিক।
  • দ্বাদশ শ্রণিতে বোর্ডের পরীক্ষায় ৮টি সেমিস্টারের প্রস্তাব।
  • ৫+৩+৩+৪ ভাগে ১৫ বছরের স্কুল স্তরে পড়াশোনা। এর মধ্যে তিন বছর প্রি স্কুল পড়াশোনার সুপারিশ।
  • উচ্চশিক্ষার তত্ত্বাবধানে একটিই নিয়ন্ত্রক সংস্থা, হায়ার এডুকেশন কাউন্সিল (HECI)। তবে তার আওতায় থাকবে না মেডিক্যাল ও আইনি শিক্ষা।
  • স্নাতক স্তরে অনার্স কোর্স ৪ বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে প্রতি বছরের শেষে পড়ুয়ারা পাবেন সার্টিফিকেট। কোর্স শুরুর ১২ মাসের মধ্যে পড়াশোনা ছেড়ে দিলে পড়ুয়া পাবেন ভোকেশনাল কোর্সের সার্টিফিকেট। দুবছর বা ২৪ মাস পর ছাড়লে ফিলবে ডিপ্লোমার সার্টিফিকেট। আর চার বছরের কোর্স করলে পাওয়া যাবে ডিগ্রি কোর্সের সার্টিফিকেট। ফলে চাকরির ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।
  • ১ অথবা ২ বছরে স্নাতকোত্তরের সুপারিশ।

আরও পড়ুন: কর্ণাটকের পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ গেল টিপু সুলতানের অধ্যায়

এছাড়া কলেজগুলিকেও ফিনান্সিয়ালি আরও কিছু সুবিধা দেওয়া হবে । গোটা দেশে যে ৪৫ হাজার কলেজ রয়েছে তাতে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ এনরোলমেন্টের লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে কেন্দ্র । কলেজগুলিকে গ্রেডের উপর ভিত্তি করে স্বশাসন দেওয়া হবে । ক্যাবিনেট ব্রিফিংয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর ও কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ মেনে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-কে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা । গত ৩৪ বছর ধরে দেশের এডুকেশন পলিসির কোনও সংস্করণ করা হয়নি । একবিংশ শতকের পড়ুয়াদের জন্য একান্ত উপযোগী এই নয়া শিক্ষানীতি ।’

নয়া শিক্ষানীতিতে আমেরিকার ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন-এর ধাঁচে গঠন করা হচ্ছে ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন। গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় অনুদানের জন্য এই ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। তবে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের এই সংস্থার পার্থক্য হচ্ছে বিজ্ঞানের সঙ্গে সমাজবিজ্ঞানও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। বর্তমানে উচ্চশিক্ষায় নিয়ন্ত্রক হিসেবে ইউজিসি, এআইসিটিই এবং ন্যাশনাল কনসার্ন ফর টিচার এডুকেশন- এই তিনটি সংস্থা রয়েছে। নয়া নীতিতে একটিই নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকবে। কলেজগুলির ক্ষেত্রে আরও স্বায়ত্ত্বশাসন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে নতুন নীতিতে। কলেজের গ্রেড অনুযায়ী স্বায়ত্ত্বশাসন দেওয়া হবে। ফিজ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা রয়েছে নয়া ব্যবস্থায়। পুরো ব্যবস্থাপনাই চলবে ‘অনলাইন সেল্ফ ডিসক্লোজার’ ভিত্তিক।

Related Articles

Back to top button
Close